১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুরে দাঁড়িয়ে চেলসিকে হারাল আর্সেনাল

শিরোপা জিতে মৌসুম শুরু করা আর্সেনাল এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে জিতল সবগুলোই।

ঘুরে দাঁড়িয়ে চেলসিকে হারাল আর্সেনাল
দলের জয়সূচক গোলের পর আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 12:00 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

দুই মিনিটেই আর্সেনালের জালে লুটোপুটি খেল বল। ধাক্কা সামলে আক্রমণের ঝড় তুলল দলটি। সময়ের সঙ্গে তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হলো। চেলসিকে হারিয়ে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল মিকেল আর্তেতার দল। 

এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগে জমজমাট লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। মর্গ্যান রজার্সের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন কাই হাভার্টজ। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেন মার্টিন ওদেগোর।

এফএ কমিউনিটি শিল্ড জিতে মৌসুম শুরু করা আর্সেনাল সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে জিতল সবগুলো।

বেশিরভাগ সময় পজেশন রাখা আর্সেনাল আক্রমণেও আধিপত্য করে। গোলের জন্য তাদের ১৬ শটের ৯টি লক্ষ্যে থাকে। শেষ দিকে কিছুটা মরিয়া হয়ে ওঠা চেলসি ১৩ শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। 

তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট লিগ টেবিলে দুইয়ে আছে আর্সেনাল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি।

মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া চেলসি ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে চার নম্বরে।   

মৌসুমে প্রথম তিন ম্যাচে জাল অক্ষত রাখা আর্সেনাল এবার লড়াই শুরু হতেই পিছিয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষের একটি ফ্রি কিকে ডি-বক্সে উড়ে আসা বল সুযোগ পেয়েও ক্লিয়ার করতে পারেনি তারা। এরপর সতীর্থের হেড পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন রজার্স।

গত জুলাইয়ে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আসা এই ইংলিশ মিডফিল্ডার চেলসির হয়ে দুটি গোল করলেন।

গোল খেয়ে প্রবল চাপ তৈরি করে আর্সেনাল। করতে থাকে একের পর এক আক্রমণ। তিন মিনিট পর মার্টিন ওদেগোরের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিকে দারুণ পজিশনে বল পান রিকার্দো কালাফিওরি, কিন্তু শট নিতে পারেননি তিনি।

কিছুক্ষণ পর এই ইতালিয়ান ডিফেন্ডার গোলমুখে জটলার মাঝে টোকায় বল জালে পাঠালে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্সেনাল। কিন্তু ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

মরিয়া প্রতিপক্ষকে যদিও বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি চেলসি। ২৫তম মিনিটে ডেক্লান রাইসের পাস ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে সমতা টানেন হাভার্টজ। অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসিতে আসা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও রুখতে পারেননি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে আবার এগিয়ে যেতে পারত চেলসি। জোয়াও পেদ্রোর পাস ধরে ড্রিবল করে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন পেদ্রো নেতো, কিন্তু বল দূরের পোস্টে বাধা পায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রেখে ৫০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে পাস বাড়ান ক্রিস্তস জলিস, দারুণভাবে শেষ মুহূর্তে ডামি করে ছেড়ে দেন হাভার্টজ, আর বল বল ধরে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওদেগোর।

৬৮তম আবার চেলসির ডি-বক্সে ভীর্তি ছড়ায় আর্সেনাল, তবে এবার দারুণ সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি মার্তিনেস। সাকার দূরের পোস্টে নেওয়া জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।

নির্ধারিত সময় শেষের আগের মিনিটে দ্বিতীয় গোল পাওয়ার খুব কাছে যায় চেলসি। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এস্তেভোঁর জোরাল শট অসাধারণ নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন দাভিদ রায়া।