Published : 09 Jun 2026, 09:08 PM
বিশ্ব মঞ্চে প্রথমবার খেলার যোগ্যতা অর্জন করা কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাসের যেন কমতি নেই। উত্তর আমেরিকা আসরে বিস্ময় জাগাতে চায় তারা। দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার স্তোপিরার বিশ্বাস, তেমন কিছু করে দেখানোর সব ধরনের সামর্থ্য তাদের আছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় আসরে ‘এইচ’ গ্রুপে পড়েছে কেপ ভার্দ। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে পেয়েছে তারা। অন্য দলটি সৌদি আরব, গত বিশ্বকাপে যারা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল।
গ্রুপের অন্যদের তুলনায় নিজেদের অবস্থান কোথায়, ভালো করেই জানেন ৩৮ বছর বয়সী স্তোপিরা। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করা তাদের জন্য কতটা কঠিন হবে, সেটাও বুঝতে পারছেন তিনি। ‘আন্ডারডগ’ হলেও, বিশ্ব সেরা দলগুলোকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন এই সেন্টার-ব্যাক।
বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে স্রেফ এক ম্যাচে খেলার সুযোগ পান স্তোপিরা। শেষ ম্যাচে এসওয়াতিনির বিপক্ষে (যারা আগে সোয়াজিল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল) ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে স্রেফ চার মিনিট খেলেন তিনি। মাঠে নেমেই সেদিন একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে অবদান রাখেন এই ফুটবলার।
বাছাইয়ে নিজে খেলার তেমন সুযোগ না পেলেও, দল বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ায় আনন্দের শেষ নেই তার।
“বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আমার সবসময় স্বপ্ন ছিল। ছোটবেলায় ব্রাজিল, পর্তুগাল ও আফ্রিকার দলগুলোর ম্যাচ দেখতাম। তখন বসে বসে ভাবতাম, কেপ ভার্দে কোনোদিন এই মঞ্চে পৌঁছাতে পারবে কিনা।”
“সেই স্বপ্ন পূরণে অবদান রাখতে পেরে আমি ভীষণ খুশি এবং এই দলের অংশ হতে পেরে কৃতজ্ঞ…যারা এই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন এবং যারা কখনো সেই সুযোগ পাননি—সবার অবদান রয়েছে এর পেছনে। আজকের এই অবস্থানে আসতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এখন আমরা বিশেষ মুহূর্তটি উপভোগ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।”
আটলান্টায় আগামী সোমবার ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করবে কেপ ভার্দ। মায়ামিতে ২২ জুন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। আর হিউস্টনে আগামী ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব।
বিশ্ব মঞ্চে খেলার স্বাদ পেতে উন্মুখ হয়ে আছে কেপ ভার্দের সবাই। দারুণ কিছু করে অভিষেক আসরটি স্মরণীয় করে রাখতে আশাবাদী স্তোপিরা।
“আমাদের দলে দারুণ সম্ভাবনাময় ও মানসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছে। আমরা ভালো করতে পারি এবং টুর্নামেন্টে বড় চমক দেখাতে পারি। সেই সামর্থ্য আমাদের ভালোভাবেই আছে।”
“আমাদের যেমন দারুণ সব ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর ফুটবলার আছে, তেমনি দল হিসেবেও আমরা বেশ শক্তিশালী। আমি খুবই আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত। এটি আমাদের দেশ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। দারুণ উন্মাদনা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার অপেক্ষায় আছি।”