Published : 01 Apr 2026, 06:06 PM
বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ নেচে, গেয়ে উদযাপন করছে তুরস্কে। প্লে অফ ফাইনালে জিতে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো দলটির স্বপ্নের পরিধি অনেক বড়। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আরও দূরে চোখ রাখছে দেশটি।
প্লে-অফ ফাইনালে মঙ্গলবার রাতে কসোভোকে ১-০ গোলে হারায় তুরস্ক। এতে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
ম্যাচের পর সারা দেশের মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। গাড়িতে করে পতাকা উড়িয়ে, শহরগুলোর প্রধান রাস্তায় জমায়েত হয়ে তারা উপযাাপন করেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরা।
কেবল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে তুরস্ক। তাদের সেরা সাফল্য হয়ে আছে ২০০২ আসরের সেমি-ফাইনালে খেলা।
ইস্তানবুলে ফিরে অধিনায়ক হাকান চালহানোলু বললেন, প্রাথমিক লক্ষ্য অবশ্যই গ্রুপ পর্ব পার হওয়া।
“বিশ্বকাপে সেরা উপায়ে আমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করব। জাতির জন্য এই খুশির উপলক্ষ বয়ে আনতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। আমাদের প্রথম লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। এরপর আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব। এই দলের ওপর আমার আস্থা আছে।”
২০০৫ সালে জন্ম রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার আর্দা গিলেরের। ২০০২ আসরে তুরস্কের খেলার হাইলাইটস দেখে বড় হওয়া প্রজন্মের একজন তিনি। চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাওয়াটা তার কাছে অনেক আবেগের।
“আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছি। হয়তো আজ রাতে আমরা ভালো খেলিনি; কিন্তু আমরা উতরে যেতে পেরেছি।”
“২০০২ বিশ্বকাপের (ভিডিও) দেখলে তা আমাদের মধ্যে শিহরণ জাগায়। এখন আমাদের সামনে সেই একই সুযোগ। কাউকে খাটো না করে আমরা সেখানে নিজেদের সেরাটা করার চেষ্টা করব।”
ওই আসরে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করা ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে হেরেছিল তুরস্ক। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১০.৮ সেকেন্ড গোল করেন হাকান সুকুর। বিশ্বকাপে যা এখনও দ্রুততম গোল।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমান দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সুকুর। প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়াও যে চালহানোলু, গিলেররা প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলতে পারবে, তাতে তিনি নিশ্চিত। গ্রুপে ইউরোপের আর কোনো দল না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হবে বলে মনে করেন তিনি।
তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ইব্রাহিম হাচিওসমানোলুর স্বপ্নটা আকাশছোঁয়া, “আমরা শিরোপা জিতব এবং সেটা ঘরে নিয়ে আসব।”