Published : 03 Mar 2026, 08:40 AM
পেলে-গারিঞ্চা-তোস্তাও থেকে শুরু করে জিকো-সক্রাতিস এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমারিও-রোনালদো-রোনালদিনিয়ো, যুগের পর যুগ মাঠ মাতিয়েছেন অসংখ্য প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড। যখনই কোনো বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ে, সময় হয় ব্রাজিলের স্কোয়াড গড়ার, তখনই দলটির কোচের জন্য মধুর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় অনেক তারকা আর সম্ভাবনাময়দের মাঝ থেকে কয়েকজনকে বেছে নেওয়া।
কোচ কার্লো আনচেলত্তির ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু নয়-ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়ার মতো নিয়মিতরা তো আছেনই; এছাড়াও আছেন আরও অনেক সম্ভাবনাময় এবং কোচের আস্থা প্রতিদান দেওয়া ফরোয়ার্ড, তাদের মধ্যে থেকেই বেছে নিতে হবে ইতালিয়ান কোচকে।
ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য পাওয়ার পর, আন্তর্জাতিক ফুটবলের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন আনচেলত্তি। কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই বর্ষীয়ান ফুটবল বোদ্ধা রেয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় চুকিয়ে গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব নেন ব্রাজিল জাতীয় দলের। তার হাত ধরেই স্বপ্নের ‘হেক্সা’ জয়ের আশায় আছে ব্রাজিলের মানুষ।
কয়েক বছরের ব্যর্থতা ও অধারাবাহিকতার হতাশা পেছনে ফেলে নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছে ব্রাজিলের ফুটবল। আনচেলত্তির কোচিংয়ে তার কিছুটা আভাসও মিলেছে বটে। ধারাবাহিকতা এখনও না ফিরলেও, পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা যাচ্ছে, আর এখানে তাদের আক্রমণভাগের অবদান উল্লেখযোগ্য।
ব্রাজিলের কোচ হিসেবে এখন পর্যন্ত আট ম্যাচের জন্য চারবার দল ঘোষণা করেছেন আনচেলত্তি এবং এই ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করলে ধারণা মেলে, চূড়ান্তভাবে ৪-৪-২ ফর্মেশনেই হয়তো খেলার পরিকল্পনা আঁটছেন তিনি।
ভিনিসিউস, এস্তেভোঁ ও মাথেউস কুইয়াকে নিয়মিত খেলিয়েছেন এবং তারা যে কোচের পরিকল্পনায় আছেন, সেটা একরকম পরিষ্কার। তবুও, একটা প্রশ্ন রয়েই যায়, দলের চতুর্থ ফরোয়ার্ড বা শেষ ফরোয়ার্ড কে হবেন?
আনচেলত্তির মাথাব্যথার কারণ মূলত এই প্রশ্নেই লুকিয়ে আছে।
তার কোচিংয়ে জুন ও সেপ্টেম্বরের চারটি ম্যাচে দলে সুযোগ পাননি রদ্রিগো; কিন্তু বছরের শেষ চারটি ম্যাচে সবগুলোই খেলেন তিনি। অক্টোবরে দলে ফেরার ম্যাচে জোড়া গোলও করেন এই রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
তবে এ ক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না, আরেক তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া চোটের জন্য গত বছরের ওই চার ম্যাচে খেলতে পারেননি। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য যে তার পুরোপুরি আছে, তাতে কোনো সন্দেহই নেই। বার্সেলোনার জার্সিতে সেই প্রমাণও তিনি দিয়েছেন।
এ তো গেল দলটির আক্রমণভাগের মুখগুলোর কথা। আনচেলত্তির আক্রমণের কৌশলও নির্দিষ্ট কোনো ছকে আটকে থাকে না, এমনভাবে তিনি পরিকল্পনা সাজান, যেন পরিস্থিতির বিবেচনায় ছক বদলে ফেলা যায়।
ভাণ্ডারে অস্ত্রের কমতি না থাকায়, ৪-২-৩-১ কিংবা ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজাতেও সমস্যা হয় না আনচেলত্তির। প্রতিপক্ষ বিবেচনায় যখন-তখন কৌশল বদলে ফেলতে পারেন তিনি।
ঢের পরিকল্পনা আর কৌশলের ছক এবং অনেক নাম নিয়ে আলোচনার ফাঁকে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দলের আক্রমণত্রীর সদস্য তোস্তাও নিজের মত জানিয়েছেন ফোলিয়া দে সাউ পাউলোতে লেখা কলামে।
“বিশ্বকাপে (ব্রাজিল দলে) সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে কে খেলবে, এই আলোচনার কোনো শেষ নেই, প্রতি সপ্তাহেই নতুন একটা নাম সামনে আসছে, ভিনিসিউস জুনিয়রের কথা কখনও বলা হচ্ছে না।”
“এই পজিশনে, মাঝখানে সে নিয়মিত শুরুর একাদশে খেলেছে এবং রেয়াল মাদ্রিদে যে পজিশনে খেলে তার চেয়ে ওপরে। একইরকমভাবে, আগে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা মাথেউস কুইয়া এখন ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে। রাফিনিয়া ফিরলে সে কুইয়ার পজিশনে খেলতে পারে অথবা উইংয়ে রদ্রিগো কিংবা এস্তেভোঁর জায়গায় খেলতে পারে।”
