বিশ্বকাপ বাছাই
Published : 11 Oct 2025, 02:46 AM
ম্যাচজুড়ে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিল ফ্রান্স। দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়া কিলিয়ান এমবাপে পরে সতীর্থের গোলেও রাখলেন অবদান। ছয় বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পেলেন তোভাঁ। আজারবাইজানকে অনায়াসে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকেট পাওয়ার আরও কাছে পৌঁছে গেল দিদিয়ে দেশমের দল।
প্যারিসে শুক্রবার রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
জয়ের আনন্দের মাঝে দেশমের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কাঁটা হয়ে এসেছে এমবাপের সম্ভাব্য চোট। শেষ দিকে পায়ে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা। তার বদলি নেমেই গোল করেন তোভাঁ। অন্য গোলদাতা আদ্রিওঁ রাবিও।
৭৬ শতাংশের বেশি পজেশন রেখে গোলের জন্য মোট ৩৩টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রান্স। আজারবাইজান শট নিতে পারে স্রেফ একটি।
তিন ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ফ্রান্স। একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-৩ গোলে জয়ী ইউক্রেইন ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আইসল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে আজারবাইজান।
গ্রুপের শীর্ষ দল পাবে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট।
আজারবাইজানের বিপক্ষেও শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল ফ্রান্স, জিতল তিন ম্যাচের সবকটিতে। সবশেষ ৩০ বছর আগের দেখায় ফরাসিরা জিতেছিল ১০-০ গোলে, তার আগের বছর ২-০ গোলে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দুই ও ১২৪ নম্বর দলের লড়াইয়ে ম্যাচের ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই বড় সুযোগ পেয়ে যান এমবাপে। প্রতিপক্ষের ভুল পাসে বল পেয়ে এগিয়ে যান তিনি। সামনে বাধা ছিল কেবল গোলরক্ষক। ২০ গজ দূর থেকে এমবাপের শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
দশম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ফ্রান্স। এবার চেলসির রাইট-ব্যাক মালো গিস্তোর শট ঠেকান গোলরক্ষক।
আজারবাইজানের জমাট রক্ষণে খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ অবশ্য তৈরি করতে পারছিল না ফ্রান্স। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রায় একক নৈপুণ্যে দুর্দান্ত গোলে দলটিকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক।
বাঁ দিক থেকে থিও এরনঁদেজের পাস পেয়ে প্রথমে প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে আরও দুইজনের মাঝ দিয়ে ড্রিবল করে এগিয়ে যান এমবাপে। এরপর আরেকজনকে কাটান তিনি, সঙ্গে লেগে থাকা সতীর্থ উগো একিটিকের পা ঘুরে বক্সে বল পেয়ে আরেকজনকে কাটিয়ে, সামনে থাকা অন্য আরেকজনের পাশ দিয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল করলেন এমবাপে। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো ৫৩টি। ৫৭ গোল নিয়ে চূড়ায় আছেন অলিভিয়ে জিরুঁ।
দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের ওপর চাপ আরও বাড়ায় ফ্রান্স। ৪৯তম মিনিটে একিটিকের শট লাগে পোস্টে। একটু পর এমবাপের শট প্রতিহত হয় রক্ষণে। ৬৮তম মিনিটে কিফহেন থুরামের শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক।
পরের মিনিটেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। বাঁ দিক থেকে এমবাপের ক্রসে বক্সে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন রাবিও।
৭২তম মিনিটে গোলের জন্য একমাত্র শটটি নিতে পারে আজারবাইজান, সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট।
অস্বস্তি নিয়ে ৮৩তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান এমবাপে। তার বদলি নেমে পরের মিনিটেই স্কোরলাইন ৩-০ করেন তোভাঁ। থিও এরনঁদেজের ক্রস বক্সে বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, শরীরটা ঘুরিয়ে বাঁ পায়ের শটেই জালে পাঠান ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্সের হয়ে আগের ১০ ম্যাচের সবশেষটি তিনি খেলেছিলেন ২০১৯ সালের জুনে। ফেরাটা করে রাখলেন স্মরণীয়। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোল হলো ২টি।