Published : 21 Feb 2024, 07:46 PM
২০২১ সালের পর ফের টার্ফে গড়াচ্ছে ক্লাব কাপ হকি। বেশ কয়েকটি দল থাকছে অনুপস্থিতিত, তাই মাত্র ছয়টি দল নিয়ে হচ্ছে এবারের আসর। তাতে জৌলুস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমছে বটে, কিন্তু আবাহনী, মোহামেডান, ঊষা, মেরিনার ইয়াংস কোচ-কর্মকর্তাদের শিরোপা জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য ঠিকই ছড়াচ্ছে উত্তাপ।
মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ক্লাব কাপ হকি। ‘এ’-গ্রুপে আছে শিরোপাধারী মেরিনার ইয়াংস, মোহামেডান ও বাংলাদেশ পুলিশ। ‘বি’ গ্রুপের তিন দল আবাহনী, ঊষা ক্রীড়া চক্র ও অ্যাজাক্স।
সবশেষ আসরে আবাহনীকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল মেরিনার ইয়াংস। প্রস্তুতির কমতি নিয়ে অতুষ্টি থাকলেও মুকুট ধরে রাখতে আশাবাদী দলটির কোচ মামুনুর রশীদ।
“গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি শুরু করেছি। আরও কিছুদিন সময় পেলে ট্যাকটিক্যাল ও গেম-প্ল্যানিং নিয়ে কাজ করতে পারতাম। আমাদের কাজটা কিন্তু এবার বেশ কঠিন। কারণ সর্বশেষ প্রতিযোগিতায় আমরা কাগজ-কলমে চার নম্বর দল ছিলাম। তাই কারোর ফোকাস ছিল না। এবার ক্লাব কাপ ও লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সকলের ফোকাস থাকবে আমাদের ওপর।”
গত আসরের রানার্সআপ আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে করছেন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যাশা।
“আমাদের দলটা তারুণ্য নির্ভর। ফিটনেস পুরোপুরি প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকলেও একেবারে মন্দ না। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ফিটনেস মোটামুটি একটা পর্যায়ে এসেছে। দুয়েকজনের ঘাটতি আছে। সেটা আমরা চেঞ্জিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
লম্বা সময় দূরে থাকার পর হকিতে ফিরেছে ঊষা। ২০১৪ সালে সবশেষ শিরোপা জিতেছিল তারা। ক্লাবটির ক্রীড়া সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কামাল জানালেন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে লড়াকু হকি খেলার লক্ষ্য।
“দলবদল শেষ হওয়ার পর ক্লাবগুলোকে অন্তত একমাস প্রস্তুতির সময় দেওয়া উচিত। আমরা সেটা পাইনি। এমনিতেই দেরিতে অনুশীলন শুরু করেছি আমরা। তারপরও দুই বেলায় ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় খেলোয়াড় সংগ্রহ প্রত্যাশিত ছিল না। বিদেশি দিয়ে রিকভারির চেষ্টা করছি।”
২০১৮ সালে সবশেষ এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। দলটির কোচ শহিদুল্লাহ টিটু জানালেন সব বাধা পেরিয়ে শিরোপার জন্যই ঝাঁপাবে সাদাকালো জার্সিধারীরা।
“সবগুলো দল খেললে প্রতিযোগিতার আকর্ষণ আরও বাড়ত। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশি হতো। আমরাও প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাইনি। আরেকটু বেশি সময় পেলে ভালো হতো। এখন কী আর করা। যতটুকু প্রস্তুতি নিতে পেরেছি, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।”
“মোহামেডান সবসময় দল গড়ে শিরোপা জয়ের জন্য। এবারও তার ব্যতীক্রম হবে না। দল নিয়ে আমি খুশি, অভিজ্ঞ, নবীন মিলিয়ে দল ভালো হয়েছে। জিমি-সারোয়ার আছে, ওরা নতুনদের নিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্যপূরণ করতে পারবে বলে বিশ্বাস আছে আমার।”