ভিনিসিউস সত্যি বলেছেন কি না, নিশ্চিত নন মরিনিয়ো
বেনফিকার কোচের মতে, অসাধারণ এক গোল করার পর ভিনিসিউসের উচিত হয়নি মাঠের ৬০ হাজার দর্শকের সঙ্গে ঝামেলা পাকানো।
বর্ণবাদের অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত, দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন জোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিউস জুনিয়র বা জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, কারও কথাতেই আশ্বস্ত হননি বেনফিকা কোচ। তবে একটি জায়গায় তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ভিনিসিউসকে। তার মতে, অসাধারণ একটি গোল করার পর রেয়াল মাদ্রিদ তারকার উচিত হয়নি স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার দর্শকের সঙ্গে ঝামেলা পাকানো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের প্রথম লেগের ম্যাচটিতে মঙ্গলবার ভিনিসিউসের চমকপ্রদ গোলেই বেনফিকার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরে রেয়াল মাদ্রিদ। তবে ওই গোল বা রেয়ালের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ম্যাচের পরের ঘটনাপ্রবাহ।
গোলের পর কর্নার স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করেন ভিনিসিউস। গ্যালারির এই প্রান্ত ঠাসা ছিল বেনফিকার সমর্থকদের দিয়ে। ওই উদযাপনের কারণে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কার্ড দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভিনিসিউস।
এর পরপরই বর্ণবাদের অভিযোগের ঘটনার সূত্রপাত। ভিনিসিউস ও তার সতীর্থদের অভিযোগে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। খেলা বন্ধ থাকে ১১ মিনিটের মতো।
ঘটনার সময়ের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ দিয়ে জার্সি ঢেকে কিছু একটা বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেই কথা শুনেই জ্বলে ওঠেন ভিনিসিউস ও আশেপাশে থাকা তার সতীর্থরা। সেখানে ছিলেন এমবাপেও। সেই সময়ের ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে, প্রেস্তিয়ান্নির মুখের ওপর তাকে ‘ব্লাডি রেসিস্ট’ বলছেন এমবাপে।
এমবাপে ম্যাচের পর জানান, জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিউসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলেছেন প্রেস্তিয়ান্নি। বেনফিকার এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গারকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। প্রেস্তিয়ান্নি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ম্যাচের পর ২০ বছর বয়সী ফুটবলার সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, তার কথা ভুলভাবে শুনেছেন ভিনিসিউস।
ম্যাচের পর বেনফিকার কোচ মরিনিয়ো বললেন, তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে একটি জায়গায় আঙুল তুললেন ভিনিসিউসের দিকে।
“দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছি আমি। প্রেস্তিয়ান্নি একরকম বলছে, ভিনি আরেকরকম। বলছি না যে প্রেস্তিয়ান্নিকে শতভাগ সমর্থন করছি, তবে এটাও বলতে পারছি না যে ভিনিসিউস আমাকে সত্যি বলেছে… আমি জানি না।”
“আমি শুধু জানি, ওই গোল পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল, দারুণ ম্যাচ হচ্ছিল। বেনফিকা খুব ভালো শুরু করেছিল এবং রেয়াল মাদ্রিদও ছিল দারুণ শক্তিশালী। ভিনিসিউস যে গোলটি করেছে, এটা কেবল সে ও এমবাপেই করতে পারে। এরপর ভিনির উচিত ছিল সতীর্থদের দিকে ছুটে যাওয়া, সতীর্থদের কাঁধে ঝাপিয়ে পড়া… ৬০ হাজার দর্শকের সঙ্গে ঝামেলা পাকানোর প্রয়োজন ছিল না। এটিই আমি বলতে চাইছি।”
“কতগুলি স্টেডিয়ামে এরকম ঘটনা ঘটেছে? কয়টিতে? এই ক্লাবের সর্বকালের সেরা তারকা ইউসেবিও (কৃষ্ণাঙ্গ), কাজেই এই ক্লাব বর্ণবাদী নয়। ভিনি অসাধারণ ফুটবলার, আমি তাকে খুবই পছন্দ করি। তবে এরকম গোলের পর সতীর্থদের কাছে যাওয়া উচিত ছিল।”
“কিছু একটা অবশ্যই ঠিকঠাক হচ্ছে না। সে অসাধারণ এক গোল করেছে। আমি তাকে বলেছি, এমন গোলের পর ইউসেবিও, পেলে বা দি স্তেফানোর মতো করে কেন উদযাপন করেনি?”
ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির সঙ্গে ঝামেলা পাকিয়ে লাল কার্ড দেখেন মরিনিয়ো। পরের ম্যাচে রেয়ালের মাঠে তিনি ডাগআউটে থাকতে পারবেন না।
নিজের কার্ড নিয়েও স্বভাবসুলভ খোঁচা দিতে তিনি ভোলেননি। সরাসরিই বলেছেন, রেয়ালের কয়েকজন ফুটবলারকে পরের রাউন্ডে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন রেফারি।
“আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে বোধগম্য কারণেই। রেফারির কাছে এক টুকরো কাগজ ছিল, যেখানে লেখা ছিল চুয়ামেনি, কাররেরাস এবং হাউসেনকে হলুদ কার্ড দেওয়া যাবে না। সে কাররেরাস বা চুয়ামেনিকে কার্ড দেখায়নি। রেফারিকে আমি এটা বলেছি, কারণ ১৪০০ ম্যাচ ডাগআউটে কাটিয়েছি, আমি ভালো করে জানি। সে জানত যে কাকে কার্ড দেখাতে হবে, কাকে নয়। আমরা জানি, সবকিছু কীভাবে হয়।”
