পুঁজিবাজারে বাজেটের প্রভাব বুঝতে ৩ মাস: ডিএসই

পুঁজিবাজারে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাব বুঝতে কমপক্ষে তিন মাস লাগবে বলে মনে করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভূঁইয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 June 2022, 01:32 PM
Updated : 13 June 2022, 02:03 PM

সোমবার ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই এর প্রধান কার্যালয়ে ডিএসইর প্রধান বলেন, “পুরো দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতির একটি অংশ পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে এ বাজেটের প্রভাব কী আসবে সেটা বুঝতে আরও কমপক্ষে ৩ মাস সময় লাগবে। এখনি কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর করা তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে৷

তবে ১০ শতাংশ বা এর কম শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তরকারী তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার সাড়ে ২২ শতাংশই থাকছে।

বাজেট ঘোষণার দিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডিএসই জানিয়েছিল তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২০ শতাংশ করার কারণে পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন হবে।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

দাবিগুলো হল

১. বন্ডবাজার সম্প্রসারণ করতে সব করপোরেট বন্ডের সুদ বিনিয়োগকারী নির্বিশেষে কর মুক্ত রাখা।

২. পুঁজিবাজারের টেকসই সম্প্রসারণের জন্য তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান নূন্যতম ১০ শতাংশ করা।

৩. তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা।

৪. এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ১০ শতাংশ করা।

৫. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অর্জিত লভ্যাংশের ওপর কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।

৬. স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেকহোল্ডারদের উৎসে কর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।

ডিএসই জানিয়েছে, বাজেট ঘোষণার আগেই এসব দাবি জানানো হয়েছিল, কিন্তু বাজেটে এর প্রতিফলন আসেনি।

দিনশেষে পুঁজিবাজার

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও সূচক কমেছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে।

বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণা দিনে সূচক বাড়লেও ঘোষণার পরের দুই কর্মদিবসে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে।

সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে।

ঢাকার বাজারে এদিন ৭৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। রোববার এ বাজারে ৬৩৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল।

ডিএসইতে মোট ৩৭৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার হাতবদল হয়। এর মধ্যে ৮৪টির দর বেড়েছে, ২৫৩টির কমেছে এবং ৪২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হয়েছে।

আর ডিএস৩০ সূচক ১৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট কমে হয়েছে ২ হাজার ৩১৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

আইপিডিসি, শাইনপুকুর সিরামিকস, এসিআই ফরমুলেশন, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জেএমআই হাসপাতাল, বেক্সিমকো লি., বিডি কম, সালভো কেমিক্যাল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ ও নাহী অ্যালুমিনিয়াম।

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০

মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু ফেব্রিকস, তসরীফা ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম টেক্স, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, আনলিমা ইয়ার্ন, সাফকো স্পিনিং, রহিম টেক্স, এইচআর টেক্স ও মেট্রো স্পিনিং।

দর হারানো শীর্ষ ১০

সাউথইস্ট ব্যংক, রূপালী ব্যাংক, মাইডাস ফাইন্যান্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, সোনালী লাইফ, বঙ্গজ লি., সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আরডি ফুড ও এশিয়া প্যাসেফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতন হয়েছে।

এ বাজারে ২৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টির দর বেড়েছে, ১৯০টির কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমায় প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১০১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১৮ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট।

এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেড়ে ৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা হয়েছে। রোববার লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার।

আরও খবর –

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক