২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে হামলা-লুটপাট, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমনের নামে ভাড়া দাবি

দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ভাড়া নেয় এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Oct 2026, 01:20 AM

Updated : 21 Oct 2026, 01:20 AM

মুখোশ ও হেলমেট পরে এসে একদল ব্যক্তি রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে ‘জমির ভাড়া’ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ে হামলার এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র (ডিভিআর) নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়টি যে ভবনে অবস্থিত সেটির নিরাপত্তা ইনচার্জ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের’ নাম করে একটি দল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় ও হুমকি দেয়।

ওসি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর পুলিশের কাছে হামলার বিবরণ দেন এজেআর ওয়ার হাউজের নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন। সেই বিবরণ দেওয়ার ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় শতাধিক ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। প্রথমে তারা আশপাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। পরে তাদের একটি দল দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়। হামলাকারীরা মুখোশ ও হেলমেট পরা ছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গুদামে ঢুকে সিসি ক্যামেরা ও ডিভিআর খুলে নেয়। পরে কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ভাড়া নেয় এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গুদাম ও কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এত দিন শিকদার গ্রুপকে জমির ভাড়া দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

নিরাপত্তা ইনচার্জ রুহুল বলেন, হামলাকারীরা দাবি করেছেন শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দিতে হবে। ভাড়া না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে তারা হুমকি দেন।

তিনি বলেন, কার্যালয়টি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি গাড়ির মাধ্যমে দেশজুড়ে পণ্য পরিবহন করা হয়। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।