১১৪টি অভিযোগে দোষী, তবু ক্লাবকে নির্দোষ প্রমাণে আত্মবিশ্বাসী সিটির চেয়ারম্যান
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠিতে তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন খালদুন আল মুবারাক।
দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলায় প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারাক বলেছেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার ব্যাপারে এখনও তারা আত্মবিশ্বাসী।
অভিযোগগুলোতে সিটির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসে শুক্রবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠিতে আল মুবারাক বলেন, এই আইনি প্রক্রিয়া এখনও অনেক দূর বাকি এবং নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার বিষয়ে ক্লাবের আত্মবিশ্বাস ‘শুরুর সময়ের মতোই অটুট রয়েছে।
“শুক্রবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আপনাদের অনেকেই হয়তো বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও সহকর্মীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং বার্তার জবাব দিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। আমিও ঠিক তাই করেছি।
“আমার পরিবারকে আমি যা বলেছি, তা হলো: প্রিমিয়ার লিগের এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে। আর ক্লাবকে নির্দোষ প্রমাণের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সংকল্প ঠিক ততটাই অটুট রয়েছে, যতটা প্রক্রিয়াটি শুরুর সময় ছিল।”
আল মুবারাক বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার কঠোর গোপনীয়তার কারণে এই মামলা নিয়ে তিনি খুব বেশি কিছু বলতে পারছেন না।
“এমনকি এই চিঠিটিও নিয়মকানুন মেনে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকবার আইনি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।”
বিবিসি জানতে পেরেছে যে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে সিটি।
ক্লাবটির ওপর কী ধরনের শাস্তি আরোপ করা হবে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে পয়েন্ট কেটে নেওয়া, প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার কিংবা বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
২০০৮ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর সিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আল মুবারাক এটাও বলেছেন যে, তার ক্লাবকে ‘দুর্বল করার’ চেষ্টা চলছে। সমর্থকদের ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
“যদিও অনেকে তাড়াহুড়ো করে নিজস্ব সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন এবং আমাদের ঘিরে নানা রকম গুঞ্জন চলছে, তবুও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
“আমরা আগেও সম্মিলিতভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছি এবং সফল হয়েছি। এখনও অনেকেই আমাদের ক্লাবের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। তাদের সেই সুযোগ দেব না আমরা।”
সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওইসব আইন লঙ্ঘন করেছে তারা। ক্লাবটি অবশ্য শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে প্রিমিয়ার লিগ।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রতিবারই স্পন্সর থেকে আয়সহ মোট বার্ষিক আয় এবং ক্লাব পরিচালনা ব্যয় সংক্রান্ত সঠিক আর্থিক হিসাবের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় সিটি।
২০০৮ সালে আবু ধাবির ইউনাইটেড গ্রুপ ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নেওয়ার পর, দ্রুতই সাফল্যের পথে চলা শুরু করে ক্লাবটি। সেই থেকে ক্লাবটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি এফএ কাপ ও সাতটি লিগ কাপ জিতেছে।
চলতি মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ ম্যাচের সবগুলো জিতে টেবিলের শীর্ষে আছে সিটি।
