২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 06 May 2026, 07:50 PM
সবশেষ বিশ্বকাপের পর পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া বেলজিয়াম দলে সোনালী প্রজন্মের কেউ কেউ এখনও রয়ে গেছেন। দলে এসেছেন এক ঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ। তাদের নিয়ে এবারের আসরে চমকে দিতে চান দুই প্রজন্মের দুই প্রতিনিধি ইউরি টিলেমান্স ও জেরেমি ডোকু।
বিশ্বকাপের বাকি কেবল আর পাঁচ সপ্তাহ। উত্তর আমেরিকা আসরে রুদি গার্সিয়ার দল খেলবে ‘জি’ গ্রুপে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রনে যাদের আছে ভারসাম্যপূর্ণ এক স্কোয়াড।
সোনালী প্রজন্মের তারকাদের সেরা সময়ে এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপ। নিজেদের মেলে ধরে তারা জায়গা করে নেয় সেমি-ফাইনালে। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শেষ চারে থেমে যেতে হয় তাদের।
ওই ম্যাচে অব্যবহৃত বদলি খেলোয়াড় ছিলেন টিলেমান্স। এখনও সেই সময়ের উত্তাপ মনে করতে পারেন অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার।
“দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় আমি ওয়ার্ম আপ করছিলাম। আমার কেবল তীব্রতা, চাপের কথা মনে আছে। স্টেডিয়ামের ভেতরে আপনি ওই চাপ অনুভব করতে পারেন।”
“কেউই কোনো ভুল করতে চায়নি। আমার মনে হয়নি, আমরা (কোনো ভুল) করেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, তাদের গোলটা (সামুয়েল উমতিতির হেড থেকে) কেবলই একটা মুহূর্ত এবং আমি মনে করি না সেদিন আমরা অন্য কিছু করতে পারতাম বা করা উচিত ছিল।”
চার বছর পরের বিশ্বকাপ খুব বাজে কাটে বেলজিয়ামের। কাতার আসরে মরক্কো, ক্রোয়েশিয়া ও কানাডার গ্রুপে তৃতীয় হয় তারা। গ্রুপ পর্ব থেকে ওই বিদায়ে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন টিলেমান্স।
“আমার মনে হয়, অমন কিছুর জন্য আমরা একদমই তৈরি ছিলাম না।”
এই হতাশাজনক পারফরম্যান্স দিয়ে একটি চক্রের ইতি ঘটে এবং নতুন প্রজন্মের যাত্রার সূচনা হয়।
গত আসরে ডোকু ছিলেন রেনের এক উঠতি প্রতিভা। কাতারে মাত্র ১৮ মিনিট খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ম্যানচেস্টার সিটি ও জাতীয় দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। বড় মঞ্চে সবসময়ই নিজের ছাপ রাখছেন তিনি। এবার সামনে বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ।
সেই আসরের পর অভিজ্ঞতা বেড়েছে ডোকুর। আরও পরিণত হয়ে বেলজিয়ানদের স্বপ্ন নিজের কাঁধে বয়ে চলেছেন তিনি।
“আমরা জানি, ওই সব হার, ওই ভুল আমাদের শিখতে সাহায্য করবে। এখন আমরা আরও বেশি কিছুর জন্য ক্ষুধার্থ, আরও ভালো করার জন্য ক্ষুধার্থ।”
বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে নেতৃত্ব দেবেন ২৮ বছর বয়সী টিলেমান্স। বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যের চেয়ে তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন মিলিত প্রচেষ্টার দিকে।
“ব্যক্তিগতভাব আমার ব্যক্তিগত প্রস্তুতির দিক থেকে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বয়স কেবল চার বছর বেড়েছে। আমি দলকে বলব, আরও বেশি মনোযোগী থাকতে হবে, নিশ্চিত করতে যে, সবাই প্রস্তুত আছে এবং শুরু থেকে ছোটার জন্য তৈরি।”
নিজের দারুণ গতি এবং লড়াকু মনোভাব দিয়ে বেলজিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় ভূমিকা রেখেছেন ডোকু। তার বিশ্বাস, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার বড় প্রভাব থাকবে।
“আমাদের মানসিকতা এই যে, আমরা কোনো দলকে নিয়ে অভিভূত নই। আমরা ছোটখাট ব্যাপারেও মনোযোগ দেব। টুর্নামেন্টে এগিয়ে যেতে আপনাকে ক্ষুধার্থ থাকতে হবে, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”
“আমরা সেই সব খেলোয়াড়ের জন্য আমাদের সেরাটুকু দিতে চাই, যারা এমন বয়সে পৌঁছেছেন যে জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা ভাবছেন। নিজেদের জন্য এবং বিশেষ করে দেশের জন্য আমরা সেরাটা দিতে চাই।”
গতবারের তেতো অভিজ্ঞতার পর এবার যে কোনো দলের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ডোকু। সতীর্থদের সেই বার্তাই দিলেন তিনি।
“চলো স্রেফ নিজেদের মান প্রকাশ করি এবং বিশ্বকে দেখাই যে, আমরা মাঠে কী করতে পারি। আমরা সেখানে যাব পারফরম করার জন্য এবং যতটা সম্ভব সামনে এগিয়ে যাব।”
একই সুর শোনা গেল টিলেমান্সের কণ্ঠেও।
“আমি মনে করি, অন্য দেশগুলোর মতোই আমাদের সুযোগ আছে। আমরা স্রেফ এই বিশ্বকাপে ভালো করতে চাই। নিজেদের একটা দল হিসেবে দেখাতে চাই এবং আক্ষেপ রাখতে চাই না।”
আগামী ১৫ জুন মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। এরপর খেলবে নিউ জিল্যান্ড ও ইরানের বিপক্ষে।
এই তিন ম্যাচ দিয়ে গত আসরের ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বেলজিয়ামের। অতীতের লেগ্যাসির সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির মেলবন্ধন ঘটানোর সুযোগ দলটির সামনে। একই সঙ্গে স্মরণীয় এক গল্পও লেখার সুযোগ তাদের সামনে।