‘অবিশ্বাস্য, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফল’

শেষের বাঁশি বাজতেই বাধনহারা উল্লাসে মাতলেন কিংসের খেলোয়াড়রা। সারাক্ষণ গ্যালারি মাতিয়ে রাখা কিংস সমর্থকরা সব বাধা উপেক্ষা করে ঢুকে পড়লেন মাঠে। তাদের সেলফি তোলার দাবি মেটাতে অস্কার ব্রুসন, আনিসুর রহমান জিকো, নুহা মারোংদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা। উৎসব, উন্মাদনার ফাঁকে দুই ম্যাচ বাকি রেখে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা বললেন কিংসের কোচ, খেলোয়াড়রা। সাফল্যের পেছনে ঐক্যের সুরই শোনালেন কোচ অস্কার ব্রুসন।

ক্রীড়া প্রতিবেদকমুন্সিগঞ্জ থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 02:53 PM
Updated : 18 July 2022, 02:54 PM

মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সোমবার সাইফ স্পোর্টিংকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় কিংস। দলের জয়ের নায়ক দুই দেশি ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া ও বিপলু আহমেদ।

২০ ম্যাচে ১৬ জয় ও তিন ড্রয়ে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে মুকুট ধরে রাখল ব্রুসনের দল। ২০০৭ সালে প্রিমিয়ার লিগ নামকরণের পর এ পর্যন্ত আবাহনী লিমিটেডেরই ছিল টানা তিন শিরোপা জয়ের কীর্তি। সে পাতায় নাম উঠল কিংসেরও। অবশ্য করোনাভাইরাসের থাবায় ২০১৯-২০ মৌসুমের লিগ ছয় রাউন্ডের পর বাতিল হয়ে যায়। তার আগের মৌসুম এবং ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ মৌসুমের লিগ জিতল দলটি।

ব্রুসনের হাত ধরে কিংস পেল সব মিলিয়ে ষষ্ঠ শিরোপার স্বাদ। এর মধ্যে ৩টি প্রিমিয়ার লিগ, ২টি ফেডারেশন কাপ ও একটি স্বাধীনতা কাপ। সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার ফাঁকে এই স্প্যানিশ কোচ জানালেন সাফল্যের নেপথ্যের কারণ।

“খুবই আঁটসাঁট ম্যাচ। সাইফ স্পোর্টিং প্রেসিং ফুটবল খেলেছে, দ্বিতীয় লেগের সেরা দল তারা। সাইফ স্পোর্টিং আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়েছে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। তবে পরিকল্পনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছি আমরা “

“সাফল্য পাওয়ার দুই ধরনের গোপন সূত্র আছে আমার কাছে। প্রথমটা হচ্ছে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাওয়া; চোট, রেফারি, ম্যাচ সূচি নিয়ে আমাদের তার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সব বাধা পেরিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য। খেলোয়াররা ঐক্যবদ্ধ ছিল, তারা ভীষণ কষ্ট করেছে, যার কারণে সাফল্য এসেছে।”

কিংসের বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করে রাখতে বেশি ব্যস্ত ছিল সমর্থকেরা। তাদের দাবি মেটাতে মেটাতেই ইরানি ডিফেন্ডার খালিশ শাফিই জানালেন সবকিছু অবিশ্বাস্য লাগছে তার কাছে।

“এটা অবিশ্বাস্য। বসুন্ধরা কিংসের লিগ শিরোপা জয়, আমার এখানে এসে সাফল্য পাওয়া, ফুটবল নিয়ে এ দেশের সমর্থকদের উন্মাদনা সবকিছুই আমার কাছে অবিশ্বাস্য।”

লিগে কিংসের শুরুটা হয়েছিল স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের কাছে হার দিয়ে। চোটও দফায় দফায় থাবা বসিয়েছিল। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পেরে দারুণ স্বস্তি অনুভব করছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।

“যখন আমাদের মৌসুম শুরু হয়, তখন তপু বর্মন এবং আরও অনেকে চোটে পড়ে। তাদের অনুপস্থিতিতে চিন্তাও করতে পারিনি, আমাদের মৌসুমটা এত সুন্দর হবে। প্রথম লেগের শুরুর দিকে তারিক কাজী চোট পেল, খালিদ শাফিইয়ের চোট ছিল, কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস ছিল।”

সে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে বসেছিল প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইয়াসিন আরাফাতের লাল কার্ডে। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে। শেষ দিকে দলের জয় নিশ্চিত করা বদলি ফরোয়ার্ড বিপলু জানালেন পাল্টা আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিলেন তিনি।

“এক গোলে এগিয়ে থাকার পর যখন আমাদের একজন লাল কার্ড পেল, তখনও আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমাদের লক্ষ্যই ছিল এখান থেকে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা। আমি বেঞ্চে বসে দেখছিলাম আমাদের পাল্টা আক্রমণের সুযোগ আছে, যেহেতু এই অর্ধে আমরা একটু ডিফেন্সিভ খেলছিলাম। তো বদলি নামার পর আমি প্রতি-আক্রমণের ওই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি।”

লিগে এ মুহূর্তে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল কিংস। এ ম্যাচেও দলটির পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে ছিলেন আনিসুর রহমান জিকো। লিগ জয়ের আনন্দের দিনে এই গোলরক্ষক মনে করিয়ে দিলেন আগামী দিনের করণীয়।

“২০১৮ সাল থেকে বসুন্ধরার সাথে আমার শুরু। কিংসের সঙ্গে আমার এই জার্নিটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিংসের একজন সদস্য হিসাবে গর্ববোধ করছি। দেশের মাঠে আমরা সাফল্য পেয়েছি, এখন দেশের বাইরে যে টুর্নামেন্টগুলো হয়, সেখানে আমাদের সাফল্য পেতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক