কোপা দেল রে
৮ গোলের অবিশ্বাস্য এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে।
Published : 02 Apr 2025, 04:19 AM
ম্যাচের ৭১ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইনের সমতায় লক্ষ্যে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। পরক্ষণে আত্মঘাতী হলেন ডাভিড আলাবা এবং শুরু হলো গোলের উৎসব। ক্ষণে ক্ষণে ম্যাচের গতিপথ বদলাতে থাকল। কখনও রেয়াল সোসিয়েদাদ ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় তো কখনও রেয়াল মাদ্রিদ। রোমাঞ্চে ঠাসা লড়াইয়ের ১১৫ মিনিটে আরেকবার সফরকারীদের জালে বল জড়াল এবং সেটাই গড়ে দিল ব্যবধান। কোপা দেল রের ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রাতে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হলো। ফলে প্রথম লেগের ১-০ গোলে জয়ের সুবাদে শেষ হাসি হাসল স্পেনের সফলতম দলটি।
রেয়াল মাদ্রিদের চার গোলদাতা হলেন এন্দ্রিক, জুড বেলিংহ্যাম, অঁহেলিয়া চুয়ামেনি ও আন্টোনিও রুডিগার। আর সোসিয়েদাদের হয়ে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একবার জালে বল পাঠান আন্দের বারেনেচিয়া।
পুরো মাচে বল দখলে এগিয়ে থাকা রেয়াল মাদ্রিদ আক্রমণেও আধিপত্য করে। গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। ভিনিসিউস-এন্দ্রিকরা অসংখ্য সুযোগ না হারালে স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত, ম্যাচের চিত্রনাট্যও হয়তো অন্যরকম হতো।
গোলের জন্য শট নেওয়ার হিসেবে সোসিয়েদাদ অনেকটাই পিছিয়ে, তাদের ১১ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল এবং এর চারটিই জালে জড়ায়। তবে হার না মানসিকতায় মাঠে যে ফুটবল উপহার দিয়েছে দলটি, তা এই সংখ্যায় ফুটে উঠছে না।
দারুণ একটি গোল করার মঞ্চ ম্যাচের শুরুতেই তৈরি করে ফেলেছিলেন এন্দ্রিক। ডি-বক্সে প্রতিপক্ষ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, দুই ডিফেন্ডারের মাঝে প্রথম ছোঁয়ায় বল মাথার ওপর তুলে ওভারহেড কিক নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পানেননি তিনি।
দুই মিনিট পর বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে জোরাল শট নেন ভিনিসিউস, ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরো। এর দুই মিনিট পর প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে উঠে পাশের জাল কাঁপান সোসিয়েদাদের লুকা সুচিচ।
ষোড়শ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই রেয়াল মাদ্রিদকে স্তব্ধ করে দেয় সফরকারীরা। পাবলো মারিনের হেড পাস ধরে ক্ষিপ্রতায় সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ধরে ওয়ান-অন-ওয়ানে আন্দ্রি লুনিনকে পরাস্ত করেন বারেনেচিয়া।
কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া বের্নাবেউকে ৩০তম মিনিটে জাগিয়ে তোলেন এন্দ্রিক। ভিনিসিউসের দারুণ থ্রু পাস ধরে সব ডিফেন্ডারকে পেছনে রেখে ডি-বক্সে ঢুকে, দারুণ চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
লা লিগায় তেমন একটা খেলার সুযোগ পান না এন্দ্রিক। তবে কোপা দেল রেতে নিয়মিতই শুরুর একাদশে থাকেন এবং কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে চলেছেন তিনি। এখানে টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। আসরে তার মোট গোল হলো পাঁচটি, হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
বিরতির পরও চাপ ধরে রেখে ৬১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পায় রেয়াল। জুড বেলিংহ্যামের দূর থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা অবশ্য ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।
পাঁচ মিনিট পর এন্দ্রিককে তুলে কিলিয়ান এমবাপেকে নামান রেয়াল কোচ। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পেয়ে তাদের আক্রমণের ধার বাড়বে কী, উল্টো ছয় মিনিটের মধ্যে আত্মঘাতী হয়ে পড়ে তারা।
ডি-বক্সে বল পেয়ে দ্রুত কামাভিঙ্গাকে পাশ কাটিয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলমুখে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মারিন, ঠেকাতে বলের পথে পা দেওয়ার চেষ্টা করেন ডাভিড আলাবা, তাতেই ঘটে যায় অঘটন। তার পায়ে লেগে লুনিনকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।
৮০তম মিনিটে আবার দুর্ভাগ্য ঘিরে ধরে আলাবাকে। মিকেল ওইয়ারসাবালের শট লক্ষ্যেই ছিল, সামনে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়ায়। ফাইনালের সুবাসও পেতে শুরু করে তারা।
কিন্তু আরও একবার শেষ দিকে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় রেয়াল মাদ্রিদ। চার মিনিটের মধ্যে গোল দুটি করেন বেলিংহ্যাম ও চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের পাস বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান কমান বেলিংহ্যাম। গত শনিবার লা লিগায় লেগানেসের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
তিন মিনিট পর সমতাসূচক গোলটি করতে পারতেন ভিনিসিউস। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোলরক্ষককে কাটিয়ে তার গায়েই মেরে বসেন তিনি! কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন এক ডিফেন্ডার। রদ্রিগোর ওই কর্নার থেকেই হেডে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন অহেলিয়া চুয়ামেনি।
গোলটি পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে নাটকীয়তা তখনও যে ঢের বাকি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কাছ থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন ওইয়ারসাবাল।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই আবার রেয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ এবং ভিনিসিউসের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট। খানিক পর লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশা বাড়ান এমবাপে।
অবশেষে ১১৫ মিনিটে গিয়ে দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে ব্যবধান গড়ে দেয় রেয়াল। আর্দা গিলেরের কর্নারে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন রুডিগার।
ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদ লড়বে বার্সেলোনা অথবা আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। এই দুই দলের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়েছিল, ফিরতি লেগে বুধবার মাঠে নামবে তারা।