‘বিশ্বের সেরা দলকে’ আটকে রেখে খুশি আর্তেতা, তবে তার চাওয়া আরও বেশি কিছু

ম্যানচেস্টার সিটির মাঠ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরার সন্তুষ্টি থাকলেও দলকে আরও উন্নতির তাগিদ দিলেন আর্সেনাল কোচ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 06:49 AM
Updated : 1 April 2024, 06:49 AM

ড্র মানেই সবসময় সমতা নয়। বরং স্কোরলাইনে সমতা থাকলেও সেখানে অদৃশ্য জয়-পরাজয় থাকে, তৃপ্তি কিংবা হতাশা মিশে থাকে। ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ড্র করে যেমন দারুণ লাগছে মিকেল আর্তেতার। যে দলকে তিনি মনে করেন বিশ্বের সেরা, তাদের মাঠ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পেরে খুশি আর্সেনাল কোচ। অবশ্য শতভাগ খুশি তিনি নন, বরং উন্নতির সুযোগ দেখছেন আরও। 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোববার ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনাল। 

গত মৌসুমে সিটির মাঠে গিয়ে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আর্সেনাল। সেখান থেকে এবার সিটিকে কোনো গোল করতে না দেওয়া মানে বড় উন্নতি। ঘরের মাঠে টানা ৪৭ লিগ ম্যাচে গোল করার পর অবশেষে গোলবিহীন একটি ম্যাচ কাটল গুয়ার্দিওলার দলের। সবশেষ তারা নিজেদের মাঠে গোল করতে পারেনি ২০২১ সালে, ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে। 

এই ম্যাচে আর্সেনালের কৌশলটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে খেলার শুরু পরপরই। রক্ষণে জোর দিয়ে ড্র করাটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। পুরো সময় মনোযোগ ধরে রেখে সেই কাজটি সফলভাবেই করতে পারে তারা। ম্যাচ শেষে তাই দলকে স্তুতিতে ভাসালেন আর্তেতা। 

“জয়টাই আমাদের কাম্য ছিল, প্রস্তুতিও ছিল সেরকমই। তবে যদি জেতা না যায়, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যেন ড্র করা যায়। আমরা তা করতে পেরেছি। ১১ মাস আগে আমরা যখন এখানে এসেছিলাম, তখন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।” 

“দল হিসেবে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে হয় এবং উন্নতি করতে হয়। আজকে আমরা তা পেরেছি বলেই মনে হয়। আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিবেদন কতটা, তারা কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কেমন লড়াই করতে পারে, সব ফুঠে উঠেছে এই ম্যাচে। ফুটবল খেলতে নামা একরকম ব্যাপার, লড়াই করা ভিন্ন ব্যাপার। আজকে আমরা লড়াই করতে পেরেছি।” 

ম্যাচের ৭৩ শতাংশ সময় বল ছিল ম্যানচেস্টার সিটির পায়ে। কিন্তু সেই দাপট তারা ফুটিয়ে তুলতে পারেনি সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে। আর্সেনালের আঁটসাঁট রক্ষণভাগের কারণে গোটা ম্যাচে লক্ষ্যে কেবল একটি শট রাখতে পারে গুয়ার্দিওলার দল।

আর্তেতা বললেন, এমন কিছুর জন্যই দলকে কৌশলগতভাবে ও মানসিকভাবে তৈরি করেছিলেন তিনি। 

“ছেলেদেরকে আমি বলেছি, ‘টানা ৩০টি পাস অনুসরণ করে ছুটতে তৈরি আছো তোমরা? যদি তৈরি থাকো, তাহলে তোমরা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে খেলতে প্রস্তুত। যদি এটার জন্য তৈরি না থাকো, তাহলে ওদের সঙ্গে খেলতে পারবে না।’ ছেলেরা দেখিয়ে দিয়েছে, ওরা প্রস্তুত ছিল।” 

“প্রবল এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কঠিন লড়াই ছিল এটি। রক্ষণভাগ আমরা খুব ভালো সামলেছি। সত্যিই খুব ভালো করেছি এখানে আমরা… তিন বছর পর ওরা ঘরের মাঠে গোল করতে পারেনি।” 

রক্ষণে যতটা দুর্দান্ত ছিল আর্সেনাল, আক্রমণে ততটা নয়। মূলত গোল ঠেকানো তাদের লক্ষ্য থাকলেও আক্রমণেও দারুণ কিছু সুযোগ এসেছিল। বিশেষ করে, নিজের সাবেক দলের বিপক্ষে দারুণ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন গাব্রিয়েল জেসুস। 

এখানেই একটু আক্ষেপ আর্তেতার। ভুলগুলো শুধরে উন্নতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চান আর্সেনাল কোচ। 

“নেতিবাচক যা ছিল, তা হলো গোল করার দারুণ সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম, তা কাজে লাগাতে পারিনি। তাই পুরোপুরি খুশি হতে পারি না আমরা।” 

“আমরা যা করছি, তা ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে আমাদের। আজকে ড্র করেছি… কিন্তু আরও অনেক উন্নতির জায়গা আছে। আমার মতে, অনেকটা ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিশ্বের সেরা দল ওরা (সিটি)। আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ওদের চেয়েও ভালো হয়ে উঠতে।”