কেবল মেরামতে ফিরল ইন্টারনেট সংযোগ, পুঁজিবাজারে স্বস্তি

সংযোগ ফিরে পেয়ে পুঁজিবাজার খোলার সময় ১০টা থেকেই লেনদেন করতে পেরেছে মতিঝিলের স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন ও আশপাশের ভবনের ব্রোকারেজ হাউসগুলো।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 07:04 AM
Updated : 31 Jan 2024, 07:04 AM

ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল দূর করতে ঢাকার মতিঝিলে যে কেবলগুলো কেটে ফেলা হয়েছিল; তা মেরামত করায় ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পেয়ে স্বস্তি নিয়ে লেনদেন শুরু করতে পেরেছে পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউসগুলো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর মতিঝিল থেকে টিকাটুলি যাওয়ার পথে দুই পাশে মাথার ওপর থাকা কেবল কাটতে অভিযানে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানির তার। সঙ্গে ডিশ সংযোগের কেবলও ছিল।

কেবল কাটা পড়ায় ওই এলাকার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাতে বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মীরা।  

বুধবার ভোর থেকেই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা কেবল মেরামত ও সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করেন।

ইন্টারনেট প্রোভাইডার লিঙ্ক-থ্রির কর্মী সজীব সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শীতের মধ্যে ভোরেই আসতে হইছে না খাইয়া। রাইতে অফিস কয় সকালে ডিউটি। রাত থাইকা সব গোছ-গাছ, মালামাল রেডি কইরা আনা লাগল। নিরিবিলি কাজ করতে পারায় সময় বেশি লাগব না সব ঠিক করতে।”

লাইন মেরামত হওয়ায় সকাল ১০টার আগেই বেশিরভাগ গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পেতে শুরু করেন। সংযোগ পেয়ে পুঁজিবাজার খোলার সময় ১০টা থেকেই লেনদেন করতে পেরেছে মতিঝিলের স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন ও আশপাশের ভবনের ব্রোকারেজ হাউসগুলো।

মধুমিতা সিনেমা হল ভবনের এএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুতফর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নেট লাইন কেটে ফেলেছিল তা আমি জানতামই না। সকালে শুনেছি। এরপর দেখলাম অপারেটররা কাজ করছেন। ৯টার দিকেই আমার লাইন ফিরে পাই।”

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সিকিউরিটিজ কোম্পানিগুলোর সংগঠন ডিবিএ’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লাইন পাওয়ায় এখন স্বস্তি পাচ্ছি। বড় টেনশনে ছিলাম। আশা করি এর একটি টেকসই সমাধান হবে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এমদাদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাথার উপরের পরিবর্তে মাটির নিচ দিয়ে লাইন টেনে নিতে পারার অনুমোদন আমাদের আছে। তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় আমরা তা করতে পারি।”

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইন্টারনেট কেবল মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেছে আইএসপিএবি।

অন্যান্য জায়গা, বিশেষ করে মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে লাইন টানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির অনুমোদনের প্রয়োজন।

সেই অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে জানিয়ে এমদাদুল হক বলেন, “টেকসই সমাধান আমরাও চাই। গতকাল লাইন কাটায় ভোর থেকে কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন- এটাও তো একটা বাড়তি খরচ। গ্রাহকদের সেবা দিতে আমাদের সকাল থেকেই শুরু করতে হয়। ইন্টারনেট সেবা এখন অফিস ও ব্যক্তিজীবনের অংশ। আমরা চাই নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে।’’

এমদাদুল হক জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেও এ সমস্যার কথা তারা বলেছেন। ধানমন্ডি এলাকায় শেষ হওয়া প্রকল্পের পরিদর্শন শেষে অন্যান্য এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে কেবল স্থাপনের অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ইন্টারনেট সংযোগ ফেরার পর বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রথম এক ঘণ্টায় লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘর পার করে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়ে হয় ৬,১৭৭ পয়েন্ট।

ডিএসইর পাশাপাশি অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অনেক সিকিউরিটিজ কোম্পানির অফিসও মতিঝিলে। শাখা অফিসের মাধ্যমে লেনদেন করলেও দিন শেষে তা নিস্পত্তি করতে হয় প্রধান কার্যালয়ের সার্ভারের মাধ্যমে।

ডিএসইর প্রধান কার্যালয় মতিঝিলের ডিএসই ভবন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর আরেক প্রান্ত নিকুঞ্জে। ডিএসই টাওয়ার নামে আরো বড়ো পরিসরে করা হয়েছে নিজস্ব ভবন।

মতিঝিলে থাকা অবস্থায় ডিএসইর লেনদেন সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছিল ব্রোকারেজ হাউসগুলোর। তখন ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা দেখা দিলেও লেনদেন ও দিন শেষে শেয়ার হাতবদলের তথ্য সরাসরি ডিএসইর সার্ভারে জমা হত।

ডিএসইর লেনদেন সার্ভার নিকুঞ্জে নিয়ে যাওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগই এখন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ভরসা।