১১৫টি অভিযোগের প্রায় সবগুলোয় অভিযুক্ত ম্যানচেস্টার সিটি, খবর গণমাধ্যমের
আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও অবশ্য এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি, তবে ক্লাবটি আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের যে ১১৫টি অভিযোগ উঠেছিল, কয়েক বছরের তদন্তে একটি বাদেই সবগুলোই সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর।
বিবিসি, দা অ্যাথলেটিক ও দা টাইমসের মতো গণমাধ্যমগুলো তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার খবরটি দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে এটাও জানানো হয়েছে যে, আপিল করবে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি।
প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এক মুখপাত্র বলেছেন, “এটা গোপন একটা প্রক্রিয়া, আমরা কোনো মন্তব্য করব না।”
সিটির প্রতিক্রিয়া জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও, ক্লাবটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে তারা বলেছে, এইসব অভিযোগে তদন্ত ‘এখনও চলমান।‘
সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওইসব আইন লঙ্ঘন করেছে। ক্লাবটি অবশ্য শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে প্রিমিয়ার লিগ।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রতিবারই স্পন্সর থেকে আয়সহ মোট বার্ষিক আয় এবং ক্লাব পরিচালনা ব্যয় সংক্রান্ত সঠিক আর্থিক হিসাবের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় সিটি।
তদন্তের পর শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এবং প্রায় তিন মাস পর তা শেষ হয় ৬ ডিসেম্বর। প্রিমিয়ার লিগের বিচারিক প্যানেলের নিযুক্ত তিন বিচারক নিয়ে গঠিত স্বাধীন কমিশনে এর শুনানি হয়।
এর আগে ২০১২ থেকে ১৬ সালের সময়কালে, স্পন্সর থেকে আয় বেশি করে দেখানোর অপরাধে সিটিকে দুই বছরের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিষিদ্ধ করে উয়েফা। পরে অবশ্য তারা ক্রীড়ার সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে সেই শাস্তি এড়াতে পারে।
২০০৮ সালে আবু ধাবির ইউনাইটেড গ্রুপ ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নেওয়ার পর, দ্রুতই সাফল্যের পথে চলা শুরু করে ক্লাবটি। সেই থেকে ক্লাবটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি এফএ কাপ ও সাতটি লিগ কাপ জিতেছে।
চলতি মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ ম্যাচের সবগুলো জিতে টেবিলের শীর্ষে আছে সিটি।
