লিওনেল মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার চুক্তির সেই বিখ্যাত ন্যাপকিন পেপার নিলামে বিক্রি হয়েছে চোখধাঁধানো অঙ্কে।
Published : 18 May 2024, 11:41 AM
ধারণা করা হচ্ছিল, তিন থেকে পাঁচ লাখ পাউন্ডের মধ্যে উঠতে পারে দর। কিন্তু লিওনেল মেসির ছোঁয়া আছে যেখানে, সেটি তো অনুমানকে ছাড়িয়ে যেতেই পারে! মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার চুক্তির সেই ন্যাপকিন পেপার নিলামে শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ড বা ৯ লাখ ৬৯ হাজার ডলারে।
গত বুধবার শুরু হওয়া নিলাম শেষ হয় শুক্রবার। আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘বোনহ্যামস’ এরপর জানায় চোখধাঁধানো অঙ্কে ন্যাপকিন পেপারটি বিক্রির খবর।
এক টুকরো ন্যাপকিন পেপার কীভাবে এতটা অসামান্য ও মহামূল্য হয়ে উঠল, নিলাম শেষে সেটিই আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন বোনহ্যামস নিউ ইয়র্কের ‘ফাইন বুকস অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্টস’ বিভাগের প্রধান ইয়ান ইলিং।
“হ্যাঁ, এটি স্রেফ একটি ন্যাপকিন পেপার। কিন্তু এটি খুবই বিখ্যাত ন্যাপকিন, যেখানে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন মিশে আছে।”
“এই ন্যাপকিন মেসির জীবন বদলে দিয়েছে, বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থককে অসাধারণ সব গৌরবময় সময় উপহার দেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
এই ন্যাপকিনের গল্পটি ফুটবল অনুসারীদের প্রায় সবারই জানা। ট্রায়াল দেওয়ার জন্য ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে পরিবারের সঙ্গে বার্সেলোনায় যান মেসি। সেখানে জাদু দেখিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে দেন ১৩ বছর বয়সী মেসি।
হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা কিশোরের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়া নিয়ে অবশ্য সংশয়ে ছিলেন সেই সময়ের বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান গাসপার্ত। তবে ছেলেটির প্রতিভা নিয়ে সংশয় ছিল না কারও। ক্লাব সভাপতিকে রাজি করাতে বার্সেলোনার তখনকার টেকনিক্যাল সেক্রেটারি কার্লো রেক্সাসকে চাপ দেন আর্জেন্টিনার দুই ফুটবল এজেন্ট হোরাসিও গাজ্জোলি ও মারিয়া মিনগেলা। শেষ পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে একটি ন্যাপকিন পেপারে লেখা হয় চুক্তি।
পরে এটি গাজ্জোলির মালিকানায় অ্যান্ডোরার একটি ভোল্টে সুরক্ষিত ছিল। বার্সেলোনার জাদুঘরে এটি রাখার আলোচনা হলেও তা করা হয়নি।
সেই ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির পথ ধরেই বার্সেলোনায় পা রাখেন মেসি। একসময় ছুটতে শুরু করেন ইতিহাসের পথ ধরে। এই ক্লাবের হয়ে তিনি পৌঁছে যান এমন ঠিকানায়, যেখানে যেতে পারেননি আর কেউ। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বকালের সফলতম ফুটবলার তিনি।
তার ৭৭৮ ম্যাচ ও ৬৭২ গোল বার্সেলোনার রেকর্ড। এই ক্লাবের হয়ে জিতেছেন তিনি ৩০টি ট্রফি। অসংখ্য অর্জন, রেকর্ড, কীর্তিতে নিজেকে রাঙিয়েছেন তিনি এই ক্লাবের জার্সিতে। ক্লাবকেও তুলে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়।
বার্সেলোনা অধ্যায় শেষে পিএসজিতে কাটিয়ে রেকর্ড আটবালের ব্যালন দ’র জয়ী ফুটবলার এখন খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে।