Published : 19 Nov 2025, 04:03 PM
একীভূত হতে চলা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার ‘শূন্য’ করে দেওয়ার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান এখন বলছেন, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা।
বুধবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের নিয়ে এক সংলাপে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘পাঁচ ব্যাংক ইস্যুতে আমরা সরকার, অর্থমন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়; তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ এর খসড়ার উপর অংশীজনদেন মতামত নিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, “পাঁচ ব্যাংকের আজকের অবস্থার জন্য সব রেগুলেটর (বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসইসি), নিরীক্ষকসহ সকলের ফল (ব্যর্থতা) ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু বিশেষ ক্ষমতা বলে আমানতকারীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে।”
দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক সংকটে জেরবার শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি ব্যাংক করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
মার্জার প্রক্রিয়া শুরুর অংশ হিসেবে গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বাদ দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর আলোকে এসব ব্যাংক বিলুপ্ত করে সব দায় সম্পদ নিয়ে হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’, যেখানে মূলধন যোগাবে সরকার।
মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিপরীতে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়া হয়েছে।
এখন আরজেএসসিতে (যৌধমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে ব্যাংকটির পরিচালক পর্ষদের পক্ষে নিযুক্ত চেয়ারম্যান চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করবেন।
বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলে পাঁচ ব্যাংককে ধীরে ধীরে আত্মীকরণ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
গত ৬ নভেম্বর পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার পরে গত সপ্তাহে সিডিবিএল বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার শূন্য করে দিয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই পাঁচ ব্যাংকে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ রয়েছে। শেয়ার শূন্য ঘোষণা করার আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনাও হয়।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা ভয়েস রেইজ করছি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায়। পাঁচ ব্যাংক নিয়ে যা হয়েছে তা অতীতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে না হয় এজন্য ডিএসই কাজ করছে।
“একটি বিশেষ অবস্থায় দেশ চলছে, তাই সরকার মার্জারে গেছে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
ডিএসইর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সহযোগী সংগঠন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘গত বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আমরাই পুঁজিবাজারের সংস্কারের জন্য বলেছিলাম। সংস্কার মানেই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে, মতামত নিয়ে করা উচিত।
“আজকের আলোচনায় যে মতামতগুলো এলে, তা বিএসইসি বিবেচনায় নেবে। চূড়ান্ত আলোচনা করতে পুনরায় আমাদের সঙ্গে বসে বিনিয়োগকারীবান্ধব আইপিও নীতিমালা করার অনুরোধ করছি।”
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আইপিওর (প্রাথমিক গণ প্রস্তাব) মাধ্যমে কোম্পানি বাজারে আনতে ডিএসইকে সঙ্গে নিয়ে করা। শুধু আর্থিক প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের কাছে উপস্থাপন করলেই হবে না, রেগুলেটরকে (নিয়ন্ত্রক সংস্থা) দেখতে হবে তা যথাযথভাবে হল কি না।”
বেসরিকারি বড় গ্রুপ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেন সাইফুল ইসলাম।