“আক্রমণের আরেকটি ধরন হতে পারে, ভিনিসিউসকে বাঁদিকে রেখে এবং রাফিনিয়াকে মাঝে কিংবা ডানদিকে খেলানো যেতে পারে, তাদের মাঝে থাকবে একজন সেন্টার-ফরোয়ার্ড। এই পজিশনে সবার মুখে এখন একটাই নাম জোয়াও পেদ্রো। সে দারুণ দক্ষ ও সৃজনশীল খেলোয়াড়, যে মাঠের অনেকটা জায়গা নিয়ে খেলে এবং অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলে অবদান রাখেন।”
এই বিতর্কে দুটি বিষয়ই কেবল সুনিশ্চিত: এই আক্রমণভাগের সম্ভাবনা অনেক, আর খেলার আক্রমণাত্মক ধরণ বজায় রাখতে আনচেলত্তির সবার আগে প্রয়োজন ফরোয়ার্ডদের শতভাগ নিবেদন ও যথাযথ সমন্বয়।
গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পরপরই আনচেলত্তি যেমন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দলগত ফুটবলে জোর দিতে বলেছিলেন।
“যখন দলের সবাই খেলার প্রতি নিবেদিত থাকে, তখন তাদের পারফরম্যান্সে দ্যূতি সবকিছু আলোকিত করে। তাদের নিবেদন তখন সবাই দেখতেই পায়। এই দলের অনেক ব্যক্তিগত মেধাসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, সেটা এখন মেলে ধরার পালা।”
ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে বারবার আনচেলত্তি বলেছেন, দল বাছাইয়ের সময় তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন খেলোয়াড়দের ফিটনেস, তাদের কৌশলগত বৈচিত্রতা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম। এখন পর্যন্ত যে চারটি স্কোয়াড তিনি ঘোষণা করেছেন, তাতে মোট ১৩ জন ফরোয়ার্ডকে ডেকেছেন।
তাই জুন-জুলাইয়ের বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল নির্বাচনে আনচেলত্তির হাতে খেলোয়াড়ের কমতি নেই। এক্ষেত্রে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা চলছে, সেটাই নিচে তুলে ধরা হলো।
আনচেলত্তির চার স্কোয়াডেই ছিলেন যে তিন ফরোয়ার্ড: এস্তেভোঁ, মাথেউস কুইয়া ও রিশার্লিসন
আনচেলত্তি যে চারবার দল ঘোষণা করেছেন, তার প্রতিটিতেই ছিলেন এই তিন ফরোয়ার্ড।
তরুণ চেলসি তারকা এস্তেভোঁর এবার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার দারুণ সম্ভাবনা; ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার দেশের সবশেষ চার ম্যাচে চারটি গোল করেছেন। স্বদেশের ক্লাব ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার অভিষেক মৌসুমেই চেলসি সমর্থকদের পছন্দের খেলোয়াড়ও হয়ে উঠেছেন তিনি।
এই তিন জনের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ রিশার্লিসন। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মূল্যবান গোল করে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার খ্যাতি আছে তার। যদিও আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে প্রতিবার ডাক পেলেও খুব বেশি সময় খেলার সুযোগ পাননি তিনি। আর শেষ দুই ম্যাচে তো বেঞ্চেই কাটাতে হয় পুরোটা সময়।
মাইকেল ক্যারিকের কোচিংয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যে মাঠে নতুন শুরুর বার্তা দিয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে কুইয়ার। ব্রাজিল দলে অবশ্য তিনি অনেকটা সহায়কের ভূমিকায় খেলে থাকেন, সতীর্থদের মাঝে যোগসূত্রের মতো।
ভিনিসিউস, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও লুইস এইহিক
পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে ভিনিসিউসকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ দুই ম্যাচের দল থেকে তাকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। অবশ্য এই রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের তখন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও ছিল। তাই এক ম্যাচের জন্য তাকে স্কোয়াডে যোগ না করে বিশ্রাম দেওয়াটাই সঠিক মনে করেছিলেন কোচ।
তবে আসছে বিশ্বকাপের দলে ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের ডাক না পাওয়ার কোনো কারণই নেই। সাম্প্রতিক সময়ে রেয়ালের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মেও আছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে মার্তিনেল্লি এখনও নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি ঠিকই; তবে এই মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের হয়ে বেশ কিছু দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি, কয়েকটি ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন তিনি। বিশেষ করে গতি আর রক্ষণ ভেঙে ভেতরের দিকে কোনাকুনি ছুটে গোল করার সামর্থ্য দিয়ে আনচেলত্তির আস্থা অর্জন করতে পারেন তিনি।
