বার্সায় যেমন ছিল নেইমারের শেষের দিনগুলি

স্প্যানিশ পত্রিকা এল মুন্দোর ফাঁস করা নথিতে উঠে এসেছে ব্রাজিলিয়ান তারকার বার্সেলোনা ছাড়ার কারণ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 03:49 PM
Updated : 23 Sept 2022, 03:49 PM

ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারের পিএসজিতে যাওয়ার পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। স্প্যানিশ পত্রিকা এল মুন্দোর ফাঁস করা নথিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রাজিলিয়ান তারকার কাতালান ক্লাবটি ছাড়ার প্রসঙ্গ। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কাম্প নউয়ে নেইমারের শেষ দিনগুলির চিত্র। 

২০২০ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি নবায়নের জন্য লিওনেল মেসির বিভিন্ন দাবি ও জেরার্দ পিকের চুক্তির তথ্য ফাঁস করে কদিন ধরে আলোচনায় এল মুন্দো। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে বার্সেলোনা। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে নেইমারের বিষয়টি প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি।  

২০১৩ সালে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোস থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। পরের চার বছরে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যের পর ২০১৭ সালের গ্রীষ্মের দলবদলে রেকর্ড ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে তিনি যোগ দেন পিএসজিতে। 

তাকে ধরে রাখতে ওই সময়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল বার্সেলোনা। এল মুন্দোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেইমারকে ক্লাবে থাকতে রাজি করানোর জন্য বার্সেলোনা একটি সংকটকালীন বোর্ড গঠন করেছিল। নেইমার ও তার বাবার, যিনি একই সঙ্গে ছেলের এজেন্ট, সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তখনকার ক্লাব পরিচালক রাউল সানগেয়িকে। 

সেই সানগেয়ির তখনকার ই-মেইল ফাঁস করেছে এল মুন্দো। এসব মেইলে তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে নেইমারের বার্সেলোনায় থাকার পক্ষেই ছিলেন তার বাবা। তবে বার্সেলোনায় নেইমারের সাইনিং বোনাস ফি ফাঁস হওয়ার পর নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। ওই বোনাসের অঙ্ক ছিল ৬ কোটি ৪৪ লাখ ইউরো। 

পিএসজির সঙ্গে নেইমারের চুক্তি স্বাক্ষরের তিন দিন আগে লম্বা একটি ই-মেইল পাঠান সানগেয়ি। যেখানে নেইমারের বাবার সঙ্গে তার কথোপকথনগুলি তুলে ধরেন তিনি। 

“আমি এই লোকের (নেইমারের বাবা) সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকেছি। আমার মনে হয়, তাকে আমি যথেষ্ট ভালোভাবে চিনি, তিনি কখন মিথ্যা বলছেন, কখন সত্য বলছেন, তাও বুঝি। এই বিষয়ে (নেইমারকে বার্সার ধরে রাখার চেষ্টা করা) তিনি যে আমাদের পক্ষে, তা আমি নিশ্চিত।” 

মূল সমস্যাটি খেলোয়াড়ের ছিল বলে মেইলে উল্লেখ করেন সানগেয়ি। তার সামনে নেইমার অনেকবার কেঁদেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

“আমি আপনাদের সবাইকে আলাদাভাবে বলেছি যে, এই ক্ষেত্রে সমস্যাটি ছিল খেলোয়াড়ের। ছেলেটি ভালো নেই, তার অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা আছে, সে খুব বিভ্রান্ত এবং মানসিকভাবে খুব দুর্বল। সে ভেবেছে, বার্সেলোনা ছাড়লেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে (তার উচিত ছিল সব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সমাধান করা এবং ক্লাব না ছাড়া)। 

“আমি সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেছি, বারবার। আমার কথায় সে একাধিকবার আমার সামনে কেঁদেছে। একাধিকবার স্বীকার করেছে, সে ঠিক অবস্থায় নেই।” 

সাইনিং বোনাসের অঙ্ক ফাঁস হওয়ার পর নেইমারের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা পাঠান বার্সেলোনাকে, “আমি আর তোমাদের বিশ্বাস করি না। তোমরা বারবার প্রতারণা করেছো।” 

সানগেয়ির মেইল অনুযায়ী, নেইমারের বাবা অবিলম্বে সেই অর্থ পরিশোধের দাবি জানান, বার্সেলোনা যা করতে ব্যর্থ হয়। এরপরই নেইমার পিএসজিতে চলে যান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক