গোল করার পর ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া ‘সহজ’
আলাভেসের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করা লামিন ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বিরতির সময়ই আলাদা করে কথা বলে রাখেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক।
চোট-টোট ছাড়া মাঠ থেকে উঠে যেতে সাধারণত পছন্দ করেন না কোনো ফুটবলারই। বড় তারকা হলে তো কথাই নেই। তাদেরকে তুলে নিতে কোচদেরও ভাবতে হয় বিশেষভাবে। লামিন ইয়ামালও ব্যতিক্রম নন এখানে। তবে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক বললেন, গোল করার পর ১৯ বছর বয়সী এই তারকাকে তুলে নেওয়া তুলনামূলক সহজ।
আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচটির ৭৩তম মিনিটে তুলে নেওয়া ইয়ামালকে। ততক্ষণে দুটি গোল করে ফেলেছেন এই উইঙ্গার। লা লিগার ম্যাচটিতে শনিবার শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলে জেতে বার্সেলোনা।
ইয়ামাল ছাড়াও দুটি গোল করেন হাফিনিয়া, একটি করে গোল করেন ফের্মিন লোপেস ও অ্যান্থনি গর্ডন।
ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। এই মৌসুমে বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে খেলা ১৮টি ম্যাচের সবকটিতেই তিনি ছিলেন প্রথম একাদশে। এই ম্যাচের আগে মাত্র তিনটি ম্যাচে তাকে ৯০ মিনিটের আগে তুলে নেওয়া হয়।
পুরো সময় মাঠে থাকতে মরিয়াই থাকেন ইয়ামাল। তবে ম্যাচের পর কোচ বললেন, এই ম্যাচে তাকে বদল করা নিয়ে বিরতির সময়ই কথা বলেছেন তিনি।
“কেউ যখন দুটি গোল করে, তখন মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা সহজ হয়।
“বিরতির সময় তার সঙ্গে আমি কথা বলেছি (কতক্ষণ খেলানো হবে, তা নিয়ে)। আমাদের জন্য এটা ভালো ব্যাপার যে, সে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি সময় ও মিনিট পেয়েছে, কিন্তু এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, সে কিছু সময় কম খেলবে ও বিশ্রাম নেবে।”
এই ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি ও লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরেছিল বার্সেলোনা। জয়ে ফিরতে পেরে ও দলের বড় তারকারা জ্বলে ওঠায় কোচ দারুণ খুশি।
“লামিনের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ ছিল, তবে ফের্মিন, হাফিনিয়ার মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মান দেখতে পাওয়াটাও ভালো লেগেছে। দুটি হারের পর এমন কিছুই দেখতে চেয়েছিলাম আমি। আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা দারুণ ও উপযুক্ত ছিল।”
বেশ কয়েকজনের চোটের কারণে এ দিন অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে রক্ষণভাগ সাজান ফ্লিক। মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং খেলেন সেন্টার-ব্যাকে, তরুণ মিডফিল্ডার ব্রায়ান ফারিনিয়াম মূল দলে অভিষেকে খেলেন রাইট-ব্যাক হিসেবে।
“এই মুহূর্তে আমাদের ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। শাভি এস্পার্ত, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, জুল কুন্দে এবং এরিক গার্সিয়া—এই চারজন ডিফেন্ডার দলের বাইরে আছেন। আশা করি, তাদের কেউ কেউ ফিরে আসবে। কিন্তু আমরা এখনও জানি না, কখন ফিরবে। তাই ফ্রেংকিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে ওখানে খেলতে পারবে কি না। সে বলল, ‘হ্যাঁ, দলকে যেভাবে সহায়তা করতে পারি, করব।
“ব্রায়ানের ক্ষেত্রেও একই কথা। জানি না সে কখনও রাইট ব্যাকে খেলেছে কি না, হয়তো লা মাসিয়াতে খেলেছে, কিন্তু সেও বেশ ভালো খেলেছে। আমি তার জন্য খুশি। এই খেলার সুযোগ, এই ম্যাচটা তার প্রাপ্য ছিল। সে মনোযোগী, অনুশীলনে সেরা এবং খুবই পেশাদার।”
ইয়ামালের একাডেমি ও যুব দলে একসঙ্গে খেলেছিলেন ফারিনিয়াস। মূল দলে অভিষেকেও ২০ বছর বয়সী ফুটবলারকে ইয়ামালের সঙ্গে একই ফ্ল্যাঙ্কে খেলতে বিশেষভাবে স্বচ্ছন্দ মনে হয়েছে। সেটা নজর কেড়েছে কোচেরও।
“দেখতেই পাচ্ছেন, লামিনের সঙ্গে তার বোঝাপড়াটা দারুণ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পজিশনে খেলে সে আজ আমাদের অনেক কাজে লেগেছে।”
ফ্লিকের জন্যও ওই জয় ছিল বিশেষ কিছু। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া কোচ বার্সেলোনার হয়ে ১০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে করলেন। নিজের অর্জনে তিনি উচ্ছ্বসিত।
“এটা নিয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি। ১০০টি জয়, দারুণ ব্যাপার। যখন শুরু করেছিলাম, তখন আশা করেছিলাম যে বার্সার হয়ে ১০০টি থাকতে পারব। এখন ১০০টি জয় পাওয়া অসাধারণ অর্জন।”
