ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
Published : 27 Sep 2025, 07:31 PM
কক্ষপথে ফেরার প্রতিশ্রুতি, ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস এবং এরপর আবার ব্যর্থ- বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চেলসিকে হারিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া হুবেন অ্যামুরির দল সপ্তাহ ঘুরতেই জয়রথ থেকে ছিটকে পড়ল। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলটির বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের আনন্দে ভাসল ব্রেন্টফোর্ড।
নিজেদের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে ব্রেন্টফোর্ড। ইগো চিয়াসোর জোড়া গোলের পর, প্রথমার্ধেই একটি গোল শোধ করেন বেনিয়ামিন ইসকো। পেনাল্টি পেয়েও সমতা টানার সুযোগ নষ্ট করেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। শেষ দিকে দারুণ এক গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন মাথিয়াস ইয়েনসেন।
গত মৌসুমের ফিরতি লেগে মে মাসে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠেই রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াইয়ে ৪-৩ গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। সেই ক্ষতে প্রলেপ তো দিতে পারলই না, উল্টো আরেকবার হেরে দলটির ওপর চাপ বাড়ল আরও।
৮৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে টানা দুটি লিগ ম্যাচ জিতল ব্রেন্টফোর্ড।
এই জয়ে ছয় ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে উঠেছে ব্রেন্টফোর্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
প্রতিপক্ষের সাদামাটা এক আক্রমণ রুখে দিয়ে, দ্রুত শাণানো প্রতি-আক্রমণে ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করে ব্রেন্টফোর্ড। অষ্টম মিনিটে মাঝমাঠের আগে থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে গোলটি করেন চিয়াগো।
আট মিনিট পর আবার গোল খেতে বসেছিল গত সপ্তাহে চেলসিকে ২-১ গোলে হারানো ইউনাইটেড। এই যাত্রায় ফন দেন বাখ ও ন্যাথান কলিন্সের হেড দারুণ দৃঢ়তায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আলতাই বায়িন্দি।
তিন মিনিট পরই অবশ্য আরেকটি গতিময় পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চিয়াগোর পাস ধরেই এগিয়ে বাইলাইনে দুরূহ কোণ থেকে শট নেন কেভিন শাডা, গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ফেরালেও বল চলে যায় চিয়াগোর পায়ে। তার শটে ঝাঁপিয়ে বল হাত ছোঁয়ালেও রুখতে পারেননি আলতাই বায়িন্দি।
জোড়া গোল হজমের ধাক্কা সামলে ২৬তম মিনিটে একটি শোধ করে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। কাছ থেকে তৃতীয় প্রচেষ্টায় গোলটি করেন বেনিয়ামিন সেসকো। তার প্রথম হেড ও প্রথম শট আটকে দেন গোলরক্ষক, তৃতীয়বার আর পারেননি তিনি। নিচু জোরাল শটে গোলটি করেন স্লোভেনিয়ার ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয় গোলটি করার পর প্রথমার্ধে আর কোনো শটই নিতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড। বিরতির পরও বেশ খানিকটা সময় পার হওয়ার পর, ৬২তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করে তারা। এই যাত্রায় অবশ্য ডি-বক্সে অরক্ষিত দাঙ্গোর জোরাল শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি বায়িন্দি।
ওখানে বেঁচে যাওয়ার ১২ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইউনাইটেড। ডি-বক্সে ব্রায়ান এমবুমো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা; কিন্তু দু্র্বল স্পট কিকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস।
লিভারপুল ও ব্রেন্টফোর্ডের জার্সিতে এই নিয়ে সাতটি পেনাল্টি শটের (টাইব্রেকার ছাড়া) মুখোমুখি হয়ে চারটিই ঠেকিয়ে দিলেন আইরিশ গোলরক্ষক কুইভিন কেলেহার।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে চিয়াগোর বদলি নেমে পাঁচ মিনিটের মধ্যে দর্শনীয় গোলে জয় নিশ্চিত করেন ইয়েনসেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ডেনমার্কের এই মিডফিল্ডার।
দুই আত্মঘাতী, হলান্ডের জোড়া গোল, জয়ে ফিরল সিটি
ম্যাচের শেষ শটে লিভারপুলকে হারিয়ে দিল ক্রিস্টাল প্যালেস