২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

স্বপ্নের পথচলায় কলম্বিয়াকে হারিয়ে নকআউটে মরক্কোর মেয়েরা

গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল নারী বিশ্বকাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

স্বপ্নের পথচলায় কলম্বিয়াকে হারিয়ে নকআউটে মরক্কোর মেয়েরা

ইতিহাস গড়ার পর মরক্কোর খেলোয়াড়দের উল্লাস।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2023, 06:33 PM

Updated : 03 Aug 2023, 07:40 PM

পার্থের সবুজ আঙিনায় যেন বিস্ময়ের সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। শক্তিশালী কলম্বিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল মরক্কোর মেয়েরা। কোচ-খেলোয়াড়রা মেতে উঠল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। পরক্ষণেই আবার থমকে গেল সবাই, সবার হাস্যোজ্জ্বল মুখে তখন কিছুটা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচল। ডাগআউটের পাশে সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ রাখল মোবাইল স্ক্রিনে, মনে মনে চলল প্রার্থনা। অন্য ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই ফেটে পড়ল যেন বিশ্ব জয়ের আনন্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পা রেখেই যে শেষ ষোলোয় ওঠার ইতিহাসের জন্ম দিল দলটি।  

অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়- বিশ্বকাপ অভিষেকেই মরক্কোর মেয়েরা যে বিস্ময়ের জন্ম দিল, তার বর্ণনায় সঠিক বিশেষণ খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। জায়ান্ট জার্মানির বিপক্ষে ৬-০ গোলে ভেসে যাওয়ার পর অসাধারণ ভঙ্গিমায় ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয় তারা।

এবার সেই স্বপ্নের যাত্রাকেই যেন পূর্ণতা দিল দলটি। অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে চলতি নারী বিশ্বকাপে বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় দলটি। তাদের অধিনায়ক গিজলেন শেবাকের স্পট কিক কলম্বিয়া গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেওয়ার পর বল কাছ থেকে জালে পাঠান মিডফিল্ডার আনিসা লামারি।

আর একই সময়ে শুরু অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জার্মানি জিততে না পারায় নিশ্চিত হয়ে যায় মরক্কোর শেষ ষোলোর টিকেট।

টুর্নামেন্টের শুরুতে কেইবা ভাবতে পেরেছিল, এমন কিছুও হতে পারে!

একেতো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেছে মরক্কো। তারওপর ‘এইচ’ গ্রুপের বাকি তিন দলই তাদের চেয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢের এগিয়ে। ২০০৩ ও ২০০৭ আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান দুইয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া ১৭ আর কলম্বিয়া ২৫।

এ তো গেল র‍্যাঙ্কিংয়ের চিত্র, পাশাপাশি শক্তি-সামর্থ্য আর ফুটবল ঐতিহ্যেও অনেক পিছিয়ে মরক্কো। সঙ্গে যোগ হয় প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে ভরাডুবি হওয়ার অভিজ্ঞতা, তাতে আত্মবিশ্বাস নেমে যাওয়ার কথা তলানিতে।

কিন্তু জেরাইদি-শেবাকরা যেন অন্য ধাতুতে গড়া। পরের ম্যাচেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তার প্রমাণ দেয় তারা। তাদের সেদিনের ওই সাফল্যের গল্পে অনেকের মনেই ঘুরেফিরে আসতে শুরু করে গত বছরের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমি, ইউসেফ এন নেসিরি, হাকিম জিয়াশদের ইতিহাস গড়ার কথা। গ্রুপ পর্বে প্রথমে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র করে এবং পরের দুই ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়াম ও কানাডাকে হারিয়ে পরের ধাপে উঠে যায় তারা।

প্রথম আরব দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ওঠার কীর্তি গড়ে তারা। কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গিয়ে মেয়েদের ফুটবলে এবার সেই একই কীর্তি গড়ল লামারিরা।

শেষ ষোলোয় স্পেন ও কোয়ার্টার-ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে হাকিমি-জিয়াশরা শেষ পর্যন্ত উঠে যায় কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে। শেষ চারে ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে তাদের অবিশ্বাস্য যাত্রা থামলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয় দলটি।

দেশটির মেয়েরাও তেমনই নতুন নতুন চমক দেখিয়ে, বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্বপ্নীল এই যাত্রায় তারা কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের সেরা ফ্রান্সের।

মরক্কোর বিপক্ষে হারের পরও গ্রুপ সেরা হয়েই পরের ধাপে উঠেছে কলম্বিয়া।

দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হয়ে ছিটকে গেছে জার্মানি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল দলটি।