১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘উত্তর কোরিয়ার মতো গতিময় ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত নয় আমাদের মেয়েরা’

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার জেমস বাটলার মনে করেন, দুই দলের মধ‍্যে পার্থক‍্য গড়ে দিয়েছে গতি।

‘উত্তর কোরিয়ার মতো গতিময় ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত নয় আমাদের মেয়েরা’
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হার নিয়ে পড়ে থাকতে চান না পিটার জেমস বাটলার। ছবি: বাফুফে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 07:52 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

উত্তর কোরিয়ার গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার পর নিজের দল নিয়ে অকপট হলেন পিটার জেমস বাটলার। বললেন, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের গতির সাথে তাল মিলিয়ে খেলতে অভ্যস্ত নয় মারিয়া-কোহাতিরা।

জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে সোমবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরে এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল ইভেন্টের গ্রুপ পর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। 

নিজেদের ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। এর আগে ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ৯-০ গোলে হেরেছিল মেয়েরা।

গত উইমেন’স এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারের ব্যবধান দ্বিগুণ। তবে, দলকে কাঠগড়ায় তুলছেন না বাটলার। এই ইংলিশ কোচ বরং মেয়েদের লিগ না হওয়া, মাঠের বাইরের নানা কারণসহ বাস্তবতাও তুলে ধরলেন। হারের দায়ও তিনি নিলেন নিজের কাঁধে।

“উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও গোছানো একটি দল; বিশেষ করে তারা এমন গতিতে খেলে যার সাথে আমাদের মেয়েরা অভ্যস্ত নয়। সত্যি বলতে, ওই দলের মানের বিপক্ষে খেলার মতো যথেষ্ট দক্ষতা বা সক্ষমতা এই পর্যায়ে আমাদের এখনো নেই। তারা অসাধারণ খেলেছে; তাদের খেলা দেখাটা ছিল উপভোগ্য।

“কোচ হিসেবে আমি দলকে যেভাবে খেলাতে চেয়েছিলাম, আজ আমরা তার ঠিক উল্টোটা করেছি, যেটা আমাকে হতাশ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি এবং এই হার আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের দায়ভার আমি পুরোপুরি নিচ্ছি; মাঠের বাইরেরগুলো নয়। সভাপতি সবসময়ই পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু অন্যরা তা করেননি; যেমন-মাঝরাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা বা কনফারেন্স কল করা; এভাবে তো আর একটা দল গড়ে তোলা যায় না।”

দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এই ইভেন্টে তিনবারের ব্রোঞ্জ জয়ী দক্ষিণ কোরিয়া। বাটলার অবশ্য উত্তর কোরিয়া ম্যাচের ফলের মতো দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচ নিয়েও খুব একটা ভাবছেন না। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে একটি হয়ে পরের ধাপে যেতে মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তিনি দিচ্ছেন মনোযোগ।

“আমি কোনো জাদুকর নই যে টুপি থেকে খরগোশ বের করে আনব। আমি একজন পেশাদার ফুটবল কোচ; আমার মনে হয়, দ্বিতীয়ার্ধে দল ভালো খেলেছে। আমি যা করার চেষ্টা করেছি তা হলো তাদের ওপর কাজের চাপ বা ধকল কিছুটা কমিয়ে রাখা।

“কারণ, কথাটা হয়তো শুনতে গৎবাঁধা মনে হতে পারে, কিন্তু এই ম্যাচের ফলাফল ১-০ নাকি ১০-০ হলো, তাতে আসলে কিছু যায় আসে না; আমাদের আসল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচটি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও সম্ভবত আজকের ম্যাচের মতোই হবে। তবে আমাদের ফিরে গিয়ে দলের কৌশলে কিছুটা রদবদল আনতে হবে এবং দেখতে হবে এরপর আমরা কোন পথে এগোব।”