দোষী প্রমাণিত হয়ে ‘হতাশ ও বিস্মিত’ ম্যানচেস্টার সিটি
স্বাধীন কমিশনের মতামতকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে আপিল করার কথা জানিয়েছে ক্লাবটি।
নিজেদের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর, কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। স্বাধীন কমিশনের মতামত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ক্লাবটি।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের বিশদ তদন্তে ২০২৩ সালে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়। তদন্ত ও শুনানি শেষে মঙ্গলবার তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগের সতত্য পাওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, ওই নির্দিষ্ট সময়কালে বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ‘প্রতারণামুলক চুক্তি’ করে সিটি, একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে ক্লাবের আয় বাড়াতে ও খরচ কমিয়ে দেখাতে ওইসব চুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়।
এর পরপরই ক্লাবের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে কমিশনের মতামতকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সিটি। আপিল করার কথাও জানায় ক্লাবটি।
“আজ প্রকাশিত প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের মতামতের বিষয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এফসি হতাশ ও বিস্মিত। প্রিমিয়ার লিগের আনা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে ক্লাবটি পুরোপুরি নির্দোষ এবং এই মামলার বিষয়ে ক্লাবের অবস্থানের স্বপক্ষে অকাট্য ও বিস্তারিত প্রমাণাদি রয়েছে। তাই ক্লাবটি যেকোনো উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক ও আইনি ফোরামে অবিচল থাকবে এবং প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
“প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান এবং এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ম্যানচেস্টার সিটি এফসি এখন আপিলের পথ বেছে নেবে, কারণ এই মতামতে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও বস্তুগত ভুল রয়েছে এবং এটি ত্রুটিপূর্ণ।”
এ দিন কমিশনের মূল রিপোর্টের একটা সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করে প্রিমিয়ার লিগ। যেখানে বলা হয়, সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আইন ভঙ্গের চারটি প্রধান ক্যাটাগরির অপরাধে শতাধিকের বেশি অভিযোগ ওঠে।
আরও বলা হয়, ওইসব ক্যাটাগরিতে একটি বাদে ১১৫টি অভিযোগের সবগুলোতেই দোষী প্রমাণিত হয়েছে সিটি।
সিটি বলেছে, “ক্লাবটি এই বিশ্বাস থেকে গত আট বছর ধরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেছে যে, প্রিমিয়ার লিগ বোর্ড ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ নিয়ন্ত্রকের মতো আচরণ করবে।”
আর্থিক সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের সময়কালের; পাশাপাশি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে সিটির বিরুদ্ধে।
