বিশ্বকাপ বাছাই
Published : 11 Oct 2025, 02:43 AM
চমৎকার ফ্রি কিকে দলকে পথ দেখালেন ডিফেন্ডার ডেভিড রাউম। এগিয়ে যাওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল জার্মানি। বেশিরভাগ সময় একজন কম নিয়ে খেলা লুক্সেমবার্গকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রেখে বড় জয় আদায় করে নিল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
নিজেদের মাঠে শুক্রবার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতেছে জার্মানি। আরেক ডিফেন্ডার জসুয়া কিমিখ করেন জোড়া গোল। তাদের আরেক গোলদাতা সের্গে জিনাব্রি।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষে উঠেছে জার্মানি।
একই সময়ে শুরু গ্রুপের আরেক ম্যাচে নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে গেছে প্রথম দুই রাউন্ডে জেতা স্লোভাকিয়া। এতে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে দলটি। আগের মতো দ্বিতীয় স্থানেই আছে নর্দান আয়ারল্যান্ড। এই তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ৬ করে।
তিন ম্যাচ খেলে সবগুলোই হেরেছে র্যাঙ্কিংয়ের ৯৬ নম্বর দল লুক্সেমবার্গ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মাঝে যেমন বিস্তর ফারাক, তেমনি মাঠের লড়াইও হলো একপেশে। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দ খুঁজে ফিরছিল জার্মানি, র্যাঙ্কিংয়ের সবশেষ হালনাগাদে তিন ধাপ পিছিয়ে ১২ নম্বরে নেমে গেছে তারা। তবে শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ পেয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলে, গোল উৎসব করে সেরা রূপে ফেরার আভাস দিল দলটি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় জার্মানি। তবে জিনাব্রির শটে বল নিক ভল্টামাডার হাতের পেছন দিকে লেগে জালে জড়ানোয়, ভিএআরে গোলের সিদ্ধান্ত আসেনি।
অসাধারণ নৈপুণ্যে আট মিনিট পরই সেই হতাশা ঘুচিয়ে দেন ডেভিড রাউম। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে লাইপজিগের এই ডিফেন্ডারের বাঁকানো ফ্রি কিকে বল রক্ষণ প্রাচীরের ওপর দিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে পায়।
২০তম মিনিটে একসঙ্গে জোড়া ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ডি-বক্সে ‘ইচ্ছাকৃত’ হ্যান্ডবল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার কার্লসেন এবং পেনাল্টি পায় জার্মানি। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জসুয়া কিমিখ।
৮০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে, একের পর এক আক্রমণে প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে জার্মানরা; কিন্তু জিনাব্রি-গোরেটস্কারা পারেননি বিরতির আগে ব্যবধান আর বাড়াতে।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটেই অবশ্য দুবার জালে বল পাঠিয়ে বড় জয়ের পথে ছুটতে থাকে চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
৪৮তম মিনিটে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড জিনাব্রি। এর দুই মিনিট পর গোলমুখে টোকায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বায়ার্ন ডিফেন্ডার কিমিখ।
৬২তম মিনিটে গোল হতে পারত আরেকটি। কিন্তু ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের ফ্রি কিক পোস্টে বাধা পায়।
বাকি সময়েও একইরকম চাপ ধরে রাখে জার্মানি। পুরো ম্যাচে প্রায় ৮৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩১টি শট নেয় তারা; যদিও এর কেবল আটটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে দলটি।
তাই জুন ও সেপ্টেম্বর মিলিয়ে টানা তিন হারের পর, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে টানা দুই জয়ের স্বস্তি মিললেও, আক্রমণভাগের এমন সুযোগ নষ্টের মহড়া ভাবনার কারণ হতে পারে কোচ নাগেলসমানের জন্য।
লুক্সেমবার্গ শট নিতে পারে কেবল একটি।