Published : 26 Aug 2023, 06:01 PM
একে একে এলেন ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি, বাফুফে কর্মকর্তা, যাদের হাত ধরে বাফুফে এলিট একাডেমির খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠা, স্বপ্ন দেখা, সেই কোচদের অনেকে। সব মিলিয়ে ভিন্ন এক আবহ। দেশের ফুটবলে যে খেলোয়াড় নিলামের ঘটনা এই প্রথম! সেখানে সর্বোচ্চ সোয়া ১৩ লাখ টাকায় বসুন্ধরা কিংসে গেলেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ আসিফ।
এলিট একাডেমির খেলোয়াড়দের প্রতি ক্লাবগুলোর ছিল তুমুল আগ্রহ। তাই ‘ব্যক্তিগত আলোচনা’ বন্ধ করে দিয়ে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নিলামের আয়োজন করে বাফুফে।
‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগারিতে মোট ১০ জন খেলোয়াড়কে নিলামে তোলা হয়। এতে অংশ নেয় ১১টি ক্লাব- বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী, পুলিশ এফসি, মোহামেডান, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, শেখ জামাল ক্রীড়া চক্র, ফর্টিস এফসি, চট্টগ্রাম আবাহনী, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে এবার প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব।
৫ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন-গোলরক্ষক মোহাম্মদ আসিফ, ডিফেন্ডার আজিজুল হক অনন্ত, মিডফিল্ডার সাজেদ হাসান জুম্মন নিঝুম, চন্দন রায়, ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলাম ও আসাদুল মোল্লা। ৪ লাখ টাকার ভিত্তিমূল্যের ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ৪ জন-ডিফেন্ডার সিরাজুল ইসলাম রানা, রুবেল শেখ, ইমরান খান ও ফরোয়ার্ড সুমন সরেন।
নিলামের আগ মুহূর্তে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক জানান, “দেশের বাইরে একজন ফুটবলারের খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে।” এই খেলোয়াড়টি মিরাজুল; তবে নিলামে দল পেয়েছেন তিনিও।
বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল নিলামের আয়োজনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও বেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে নিলাম করার আশাবাদ জানান। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অকপটে জানান শুরুতে অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি।
“দুই বছর আগে যখন এটা শুরু হয়েছিল, আমি কখনও বিশ্বাস করিনি এটা সত্যি হবে। আমরা মেয়েদের একটা একাডেমি করেছিলাম, তারা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দিয়েছে। যে মানুষগুলো এর (ছেলেদের একাডেমির) পেছনে ছিল…মানিক সাহসী হলো, তারা মনে করল এলিট একাডেমি করা সম্ভব…এই উপলক্ষ আমার জন্য গর্বের।”
প্রথম নিলামে ওঠে চন্দনের নাম। শেখ রাসেল সর্বোচ্চ ৯ লাখ টাকায় তাকে দলে ভেড়ায়। ১৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার রুবেলকে নিয়ে প্রথম দফার নিলামে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। পরে নিলামে তাকে ভিত্তিমূল্য ৪ লাখে দলে নেয় ব্রাদার্স।
১৭ বছর বয়সী আসাদুল্লাহকে নিয়ে আবাহনী ও ফর্টিসের মধ্যে জমে ওঠে লড়াই। শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ৭৫ টাকায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ১৪ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে দলে টানে আবাহনী। ডিফেন্ডার ইমরানকে ৪ লাখের ভিত্তি মূল্যে পেয়ে যায় ব্রাদার্স। ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নিঝুমকে ৭ লাখ ২৫ টাকায় দলে টানে ফর্টিস।
এরপরই ১৮ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক আজিজুলের নিলাম শুরু হয়। শুরুতে ৫ লাখে ব্রাদার্স তাকে পেয়ে যায়। কিন্তু নিলাম পরিচালনাকারী চূড়ান্ত সংকেত দেওয়ার পর মোহামেডান দাবি করে তারাও দাম হাকিয়েছিল। এই ইস্যুতেই গরম হয়ে ওঠে নিলাম। ‘চলে যাওয়ার’ কথা বলেন মোহামেডানের কর্মকর্তারা। আলোচনার পর ব্রাদার্সের সম্মতিতে আজিজুলের বিড ‘স্থগিত’ করা হয়।
পরে নিলামে আজিজুলকে নিয়ে ব্রাদার্স ও মোহামেডানের মধ্যে জমে ওঠে ‘লড়াই।’ ১০ লাখে তাকে দলে টানে ব্রাদার্স। গোপীবাগের দলটি পরে ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সুমন সরেনকে ৪ লাখেই কিনে নেয়।
১৭ বছর বয়সী গোলকিপার আসিফকে পেতে আগ্রহ দেখায় অনেক দল। সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ২৫ হাজারে তাকে দলে ভেড়ায় বসুন্ধরা কিংস।
সিরাজুলকে ভিত্তি মূল্য ৪ লাখেই পেয়ে যায় ব্রাদার্স। গত মৌসুমে মোহামেডান স্পোর্টিংয়ে খেলা মিরাজুলকে নিয়ে এবার খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি ক্লাবগুলো। এর কারণ অবশ্য তার দেশের বাইরের কোনো দলে খেলতে যাওয়ার গুঞ্জন। নিলামেও উল্লেখ করা হয়, বিদেশে সুযোগ পেলে ছাড়তে হবে মিরাজুলকে। শেষ পর্যন্ত তাকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দলে নেয় ব্রাদার্স।
সব মিলিয়ে নিলামে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় দলে টেনেছে ব্রাদার্স; ৬ জন। বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী, ফর্টিস ও শেখ রাসেল একজন করে খেলোয়াড় কিনেছে।