Published : 12 Jul 2026, 04:00 PM
শুরুতে গোল পাওয়া আর্জেন্টিনার যেখানে সুইজারল্যান্ডকে চেপে ধরার কথা ছিল, সেখানে ঘটল উল্টোটা। সুইসদের চাপে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার দশা রোমেরো-মার্তিনেসদের। স্বস্তির জয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন টিকে যাওয়ার পর, আর্জেন্টিনা কোচ ম্যাচ জুড়ে সামলানো ভোগান্তি নিয়ে বললেন- কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা তাদের ডিএনএতেই আছে।
ক্যানসাস সিটির লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তিন গোলদাতা আলেক্সিস মাক আলিস্তের, হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস। আলভারেস ও মার্তিনেস অতিরিক্ত সময়ে পান জালের দেখা।
কেবল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেই নয়, চলতি আসরে নকআউট পর্বে, কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে প্রতিকূলতার তীব্র স্রোত পাড়ি দিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ বত্রিশে, কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে তারা ৩-২ গোলে জিতেছিল বটে; তবে, ওই ম্যাচে দুইবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিল নবাগত দলটি। অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে হার মানে কেইপ ভার্ড।
শেষ ষোলোয় মরক্কো ম্যাচ ছিল আরও কঠিন। ৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো গোল করার আগ পর্যন্ত তো ছিল হারের প্রবল চোখ রাঙানি। ওই গোলের পরও আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে। পরে, লিওনেল মেসি ও এনসো ফের্নান্দেসের লক্ষ্যভেদে জয়ের ঠিকানা খুঁজে পায় স্কালোনির দল।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচে দ্রুত গোল পেলেও, ম্যাচের লাগাম মুঠোয় নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। বরং ৬৭তম মিনিটে ম্যাচে ফিরে সমতা। এর পাঁচ মিনিট পর বাগাইল এমবোলা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে, ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, কিন্তু মাটি কামড়ে লড়ে, ম্যাচ তারা টেনে নেয় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে নিষ্পত্তি করেন আলভারেস ও মার্তিনেস। আর্জেন্টিনা কোচ বললেন, এমনটা যে হবে, তা জানতেন আগে থেকেই।
“আমরা জানতাম, আমাদের ভুগতে হবে এবং এটাই মেনে নেওয়া আমাদের রক্তে আছে। এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের ডিএনএতে আছে। এই ক্ষমতাটুকু থাকা আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
“সুইজারল্যান্ড খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দুজনের লড়াইয়ে জেতা, এবং একসাথে পাঁচ-ছয়টির বেশি পাস খেলা আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। তারা খুবই শক্তিশালী ছিল এবং এক বনাম এক-পরিস্থিতিতে, মাঠের বিভিন্ন জায়গায় তারা আমাদের ভুগিয়েছিল।”
এই ভোগান্তি যে, সামনের পথচলায়ও সঙ্গী থাকবে, তাও যেন মনে করিয়ে দিলেন স্কালোনি। আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা জিতলে সাবলীল ফুটবলের চেয়ে অদম্য মানসিকতার দল হিসেবে স্মরণীয় থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোচ তুলে ধরলেন, ফুটবলীয় বাস্তবতা।
“যখন আপনি সেমি-ফাইনালে উঠবেন, কষ্ট সহ্য করেই উঠতে হয়। এর মধ্য দিয়েই যেতে হয় আপনাকে।”