১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদের ছুটি শেষে লোকসানি কোম্পানির সঙ্গে বস্ত্রের দাপট

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে লেনদেন কমে যাওয়া পুঁজিবাজারের একটি সাধারণ চিত্র; সেটি দেখা গেল আবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jul 2023, 03:37 PM

Updated : 17 Jul 2023, 03:30 PM

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর পুঁজিবাজার খুললেও ঈদের আমেজ কাটেনি। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কম থাকায় কমে গেছে লেনদেন। সূচকও একটি জায়গায় স্থির।

সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার বাজারের ‘রাজা’ ছিল বস্ত্র খাত। এক মাসের বেশি সময় ধরে লেনদেনের শীর্ষে থাকা বীমা খাতকে টেনে দ্বিতীয় অবস্থানে নামিয়েছে মাসের পর মাস তলানিতে থাকা খাতটি।

লেনদেনের মত দর বৃদ্ধির শীর্ষেও দেখা গেছে বস্ত্রের প্রাধান্য। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এমন ১০টি কোম্পানির চারটিই এ খাতের।

এর মধ্যে এমন কোম্পানিও ছিল যেটি মাসের পর মাস ফ্লোর প্রাইসে ক্রেতা খুঁজে পায়নি, অথচ একদিনেই দর বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। 

এদিন বাজারে ৮০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৬টির আর ১৬৯টি কোম্পানির দর ছিল আগের দিনের সমান।

বাজারের মূল্যসূচকে তেমন কোনো হেরফের দেখা যায়নি। আগের দিনের তুলনায় সূচক কমেছে ০.৭৯ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ৩৬৫টি কোম্পানির শেয়ার। তিনটির লেনদেন নানা কারণে স্থগিত। একটির হাতবদলের রেকর্ড নেই। বাকি ২৪টির লেনদেন হয়নি।

সব মিলিয়ে ৫১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ছিল ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

তবে ঈদের পর প্রথম দিন লেনদেন কমে যাওয়া পুঁজিবাজারের একটি সাধারণ চিত্র।

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গত ২৪ এপ্রিল লেনদেন ছিল ৬২৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

রোববার বাজারে লোকসানি কোম্পানির দাপটও দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এমন ১০টি কোম্পানির পাঁচটিই ছিল লোকসানি। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি জেড গ্রুপে নামিয়ে আনার পর টানা দুই দিন সার্কিট ব্রেকার পর্যন্ত দর নেমে গিয়েছিল। তৃতীয় দিনেই সেগুলো ঘুরে দাঁড়াল।

বীমাকে দুইয়ে নামিয়ে শীর্ষে বস্ত্র

ছুটিতে যাওয়ার আগের দিনও পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের চমক দেখা গিয়েছিল। তবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বীমা খাতই। দুই খাত সম্মিলিতভাবে বাড়ার পর সূচকেও উত্থান দেখা গিয়েছিল।

তবে ছুটি শেষে বস্ত্র উত্থান ধরে রাখলেও দর হারিয়েছে সাধারণ বীমা খাত। জীবন বীমায় ১৫টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে আটটির দর, কমেছে চারটির আর আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে একটি কোম্পানি। সব মিলিয়ে এই কোম্পানিগুলোর ৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ বীমার ৪২টি কোম্পানির মধ্যে ৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩২টির। ৪টি কোম্পানি আগের দিনের দরে এবং একটি কোম্পানির লেনদেন হয়নি।

এসব কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকার কিছু বেশি।

সব মিলিয়ে খাতটিতে হাতবদল হয়েছে ৯০ কোটি ১১ লাখ টাকা। ঈদের ছুটির আগের দিন লেনদেন ছিল ১১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১৯ শতাংশ।

এসব কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৩টির। তিনটির দর কমেছে আর ৩২টি কোম্পানি আগের দিনের দরে ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

ঈদের আগেই ফ্লোর প্রাইস ভেঙেছিল ঢাকা ডায়িংয়ের। এবার ভাঙল সোনারগাঁও টেক্সটাইল, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সাফকো স্পিনিং মিলস, জাহিন টেক্সের।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে যারা

এদিন মোট সাতটি কোম্পানির দর সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। এগুলো হল– আরএসআরএম স্টিলস, ঢাকা ডায়িং, শ্যামপুর সুগার, সাফকো স্পিনিং, ফু ওয়াং সিরামিকস, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলস।

এগুলোর দর ৯.৬৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের বাকি তিনটি কোম্পানি হল প্রাইম লাইফ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও জিলবাংলা সুগার মিলস।

এর মধ্যে সুহৃদের দর দিনের শুরুতে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। দিন শেষে বেড়েছে ৮.৩৩ শতাংশ। শুরুতে যারা কিনেছেন, তারা ১৮ শতাংশ মুনাফা পেয়ে গেছেন প্রথম দিনই। 

পতনের শীর্ষে যারা

কোম্পানি বন্ধ থাকার পরও তরতর করে দাম বেড়ে যাওয়া খুলনা পেপার মিলস ঈদের ছুটি শেষে ছিল দরপতনের শীর্ষে। কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৯.৮৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইয়াকিন পলিমার দর হারিয়েছে ৬.৯৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা আজিজ পাইপসের দর কমেছে ৫ শতাংশ।

ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ও ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর কমেছে ৪ শতাংশের বেশি।

অন্য তিন কোম্পানি অলিম্পিক অ্যাকসেসোরিজ, জিকিউ বলপেন ও নিটোল ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৩ শতাংশের বেশি।