Published : 15 Jun 2026, 12:24 PM
কুরাসাওকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আনন্দ থাকলেও, এই জয়ে আত্মতুষ্টির কিছু দেখেন না জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। সামনে যে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে, দলকে সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। জার্মানদের এই জয়রথকে কোনোভাবেই থামতে দিতে চান না নাগেলসমান।
হিউস্টনে রোববার ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেয় জার্মানি। একপেশে লড়াইয়ে ৭-১ গোলের জয় তুলে নেয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ২০১৪ আসরের সেমি-ফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে সাত গোল করল জার্মানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় জার্মানি। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়েও যায় তারা। ২১তম মিনিটে জার্মানদের জালে বল পাঠিয়ে সবাইকে অবাক করে দেয় কুরাসাও।
সেটা যেন জার্মানির অহমে লাগে। প্রথমার্ধেই আরও দুই গোল করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কুরাসাওয়ের জালে আরও চারবার বল পাঠায় দলটি। এভাবে বিশ্বকাপ শুরু করে অন্য প্রতিপক্ষদেরও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল জার্মানরা।
সূচনা উড়ন্ত হলেও, মাটিতেই পা রাখছেন নাগেলসমান। তবে দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে একদমই ভোলেননি তিনি।
“এটা দারুণ শুরু ছিল, প্রথম ১৫ মিনিট আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছি। কুরাসাওয়ের সমতা টানা গোলটি অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা অসাধারণ ছিল।”
“জার্মানির অনেক মানুষের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেছে কুরাসাও। তারা আগের চেয়ে ভিন্ন কৌশলে এবং অনেক সাহস নিয়ে খেলেছে। সাত গোল করা সহজ নয়, তাই আমরা অনেক সন্তুষ্ট। আমরা সঠিক পথেই আছি। তবে কিছু দিকে আরও উন্নতির জায়গা আছে। টুর্নামেন্টে সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।”
প্রথমার্ধে যে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে দল, তাতে খুশি নাগেলসমান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে যে তীব্রতা দেখিয়েছে কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালারা, জার্সিতে পাঁচ নম্বর তারকা যোগ করতে সেটা ধরে রাখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন জার্মানির কোচ।
“এইদলকে (জার্মানি) নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি, আর অন্যটিকে (কুরাসাও) নিয়ে নেই, এমন পরিস্থিতি কঠিন। ১-১ সমতার সময় আমাদের ধৈর্য ধরতে হতো। দল সত্যিই শতভাগ উজাড় করে দিতে চায়। আমরা সঠিক তীব্রতা নিয়ে খেলেছি। এটা ধরে রাখতে পারলে ভালো একটি টুর্নামেন্ট কাটবে আমাদের।”
“এমন একচেটিয়া জয় এবং আত্মবিশ্বাস আমাদের সত্যিই প্রয়োজন ছিল। নিজেদের ওপর আস্থা তো ছিলই, তবে এখন তা আরও বেড়েছে। জার্মানির মানুষদের এটা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, আমরা পারফর্ম করতে পারি। ম্যাচ শেষে (জার্মান সমর্থকরা) ‘দা ট্রেন হ্যাজ নো ব্রেকস’ গানটি গাইছিলেন। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব- এই টুর্নামেন্ট কেবল সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।”
আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে কোত দি ভোয়ার মুখোমুখি হবে জার্মানি।