মূলত ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে কোচকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন এইহিক। যদিও চলতি মৌসুমে ক্লাব বা জাতীয় দল, কোথাও নিয়মিত গোলের দেখা পাননি জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের এই রাইট উইঙ্গার।
রাফিনিয়া, রদ্রিগো ও জোয়াও পেদ্রো
অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন রাফিনিয়া কয়েক মৌসুম ধরে বার্সেলোনার আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। প্রায় সময়ই প্রশংসা কুড়িয়েছেন কাতালান ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিকের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চোট বেশ ভুগিয়েছে জাতীয় দলের হয়ে ৩৬ ম্যাচে ১১টি গোল করা এই ফুটবলারকে। আনচেলত্তির সময়ে মাত্র তিনটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন তিনি, গোল পাননি একটিও, খেলতে পারেননি সবশেষ চারটি ম্যাচে।
তাই রাফিনিয়াকে দলে রেখে আনচেলত্তির আক্রমণের ফর্মেশন কেমন হবে, সেটাও দেখার বিষয়।
রদ্রিগো যদিও আনচেলত্তির প্রথম দুই স্কোয়াডে ছিলেন না; কিন্তু পরের চার ম্যাচেই তিনি খেলেন। এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে তার ভূমিকা ছিল দুর্দান্ত, গোলও করেছিলেন দুটি এবং কোচের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
তবে তাকে ঘিরে কিন্তুর জায়গা আছে, রেয়াল মাদ্রিদের একাদশেই যে এখনও নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি তিনি।
আনচেলত্তি আসার পর মাত্র তিনটি ম্যাচেই খেলতে পেরেছেন পেদ্রো, তার দুটি আবার বদলি হিসেবে। তবে, দারুণ প্রতিভাবান এই ফরোয়ার্ড গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে দারুণ পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। চেলসির জার্সিতে ওই অভিষেক টুর্নামেন্টে তিন গোল করার পর, প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল করেছেন তিনি।
ব্রাজিল দলে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে কোচের পছন্দ হয়ে উঠতে পারেন ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বড় বাজি হতে পারে যে দুটি নাম
এই দুইয়ের একজন, সেলেসাওদের প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে বড় নাম নেইমার। যার কাঁধে ভর করেই গত তিন বিশ্বকাপে শিরোপা স্বপ্ন দেখেছিল দেশটির মানুষ, কিন্তু কোনোবারই তা আলোর মুখ দেখেনি। আর গত কয়েক বছরে তো একের পর এক চোটের ছোবলে নিজেকে হারিয়েই ফেলেছেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
তবে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তিনি এখনও দেখেন। সবশেষ চোটের ধাক্কা কাটিয়ে সান্তোসের হয়ে মাঠেও ফিরেছেন নেইমার; কিন্তু কোচ আগেই বলেছেন, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে না পেলে কাউকে দলে ডাকবেন না তিনি, সে যত বড় নামই হোক না কেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসে রেকর্ড ৭৯টি গোল করা এই তারকা সবশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
নেইমারের বিদায় বেলায় প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছেন তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে তার শুরুটা ছিল চমক জাগানিয়া। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অভিষেকের পরের বছর, টানা তিনটি প্রীতি ম্যাচে গোল করেন তিনি (ইংল্যান্ড, স্পেন ও মেক্সিকোর বিপক্ষে)।
কিন্তু সেই ফর্ম পরে আর ধরে রাখতে পারেননি ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফুটবলার। রেয়াল মাদ্রিদ তারকায় ঠাসা দলে চলতি মৌসুমে খুব একটা খেলার সুযোগও পাননি তিনি। কিন্তু চোখে যে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন, তাই জানুয়ারির দলবদলে ধারে পাড়ি জমান লিওতে। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে নিজেকে চেনানোর কাজ নতুন করে শুরু করেছেন, একটি হ্যাটট্রিকসহ গোল করেছেন পাঁচটি।
সবশেষে আবার সেই শুরুর প্রশ্ন- প্রতিষ্ঠিত, তরুণ, প্রতিভাবান ফরোয়ার্ডদের ভিড়ে কাদেরকে নিয়ে উত্তর আমেরিকায় যাত্রা করবেন কার্লো আনচেলত্তি?