ইংলিশ ফুটবল
Published : 27 Sep 2025, 10:17 PM
ফেদেরিকো চিয়েসা জালে বল পাঠানোর পর মনে হচ্ছিল সমতায় শেষ হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চকর লড়াই। কিন্তু অন্তিম সময়ে ব্যবধান গড়ে দিলেন এডি এনকেটিয়া। ম্যাচের শেষ শটে লিভারপুলের বিপক্ষে ক্রিস্টাল প্যালেসকে নাটকীয় এক জয় এনে দিলেন এই ফরোয়ার্ড।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শনিবার জমজমাট লড়াইয়ে ২-১ গোলে হেরেছে লিভারপুল। চলতি আসরে আর্না স্লটের দলের এটাই প্রথম হার।
নবম মিনিটে প্যালেসকে এগিয়ে নেন ইসমালিয়া সার। ৮৭তম মিনিটে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান চিয়েসা। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে খুব কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন এনকেটিয়া। ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে সেখানেই।
২৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নেয় প্যালেস, এর পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। কয়েকটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। অন্যদিকে, শিরোপাধারীরা ২০ শটের কেবল চারটি রাখতে পারে লক্ষ্যে। তিনটি চমৎকার সেভ করেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।
একটু ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম কর্নারে এগিয়ে যায় প্যালেস।
নবম মিনিটে স্বাগতিকদের একজনের চ্যালেঞ্জের মুখে গোলমুখে ছোট ডি বক্সে হেড করেন রায়ান খাফেনবেখ। জটলার মধ্য থেকে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন ইসমালিয়া সার।
দুই মিনিট পর দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধান। কিন্তু ডি বক্সের ভেতর থেকে কাছের পোস্টে সারের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আলিসন।
পিছিয়ে পড়ার পর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে লিভারপুল। তবে গতিময় প্রতি আক্রমণে বারবারই তাদের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় প্যালেস।
২২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি দারুণ সুযোগ পায় প্যালেস। দানিয়েল মুনিয়োসের শট দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন। ফিরতি বলে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মুনিয়োস।
পরের মিনিটে আবারও প্যালেসকে হতাশ করেন আলিসন। জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতার শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
২৮তম মিনিটে মোহামেদ সালাহর হেডে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আলেক্সান্দার ইসাক।
দশ মিনিট পর সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইব্রাহিমা কোনাতে। কর্নার থেকে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে মাতেতার গতিময় শট ব্যর্থ হয় পোস্টে লেগে! তিন মিনিট পর সালাহর শট ফিরিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন হেন্ডারসন। পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিভারপুল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্যালেসকে বেশ চেপে ধরে লিভারপুল। ৫৯তম মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল তারা। দমিনিক সোবোসলাইয়ের ক্রসে ফ্লোহিয়ান ভিহেৎসের শট অসাধারণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন প্যালেস গোলরক্ষক হেন্ডারসন।
পরের মিনিটে সুযোগ এসেছিল প্যালেসের সামনে। কিন্তু অরক্ষিত মাতেতা বরাবর ক্রস করতে পারেননি সার। কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন লিভারপুলের এক ডিফেন্ডার।
৬৪তম মিনিটে খুব কাছ থেকে আড়াআড়ি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইসাক। পরের মিনিটে মাতেতার হেড ফিরিয়ে দেন আলিসন।
৭০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন ইসাক। কার্টিস জোন্সের কর্নারে খুব কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।
ছয় মিনিট পর সোবোসলাইয়ের শট দূরের পোস্ট দিয়ে যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে পড়লেও নাগালে নাও পেতে পারতেন প্যালেস গোলরক্ষক। গোলের আশায় পা বাড়িয়ে দেন সালাহ, বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে!
৭৯তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এনকেটিয়া। মাতেতার ক্রসে খুব কাছ থেকেও বিস্ময়করভাবে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
৮৭তম মিনিটে সৌভাগ্যের এক গোলে সমতা ফেরায় লিভারপুল। একটি ক্রস হেড করে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন ক্রিস রিচার্ডস। সতীর্থের পায়ে লাগলে পেয়ে যান একটু আগে বদলি নামা চিয়েসা। তার শট কাছের পোস্ট ঘেঁষে জড়ায় জালে। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
ক্রসের মাঝপথে হেডের চেষ্টা করার সময় হাতও ওপরে তুলে দেন সালাহ। ভিএআরে হাত ছোঁয়ার নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়ায় গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।
মনে হচ্ছিল সমতায় শেষ হতে যাচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু একেবারে শেষ সময়ের নাটকীয়তায় জিতে যায় প্যালেস। লম্বা থ্রো এসে পরে অরক্ষিত এনকেটিয়ার পায়ে। খুব কাছ থেকে অনায়াসে জাল খুঁজে নেন এই ফরোয়ার্ড।
একটুর জন্য অফসাইড হননি এনকেটিয়া। ভিএআরে পরীক্ষার পর গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।
গত অগাস্টে কমিউনিটি শিল্ডে টাইব্রেকারে লিভারপুলকে হারিয়েছিল প্যালেস। এবার প্রিমিয়ার লিগে পেল এই দুর্দান্ত জয়।
৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে লিভারপুল। এই জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এলো আসরের একমাত্র অপরাজিত দল প্যালেস। তিন জয়ের সঙ্গে তিনটি ড্র করেছে তারা।
দুই আত্মঘাতী, হলান্ডের জোড়া গোল, জয়ে ফিরল সিটি
ফের্নান্দেসের পেনাল্টি মিস, ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে আবার হারল ইউনাইটেড