এশিয়ান কাপ বাছাই
Published : 30 Sep 2025, 07:48 PM
হংকং চায়না ম্যাচের প্রস্তুতি শুরুর আগে দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সামনে এলেন মিতুল মারমা। খাগড়াছড়ির গুইমারায় মারমা স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়া জাতীয় দলের গোলরক্ষক আবারও কথা বললেন এই ইস্যুতে। দেশের কোথাও এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়, বললেন মিতুল।
আগামী ৯ ও ১৪ অক্টোবর এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের দুই লেগে হংকং চায়নার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচটি মিতুলরা খেলবেন ঘরের মাঠ জাতীয় স্টেডিয়ামে। এই মাঠেই মঙ্গলবার প্রথম অনুশীলনে নামে দল।
অনুশীলন শুরুর কথা ছিল সাড়ে চারটায়। তার একটু আগে নামে ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টি থামলে মিতুল-জামালরা মাঠে আসেন। মিনিট পনের গা গরম করার পর ফের শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হাভিয়ের কাবরেরা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রকট শব্দে বজ্রপাত শুরু হলে প্রস্তুতি থামিয়ে সবাইকে ছুটতে হয় ড্রেসিংরুমের দিকে।
বৃষ্টির বাগড়ায় প্রস্তুতি বিঘ্নিত হলেও মিতুল অবশ্য হংকং ম্যাচ নিয়ে নিজের ও দলের লক্ষ্য জানিয়ে গেছেন। সমতল-পাহাড় সবখানে শান্ত পরিবেশের দাবিটাও তিনি জানান।
“শুধু পাহাড় নয়, যে ঘটনাটা ঘটেছে এই বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম (ফেইসবুকে)। আসলে শুধু পাহাড়ে নয়, বাংলাদেশের কোনো জায়গায় এমনটা হওয়া উচিত না। যার কারণে স্ট্যাটাস দেওয়া। আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখন আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এখানে এসেছি। আমি মনে করি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের জন্য ভালো, সবার জন্য ভালো।”
“আসলে আমরা সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছোটখাটো কোনো চোটের কারণে হয়তো ম্যাচের পরিকল্পনায় ছিলাম না (নেপালের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচে) … এটা স্বাভাবিক। এখন আমরা সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছি হংকং ম্যাচের জন্য। নেপালের বিপক্ষে যেহেতু খেলতে পারিনি, আমি চাইব হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে ভালো কিছু করার।”
প্রাথমিক দলের কলেবর ২৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ জন। মোহামেডানের ডিফেন্ডার জাহিদ হোসেন শান্তর পর আবাহনীর গোলকিপার পাপ্পু হোসেনকেও ডেকেছেন কাবরেরা। ক্যাম্পে আগে থেকে মিতুলের সাথে আছেন মেহেদী হাসান শ্রাবন ও সুজন হোসেন। পাপ্পুর আগমন ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন মিতুল।
“প্রথমত আমাদের সব পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি। এখানে খামখেয়ালিভাবে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে প্রমাণ করে থাকতে হবে। এখানে মনে করি, আমি আমার নিজের সর্বোচ্চটুকু দেব। হংকংয়ের বিপক্ষে আমরা দীর্ঘদিন কোনো ম্যাচ খেলিনি। তাদের শেষ ম্যাচগুলো দেখে আমারা প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেহেতু পরপর দুটি ম্যাচ খেলব। হোম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করব দুই ম্যাচই ফল যাতে পক্ষে থাকে।”
“আমরা যদি আরও বেশি ম্যাচ খেলতে পারতাম, আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো। যেহেতু খেলতে পারিনি, সেটা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। শুরু থেকে আমরা হংকং ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। লিগ বা যেখানেই বলি, আমরা নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ রেখেছিলাম, যেহেতু আমাদের এটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের হাতে যেটুকু সময় আছে, ওইটুকুতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়ে সেরাটা দিতে চাই।”
বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপের টেবিলে ১ পয়েন্ট নিয়ে এ মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। বাছাই পেরুতে তাই শক্তিশালী হংকংয়ের বিপক্ষের দুই লেগেই জয়ের বিকল্প কিছু দেখছেন না মিতুল।
“অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোয়ালিফাই করতে হলে আমাদের এ দুটো ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন দল র্যাঙ্কিংয়ে কত নম্বরে আছে, সেটা দেখতে চাচ্ছি না। আমাদের মূল লক্ষ্য, যেভাবেই হোক জিততে হবে।”