হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে জয়ের উচ্ছ্বাস কিংসের

শেষ দিকে মিগেল দামাশেনোর গোলে জিতেছে অস্কার ব্রুসনের দল।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2023, 02:05 PM
Updated : 27 Nov 2023, 02:05 PM

প্রথম ভালো আক্রমণ থেকে গোল তুলে নিল মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব। তাতে শুরুর ছন্দ হারিয়ে বসল বসুন্ধরা কিংস। শেষ দিকে ত্রাতা হয়ে এলেন বোবুরবেক ইয়ুলদাশভ ও মিগেল দামাশেনো। প্রত্যাবর্তনের দুর্দান্ত গল্প লিখে, হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে জয়ের উৎসবে মাতল অস্কার ব্রুসনের দল।

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সোমবার এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে দুই দলের ফিরতি লেগের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে কিংস। ওবেং রিগ্যান মাজিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পর বোবুরবেক সমতা ফেরান। শেষ দিকে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন দামাশেনো।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে প্রথম লেগের ম্যাচে ৩-১ গোলে হেরেছিল কিংস। নিজেদের মাঠে মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্যও পূরণ করে নিল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা।

৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে থাকল কিংস। দিনের অন্য ম্যাচে ওড়িশার মুখোমুখি হবে মোহান বাগান, ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

চোটের কারণে রবসন দি সিলভা রবিনিয়ো ও চার্লস দিদিয়েরকে না পেলেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা মেলে কিংস। ষষ্ঠ মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ থেকে গোল পেতে পারত তারা, কিন্তু বক্সে রক্ষণের পাহারা ভেদ করে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেস নাসিমেন্তো।

দশম মিনিটে প্রথম সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় মাজিয়া। এই গোলে কিংসে রক্ষণের বোঝাপড়ার ভুলের দায়ও কম নয়। বক্সে ভজিস্লাভ বালবানোভিচের শট ক্লিয়ার করতে পারেননি বোবুরবেক, বল চলে যায় বক্সে অরক্ষিত রিগ্যানের পায়ে। নিখুঁত টোকায় বাকি করেন তিনি।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে প্রথম লেগে ম্যাচে ষোড়শ মিনিটে প্রথম গোল হজম করেছিল কিংস; গোলটি করেছিলেন বালবানোভিচ। ফিরতি লেগেও আগেভাগে গোল হজম করায় বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের শুরুর তান যেন কেটে যায়।

এরপর দুইবার জালে বল জড়ালেও গোল পায়নি মাজিয়া। ২৭তম মিনিটে হ্যান্ডবলের কারণে হয়নি গোল। ৪১তম বল নিয়ে বক্সে ঢুকে হামজা মোহাম্মদ শট নিতে দেরি করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত বালবানোভিচ জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে হয়নি গোল।

একটু পর পাল্টা আক্রমণ থেকে এমফোন উদোহ পারেননি কিংসকে সমতায় ফেরাতে। এরপর ফ্রি কিকে সাদউদ্দিনের হেডের পর উদোহ আবারও গোলমুখ থেকে বাইরে মেরে নষ্ট করেন আরেকটি ভালো সুযোগ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দূরূহ কোণ থেকে কাছে পোস্টে রাকিব হোসেনের নেওয়া শট আটকান গোলরক্ষক; পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কিংস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সতীর্থের পাস প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শরীরটা ঘুরিয়ে শট নিয়েছিলেন উদোহ, কিন্তু সরাসরি যাওয়ায় তার বুলেট গতির শট আটকে মাজিয়ার ত্রাতা গোলরক্ষক হোসেন শরিফ। ৫১তম মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষের কোনাকুণি শটও ঝাঁপিয়ে ফেরান তিনি।

এরপর থেকে মাজিয়া রক্ষণে মনোযোগী হয়। কিংস আক্রমণ শাণাতে থাকে, কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরীক্ষা নেওয়ার মতো ধারালো ছিল না সেগুলো। ৭৭তম মিনিটে শেখ মোরসালিনের সামনে সুযোগ ছিল মোহন বাগান ম্যাচের মতো ‘নায়ক’ হওয়ার, কিন্তু বক্সের ভেতরে তার দুর্বল শট সহজে আটকান গোলরক্ষক। নিজেদের মাঠে প্রথম হারের শঙ্কা চোখ রাঙানি দিতে থাকে কিংসকে।

দুই মিনিট পর স্বস্তির উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে কিংসের গ্যালারি। কর্নারে বক্সের জটলার ভেতর থেকে বোবুরবেকের হেড গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে জড়ায়। প্রাণ ফিরে পায় কিংস।

৮৮তম মিনিটে ঘুরে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নেয় তারা। দোরিয়েলতনের কাছ থেকে ফিরতি পাসে পেয়ে ৩০ গজ দূর থেকে একটু ঝুলিয়ে শট নেন দামাশেনো। বল বাতাসে ভেসে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়।