ম্যাচ বন্ধের ভাবনা ছিল শাভির

কাদিসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়া দর্শককে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বার্সেলোনা কোচ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 11:25 AM
Updated : 11 Sept 2022, 11:25 AM

কেউ কেউ বলে থাকেন, জীবনের চেয়েও বড় ফুটবল। তবে দিন শেষে এটা স্রেফ আরেকটা খেলাই। সেটা আবারও বোঝা গেল কাদিস ও বার্সেলোনার ম্যাচে। গ্যালারিতে একজন দর্শক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হলে লম্বা সময় বন্ধ থাকে খেলা। তার খারাপ কিছু হয়ে গেলে ম্যাচ বাতিলের জন্যও প্রস্তুত ছিল দুই দল।

খুব দ্রুত চিকিৎসকরা প্রতিক্রিয়া দেখানোয় ঘটেনি তেমন কিছু। মাঠ থেকে সেই দর্শককে নিয়ে যাওয়া হয় হাসাপাতলে। এরপরই কেবল মাঠে গড়ায় বাকি সময়ের খেলা।

কাদিসের মাঠে শনিবার ৪-০ গোলে জেতে বার্সেলোনা। ৮১তম মিনিটে দলটি এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। দক্ষিণ গ্যালারিতে লুটিয়ে পড়েন একজন দর্শক। বন্ধ হয়ে যায় মাঠের খেলা। কাদিসের চিকিৎসক দলের একজন ‘ডিফিব্রিলেটর’ নিয়ে দ্রুত পৌঁছান তার কাছে।

একই সময়ে বার্সেলোনার ফিজিও কার্লোস নগেইরা আরেকটি ডিফিব্রিলেটর ছুঁড়ে দেন কাদিস গোলরক্ষক হেরেমিয়াস লেদেসমার কাছে। তিনি মাঠের উল্টো প্রান্তে দৌড়ে গিয়ে সেটি ছুঁড়ে দেন গ্যালারিতে। কাদিসের আরেক খেলোয়াড় হোসে মারি স্ট্রেচার নিয়ে ছুটে যান গ্যালারিতে।

কিছুক্ষণ পর সেই দর্শকের উন্নতির আভাস মেলে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পুয়ের্তা দেল মার হাসপাতালে। রোববার এক বিবৃতিতে কাদিস জানায়, সেখানেই আইসিইউতে চলছে চিকিৎসা।

প্রায় মিনিট বিশেক উৎকণ্ঠা নিয়ে মাঠে অপেক্ষা করেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। পরে তাদের ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে দেন রেফারি। অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর তারা মাঠে ফেরেন, পরে ভালোভাবেই শেষ হয় ম্যাচ।

পরে এক প্রতিক্রিয়ায় শাভি জানান, খেলা বন্ধ থাকার সময়টায় তারা কেবল ওই দর্শকের সুস্থতার কথাই ভাবছিলেন।

“এটি একটি ঘটনাবহুল পরিস্থিতি ছিল, আমাদের বলা হয়েছিল যে তিনি (অসুস্থ হয়ে যাওয়া দর্শক) পড়ে গিয়েছিলেন, অনেকে আবার বলছিল যে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যদি খারাপ কিছু হয়ে যেত, তাহলে আমরা ম্যাচটি স্থগিত করে দিতাম। তবে ভাগ্যক্রমে তার উন্নতি হয় এবং আমরা ম্যাচটি আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই।”

“আমরা একজন মানুষকে নিয়ে কথা বলছি এবং তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি ফুটবলের ওপরে। ভাগ্যক্রমে তিনি বিপদমুক্ত হয়েছেন এবং আমরা আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।”

শাভি জানালেন, বিষয়টি নিয়ে ড্রেসিংরুমেও দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের মধ্যে।

“লকার রুমে আমরা ওই দর্শকের সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। রেফারি খুব ভালো কাজ করেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের মত নিয়েছিলেন। একটা সময় এমন ছিল যখন তারা (রেফারি) আমাদের জানিয়েছিলেন যে, কিছুই করার নেই। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, যা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুটবলের চেয়ে একজন মানুষের জীবন ঊর্ধ্বে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক