Published : 11 Dec 2022, 04:53 AM
প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে গোল পেলেন না অলিভিয়ে জিরুদ। তাতে হতাশা পেয়ে বসা স্বাভাবিক, তা কাটাতে অবশ্য দুই মিনিটও লাগল না। হেডে এগিয়ে নিলেন ফ্রান্সকে। তার গোলটিই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ব্যবধান। নিজে গোল করে দলকে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে তুলতে পেরে উচ্ছ্বসিত অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার।
আল বাইত স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে দিদিয়ে দেশমের দল।
অহেলিয়া চুয়ামেনির দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের শুরুর দিকেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বিরতির পর পেনাল্টি গোলে সমতা টানেন হ্যারি কেইন।
৭৭তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন জিরুদ। ডান দিক থেকে উসমান দেম্বেলের ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে বাঁ পায়ে ভলি করেন এসি মিলান তারকা, তবে প্রস্তুত জর্ডান পিকফোর্ড কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন।
ওই কর্নারেই গোল পায় ফ্রান্স। বাঁ দিক থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের বাড়ানো ক্রসে সঙ্গে লেগে থাকা হ্যারি ম্যাগুইয়ারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে হেডে গোলটি করেন ৩৬ বছর বয়সী জিরুদ।
পরে আরেকটি পেনাল্টি পেয়ে কেইন উড়িয়ে মারলে ব্যবধান ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চারে ওঠার আনন্দে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা।
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে থিয়েরি অঁরির (৫১) পাশে বসেন জিরুদ। শেষ ষোলোয় পোল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করে ছাড়িয়ে যান পূর্বসূরিকে। এবার ৫৩তম গোলে রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি।
অঁরির রেকর্ড ছোঁয়া গোলের চেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলটিকেই এগিয়ে রাখছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা জিরুদ।
“আজ (শনিবার) রাতের এই ৫৩তম গোলটি (অঁরির রেকর্ড ছোঁয়া গোলের চেয়ে) আরও ভালো। গোলটির খানিক আগেই সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন আমার আরও জোরে শট নেওয়া উচিত ছিল। ভাবছিলাম, হয়তো আরেকটি সুযোগ পাব, এরপর যখন সুযোগ পেয়ে গোল করলাম, অবিশ্বাস্য অনুভূতি হচ্ছিল।”
“নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। গ্রিজমান আমাকে দারুণ ক্রস দিয়েছে, যা দলের জন্য খুবই ভালো কিছু বয়ে এনেছে, অসাধারণ।”
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের তালিকায় জিনেদিন জিদান ও মিশেল প্লাতিনির পাশে বসলেন জিরুদ। তিন জনেরই গোল ৫টি করে। তাদের ওপরে আছেন অঁরি (৬), কিলিয়ান এমবাপে (৯) ও জুস্ত ফঁতেইন (১৩)।