রক্ষণাত্মক ফুটবল নিয়ে আক্ষেপ নেই কুমানের
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও নেদারল্যান্ডস কোচ মনে করেন, পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও নিজেদের কৌশলে ভুল দেখছেন না রোনাল্ড কুমান। নেদারল্যান্ডস কোচ মনে করছেন, রক্ষণাত্মক ফুটবলের জন্য মরক্কোর বিপক্ষে তার দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল। যদিও সেটি হয়নি, টাইব্রেকারে হেরেছে ডাচরা।
মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটিতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকারে কুমানের দল হারে ৩-২ ব্যবধানে।
ডাচদের আক্রমণাত্মক ঘরানার ফুটবল থেকে সরে এসে মরক্কোর বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেন কুমান। পাঁচ ডিফেন্ডার নামানোয় তার সমালোচনা হয় বেশ। তবে সাবেক বার্সেলোনা কোচ মনে করেন, কোনো ভুল করেননি তিনি।
“এই রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য আমরা আগের ম্যাচের (গ্রুপ) চেয়ে কম বল হারিয়েছি। এটা ছিল ইতিবাচক কিন্তু আমরা এবার কম আক্রমণাত্মক ছিলাম।”
“কৌশল নিয়ে আপনি যা ইচ্ছা ভাবতে পারেন। তবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার চেয়ে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমরা এবার কম বল হারিয়েছি। যদি আমার সুযোগ থাকতো তাহলে আমি একই কাজ আবার করতাম।”
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না কুমান। সব বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। তবে তার মনে হচ্ছে, মরক্কো সমতা ফেরাতে না পারলে তার খেলার ধরণ নিয়ে এতো কথা হতো না।
“আমি এটা জানি যে, মরক্কো শেষ সময়ের গোলে সমতা ফেরাতে না পারলে ডাচ কোচ হিসেবে প্রচুর প্রশংসা হতো আমার। তবে এখন সম্ভবত, পাঁচ ডিফেন্ডার নামানোয় আমার ব্যাপক সমালোচনা হবে। তবে আবারও বলতে চাই, আমি মনে করি এটার দরকার ছিল।”
খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তারা সম্মতি দিয়েছিল, দাবি কোচের।
“আপনারা আমার সমালোচনা করবেন, সেই অধিকার আপনাদের আছে। তবে আপনারা খেলাটা দেখেন সাইডলাইন থেকে। আমি দলের পাশে আছি। আমি জানি, কোথায় উন্নতি করতে হবে। আমি সেখানে এখন উন্নতি করব। তবে আবারও বলছি, যদি আমার এটা করতে হয় তো আমি ঠিক একই কাজ আবার করব।”
“এটা ভীতির ব্যাপার নয়। কেন ভয় পাব? আমি বোঝাতে চাচ্ছি, আমার তিন জন স্ট্রাইকার ছিল মাঠে। ব্যাপারটা হলো রক্ষণের জন্য আরও ভালো অবস্থান নেওয়া, ভয়ের জন্য নয়। এটা ছিল প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আর এটা নিয়ে আমরা কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি না। আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে, আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু আমার দৃষ্টিভঙ্গী ভিন্ন।”
