মোটরবাইকে এসে এজেআর কুরিয়ারের গাড়িতে হামলা, চালককে মারধর
পুলিশ বলছে, গাড়িটি ধীরগতিতে চলার সময় আকস্মিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটে।
সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে এসে গতিরোধ করে ভাঙচুর করা হয়েছে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পণ্যবাহী গাড়ি। এসময়
চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জিগাতলা থেকে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। হাজারীবাজারে এই কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম।
ধানমন্ডি থানার এসআই শাহজালাল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গাড়িটি ধীরগতিতে চলার সময় আকস্মিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মারধর শুরু করে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর এজেআর কুরিয়ারের হাজারীবাগের গুদাম প্রাঙ্গণে পুলিশের তালিকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমনের নামে ভাড়া চেয়ে ভাঙচুর করার অভিযোগ করা হয়েছিল।
শনিবারের ঘটনায় আহত চালক মিজানুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এজেআর গ্রুপের কর্মকর্তা জয়ন্ত চৌধুরীর অভিযোগ, জিগাতলা থেকে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার পথে সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করে। এরপর তারা লোহার রড দিয়ে গাড়িতে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, হামলায় গাড়ির সামনের ও পাশের কাচ এবং লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা চালক মিজানুর রহমানকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে কিল-ঘুষি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আহত চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ধানমন্ডি থানার এসআই শাহজালাল মিয়া বলেন, হামলাকারীরা টাকা-পয়সা বা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেননি। তবে গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে ক্ষতিসাধন করেছেন। কারা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাতে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ ও হেলমেট পরা একদল ব্যক্তি গুদামে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। তারা ল্যাপটপ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র (ডিভিআর) নিয়ে যায়। এ সময় জমির ভাড়া পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ওই ঘটনায় এজেআর সার্ভিসের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ইমনকে হুকুমদাতা উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর গত ৩ নভেম্বর রাতে মিরপুর-১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড়ে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কার্যালয়ের সামনে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী আহত হন।
