শেয়ার হস্তান্তর, ডিএসইর মালিক এখন চীনা কনসোর্টিয়ামও

আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মালিকানায় যুক্ত হল শেনচেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়াম।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Sept 2018, 01:03 PM
Updated : 4 Sept 2018, 01:03 PM

চুক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার চীনা কনসোর্টিয়ামকে হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বলেন, “আমার শেনচেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে টাকা বুঝে পেয়েছি, টাকা আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং আমাদের ২৫ শতাংশ শেয়ার শেনচেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের বিও অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে।

“এর মাধ্যমে ডিএসই এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। এটি দেশের পুঁজিবাজার এবং অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।”

অংশীদার হওয়ার পর চীনা কনসোর্টিয়ামটির প্রতিনিধি হিসেবে শি ওয়েনহাই ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, এক বছর আলোচনা শেষে চীনা কনসোর্টিয়ামটি ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হয়েছে।

“৩ সেপ্টেম্বর চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে টাকা প্রাপ্তি ও ৪ সেপ্টেম্বর শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।”

গত ১৪ মে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ডিএসইর ‘ব্লকড অ্যাকাউন্টে’ থাকা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫ শতাংশ বা ৪৫,০৯,৪৪,১২৫টি শেয়ার প্রতিটি ২১ টাকা দরে কিনে নিতে চুক্তি স্বাক্ষর করে চীনা কনসোর্টিয়াম।

বিক্রিত শেয়ারের মূল্যবাবদ পাওয়া ৯৬২ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধের পর বাকী ৯৪৭ কোটি টাকা থেকে ডিএসইর প্রতিটি সদস্য ব্রোকারেজ হাউজ তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে পাওয়ার কথা।

ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে আবার সেখান থেকে সরকারকে ৫৭ লাখ টাকা করে গেইন ট্যাক্স দিতে হবে।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামকে নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্টের (নিটা) মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর অনুমতি দেয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের টাকা দেশে আনা এবং এ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বিদেশে পাঠাতে নিটা অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়।

ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের নতুন সদস্য শি ওয়েনহাই বলেন, “চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সহযোগিতা দেবে, যেন বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো ভাল ভূমিকা রাখতে পারে।”

চীনা কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা এবং জনশক্তির কথা বিবেচনা করে শেনচেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে।

কনসোর্টিয়াম প্রথমত, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে, একটি আইটিদক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলবে এবং তারপর ডিএসইর সার্ভাইলেন্স নিয়ে কাজ করবে। ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি নিয়েও কাজ করবে তারা।

ভালো অবকাঠামো নিশ্চিত করে চীন থেকে আরো বিনিয়োগ আনতেও কাজবে চীনা কনসোর্টিয়াম।