ম্যানচেস্টার সিটির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত: লা লিগা সভাপতি
বছরের পর বছর ধরে এই ক্লাবের আইন ভাঙার ঘটনা ইউরোপের অন্য লিগগুলোর ওপরও বাজে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন হাভিয়ের তেবাস।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শতাধিক আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা মেলার খবর আসার পর থেকে সমালোচনা বেড়েই চলেছে। চারিদিক থেকে উঠছে কঠোর শাস্তির দাবি। এবার লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস যেমন বললেন, আইনের মধ্যে থেকে ইংলিশ ক্লাবটিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ওইসব অভিযোগ অনেক পুরনো। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মূল অভিযোগ হলো, ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিষয়ে আইন লঙ্ঘন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রতিবারই স্পন্সর থেকে আয়সহ মোট বার্ষিক আয় এবং ক্লাব পরিচালনা ব্যয় সংক্রান্ত সঠিক আর্থিক হিসাবের তথ্য দেয়নি ক্লাবটি।
ক্লাবটি শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও, গত শুক্রবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, তাদের বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টির ক্ষেত্রেই সত্যতা মিলেছে।
পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে প্রিমিয়ার লিগ এবং তাদের নিযুক্ত তিন বিচারক নিয়ে গঠিত স্বাধীন কমিশনে এর শুনানি হয়। তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
তাতে অবশ্য সমালোচনার ঢেউ থামছে না। বরং ক্রমেই বাড়ছে। ওই সময়ে তাদের জেতা লিগ ট্রফিগুলো কেড়ে নেওয়ার দাবিও তুলছেন অনেকে। কারো দাবি, বড় অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা দ্বিতীয় বিভাগে নামিয়ে দেওয়া।
স্পেনের শীর্ষ লিগের প্রধান তেবাস এর আগেও সিটির বিরুদ্ধে তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেই কথা তিনি মনে করিয়ে দিলেন।
“অনেক বছর ধরে আমি ম্যানচেস্টার সিটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ২০১৭ সালে সকারেক্সে আমি এমনটা বলেছিলাম। আমি তখন যা বলেছিলাম; তার কিছুই প্রিমিয়ার লিগ কিংবা সিটি পছন্দ করেনি।”
লন্ডনে সারা বিশ্বের ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো আয়োজিত পিক পারফরম্যান্স অ্যান্ড হেলথ সামিটে সাংবাদিকদের সামনে তেবাস আরও বলেন, সিটির এই কাণ্ড ইংলিশ ফুটবলের বাইরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এখান এটা পরিষ্কার যে, ২০০৯ সাল থেকে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছিল। সব প্রতিযোগিতায় আমরা ফুটবলকে টেকসই ও স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করে আসছি। অনেক ক্লাব যেমন বলে, তারা এমন সব শিরোপা হারিয়েছে, যা অন্য ক্লাবের কাছে হারানো উচিত হয়নি। যা হয়েছে তা খুবই গুরুতর, এবং আশা করি, এখান থেকে আমরা নতুন এক মোড় নিতে পারব, আর সেটা কেবল প্রিমিয়ার লিগেই নয়।
“ম্যানচেস্টার সিটির ঘটনায় ইউরোপের অন্যান্য প্রতিযোগিতায়ও প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে। এখানে এমন এক শাস্তি দেওয়া উচিত, যা উদাহরণ তৈরি করবে।”
যেভাবে টানা ও দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মানা হয়নি, সে কারণেও সিটির শাস্তি হওয়া উচিত অনেক বড়।
“১০ বছরের বেশি সময় ধরে আইন ভাঙা হয়েছে… যা খুবই গুরুতর ব্যাপার। এ কারণেই কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, আর সেটা কেবল উদাহরণ তৈরি করতে নয়, আইন লঙ্ঘনের দায়ে।”
