০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্দান্ত গোল করে ও করিয়ে মায়ামিকে চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিলেন মেসি

হেড থেকে অ্যাস্টিস্ট করার পর ম্যাচের শেষ দিকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিলেন লিওনেল মেসি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 10:31 AM

Updated : 02 Nov 2026, 10:31 AM

আগের দুই ম্যাচে গোল নেই। এই ম্যাচেও ৮২ মিনিট পর্যন্ত জালের দেখা পেলেন না লিওনেল মেসি। দলও ডুবে ছিল হতাশায়। সেই আঁধারে যথারীতি আলোর জোয়ার বয়ে আনলেন সেই মেসিই। নান্দনিক এক গোল করে গড়ে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য। দারুণ এক জয়ে ২০২৭ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে খেলা নিশ্চিত করল ইন্টার মায়ামি।

মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে থাকার মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলুশনকে ২-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি।

মায়ামির দুটি গোলই আসে মেসির ছোঁয়া। পিছিয়ে পড়ার পর অধিনায়কের হেড থেকেই বল পেয়ে হেডে গোল করেই দলকে সমতায় ফেরান হার্মান বের্তেরামে।

গোলের তালিকায় আগে থেকেই শীর্ষে থাকা মেসির গোল হলো এখন ২৬টি। অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি দুইয়ে আছেন ১৬টি নিয়ে। টানা তৃতীয়বার লিগের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ পুরস্কার জেতাটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার আর্জেন্টাইন জাদুকরের জন্য।

মেসির গোল না পাওয়া আগের দুই ম্যাচে জিততে পারেনি মায়ামি। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দুইয়ে। ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে নিউ ইংল্যান্ড। নিয়মিত মৌসুমে ম্যাচ বাকি আছে আর একটি। নিয়মিত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্লেঅফেও। জয়টি তাই জরুরি ছিল মেসিদের জন্য।

নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধে দাপট ছিল তাদেরই। গোলে ছয়টি শট নেয় তারা, কর্নার পায় পাঁচটি। তবে গোলশূন্য রেখে প্রথমার্ধ শেষ করতে পারে মায়ামি।

৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজডাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ৬৪তম মিনিটে গোল শোধের খুব কাছে যায় মায়ামি। বক্সের ভেতর দুজনকে কাটিয়ে বাঁপায়ের জোরাল শট নেন মেসি। নিউ ইংল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাট টার্নার দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে ফেরালেও কাছেই ছিলেন বের্তেরামে। তার শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নিউ ইংল্যান্ডের ব্রুকলিন রেইন্স।

সেই বের্তেরামেই দলকে সমতায় ফেরান চার মিনিট পর। বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার চিপ করেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। গোলমুখে হেড করে বল ঠিক পেছনেই থাকা বের্তেরামের দিকে পাঠান মেসি। আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত মেক্সিকান ফরোয়ার্ড অনেকটা লাফিয়ে হেডে বল পাঠান জালে।

৮০তম মিনিটে বের্তেরামের আরেকটি দারুণ হেড একটুর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। মিনিট তিনেক পরেই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়া সেই গোল, যেটির কারিগর মেসি নিজেই।

প্রায় ৩০ গজ দূরে যখন তিনি বল পেলেন, তাকে ঘিরে আছেন তখন প্রতিপক্ষের তিনজন। তাদের মধ্য থেকেই চেনা জাদুর ছোঁয়ায় ড্রিবল করে বল নিয়ে বেরিয়ে এগিয়ে যান তিনি। বক্সের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সেগোভিয়া। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে দারুণ বু্দ্ধিমত্তায় আড়াল করে বলে আলতো স্পর্শে মেসিকে পথ তৈরি করে দেন তিনি। মায়ামি অধিনায়ক চকিতে বক্সে ঢুকে দুজনের মধ্য থেকে গড়ানো শটে পরাস্ত করেন গোলকিপারকে।

নিউ ইংল্যান্ড অবশ্য ম্যাচে সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল। ৮৭তম মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেডে নিজেদের জালেই ঢুকিয়ে দেন মায়ামির ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রে। তবে মাঠের পাশে মনিটর দেখে অফসাইড দেন রেফারি। রক্ষা পায় মায়ামি।

এই ম্যাচ না জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স কাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো মেসিদের।