২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে মন্দা কাটার ‘আভাস’

গত ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক বেড়েছে ১০ দিন। এই সময়ে ডিএসইএক্সে যোগ হয়েছে ৩০৩ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজারে মন্দা কাটার ‘আভাস’
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2024, 08:10 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:10 PM

হতাশার বৃত্তে থাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা সপ্তাহ তিনেকের প্রবণতায় কিছুটা হলেও আশা ফিরে পাচ্ছেন। নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই কর্মদিবস কেবল না, গত ১২ কর্মদিবসের মধ্যে ১০ দিনই সূচক বেড়েছে।

তলানিতে চলে আসা শেয়ার দর একটু একটু করে বাড়ছে, যদিও দুই বছর আগে বিনিয়োগ করে বহু কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণে লোকসানে আছেন বিনিয়োগকারীরা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিন সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল ব্যাংক হলিডের কারণে। পরের দিন প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ১১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় কর্মদিবস বুধবার আরও ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে।

লেনদেন শুরুর প্রথম ১৯ মিনিটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এরপর আবার কমতে থাকে; ফিরে আসে আগের দিনের অবস্থানে।

বেলা সাড়ে ১২ টার পর থেকে আবার উত্থান চলতে থাকে। সোয়া দুইটায় সূচকটি উঠে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ছিল ৪৫ পয়েন্ট বেশি। শেষ ৫ মিনিটের সমন্বয়ে সেখান থেকে কিছুটা কমে।

সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। সারা দিনে হাতবদল হয় ৫৩৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার, আগের দিন যা ছিল ৪৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এদিন আগের দিনের তুলনায় ১০০ কোটি টাকার শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে।

গত ২০ মের পর এটিই সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। মাঝে ১১ জুন সূচক ৫ হাজার ৭০ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। 

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই দর সংশোধনের বৃত্তে থাকা পুঁজিবাজার ২০২২ সালের শুরুর দিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু ওই বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, দেশে রিজার্ভে পতন, ডলার সংকটসহ নানা কিছুর প্রভাব পড়ে বাজারে। 

এর মধ্যে নতুন অর্থবছর থেকে পুঁজিবাজারে ৫০ লাখ টাকা মূলধনি মুনাফায় কর বসানোর প্রস্তাবের খবরে আবার দরপতন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে এই বিষয়টি ফিরিয়ে আনেন। 

তবে ১২ জুন থেকে পুঁজিবাজারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে, শেয়ারগুলো হারানো দর একটু একটু করে ফিরে পেতে থাকে। 

এরপর ১২ কর্মদিবসের মধ্যে কেবল ২৪ জুন ২৬ পয়েন্ট এবং ৩০ জুন ২৭ পয়েন্ট সূচক কমে। সব মিলিয়ে এই তিন সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ৩০৩ পয়েন্ট।

বাজারের প্রবণতায় ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘এখন তো পজিটিভ দেখা যাচ্ছে। মনে হয়, ভালোই যাবে। সবাই তো এখন বাজার দেখছে, একটু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মনে হচ্ছে।’’

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বাজার তো গত মাসে যা পড়েছে, আর কত পড়বে? এখন তো উত্থানের সময়। আশা করছি এটি অব্যাহত থাকবে।’’

সম্প্রতি বাজারে আসা একটি প্রতিষ্ঠানের আইপিওর শেয়ার বণ্টন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বাকি অর্থ পুঁজিবাজারেই নতুন করে বিনিয়োগ হবে মত দিয়ে তিনি বলেন, “নতুন বিনিয়োগ আসলে সূচক আরো আগাবে ধারণা করছি।’’

বুধবার লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪১ টির, কমেছে ৯৭টির আর আগের দরে হাতবদল হয়েছে ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের।

ডিএসইএক্সের মত বেড়েছে পুঁজিবাজারের অন্য দুই সূচকও। ‘সেরা’ ৩০টি কোম্পানিকে নিয়ে গঠন করা ডিএস ৩০ সূচকে যোগ হয়েছে ৮.৩০ পয়েন্ট আর শরিয়াভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে নিয়ে গঠিত শরিয়া সূচক বেড়েছে ৮.৮০ পয়েন্ট।

বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে ঔষধ ও রসায়ন খাতে। তালিকাভুক্ত ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। মোট লেনদেনের সাড়ে ১৭ শতাংশ ছিল এই খাতে। 

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ২১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির। মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশই ছিল এই খাতের।

প্রকৌশল খাতে হাতবদল হওয়া ৪১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩টির। দুটি আগের দিনের দরে এবং ৭টি কোম্পানি দর হারিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। মোট লেনদেনের ১০ শতাংশের বেশি ছিল এই খাতে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে

দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা বা সার্কিট ব্রেকার ১০ শতাংশ দর বেড়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন কোম্পানির। আগের দিন দর ছিল ৯৬ টাকা। সেখান থেকে ৯ টাকা ৬০ পয়সা দর বা ১০ শতাংশ বেড়ে শেয়ারদর স্থির হয়েছে ১০৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯.৭৭ শতাংশ দর বেড়েছে সিলকো ফার্মার। আগের দিন ১৭ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির এরচেয়ে বেশি দর বাড়া সম্ভব ছিল না।

কেডিএস অ্যাকসেসোরিজ, হামি ইন্ডাস্ট্রিজ, হোটেল পেনিনসুলা ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের দর ৮ শতাংশের বেশি, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি।

আরও ২টি কোম্পানির দর সাত শতাংশের বেশি, চারটির দর ৬ শতাংশের বেশি, ১০টির দর ৫ শতাংশের বেশি, ১৫টি দর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

পতনের শীর্ষে যারা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারে না। 

দরপতনের এই সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি দর হারিয়েছে ৯টি কোম্পানি, যার মধ্যে শীর্ষে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এটলাস। অন্য কোম্পানিগুলো হল লিনডে বাংলাদেশ, নিউলাইন ক্লথিং, খুলনা প্রিন্টিং এশিয়াটিক ল্যাবরেটোরিজ, অলটেক্স অ্যাপোলো ইস্পাত ও সাইফ পাওয়ারটেক।

সিদকার ইন্স্যুরেন্স, নিটোল ইন্স্যুরেন্সসহ আরও ১৫ কোম্পানির শেয়ারদর ২ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি কমেছে।