মুনাফায় ধস: ইতিহাসের সর্বনিম্ন লভ্যাংশ দিচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো
গেল বছর ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে ৬৭ শতাংশ।
মুনাফায় ধস নামায় দেশের সবচেয়ে বড় তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবার শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে।
অর্থাৎ, শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৩ টাকা লভ্যাংশ পাবেন, যা কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে কম।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্য এই লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে নগদ ৩০০ শতাংশ, ২০২৩ সালে নগদ ১০০ শতাংশ, ২০২২ সালে নগদ ২০০ শতাংশ, ২০২১ সালে নগদ ২৭৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে নগদ ৬০০ শতাংশ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ারে লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।
এবারের ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হবে ৩০ এপ্রিল। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
গেল বছর ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের বছরে ৩২ টাকা ৪২ পয়সা ছিল। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ৬৭ শতাংশ।
কোম্পানি বলছে, আয় কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ ও ব্যবসার কিছু খাতে কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি দায়ী পাওয়া মুনাফা পড়ে যাওয়ার মূল কারণ।
তাছাড়া ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর ঢাকার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ও সিগারেট উৎপাদন সরঞ্জাম সাভারের কারখানায় স্থানান্তর করা হয়।
কারখানা বন্ধ থাকা, স্থানান্তর ও পুনর্গঠনের ব্যয় মিলিয়ে পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৭১৫ কোটি টাকা কম হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে সিগারেট উৎপাদনকারী এ কোম্পানি।
সরকার লিজ নবায়ন না করায় ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর ষাট বছরের পুরনো সদর দপ্তর ও কারখানার কার্যক্রম গুটিয়ে গতবছর ১ জুলাই থেকে আশুলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার আছে। আর শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের হাতে রয়েছে।
