জার্সিতে তিন নম্বর তারকা যোগ করাই একমাত্র লক্ষ্য রাবিওর
আর লক্ষ্য পূরণে কী করতে হবে, কোথায় সতর্ক থাকতে হবে-সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বললেন করলেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপে অভিষেক আসরটা আবেগের জায়গা থেকে আদ্রিওঁ রাবিওর কেটেছিল অনেকটা রোলারকোস্টারের মতো। একদম শুরুর ম্যাচের শুরুতেই পেয়ে যান জালের দেখা, আসর জুড়েও পারফর্ম করেন দারুণ, সবশেষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ফাইনালে শেষটা তাদের হয় হতাশায়। সেই অপূর্ণতা এবার দূর করতে মরিয়া এই ফরাসি মিডফিল্ডার এবং দারুণ আত্মবিশ্বাসীও তিনি।
চার বছর আগে, ২৭ বছর বয়সে অভিজ্ঞ ফুটবলার হিসেবেই সবচেয়ে বড় মঞ্চে অভিষেক হয় রাবিওর। কাতার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যাত্রা শুরুর ম্যাচে নবম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে ওই সময়ের শিরোপাধারীরা। ওই ধাক্কা সামলে মিনিট বিশেক পর রাবিওর গোলেই সমতায় ফেরে ফ্রান্স এবং ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতে তারা।
ওই আসরে দলকে ফাইনালে তোলার পথে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে খেলেন রাবিও, এর চারটিই শুরুর একাদশে। অসুস্থতার কারণে তিনি খেলতে পারেননি সেমি-ফাইনালে। দ্রুত সুস্থ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের শুরু থেকেই মাঠে নামেন এই সেন্টার-মিডফিল্ডার এবং অনেকের মতে, টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর শিরোপা লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের পুরোটা খেলেন রাবিও।
উত্তেজনা ঠাসা বারবার মোড় বদলের সেই ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ সমতার পর, টাইব্রেকারে হেরে যায় ফ্রান্স। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ওই ফাইনালের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর, ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেদিনে ফিরে তাকালেন রাবিও। লুসাইল স্টেডিয়ামে সেদিন শেষটা ফরাসিদের জন্য একরাশ হতাশায় হলেও, এখন সেই স্মৃতিটা রাবিওর জন্য বেশ সুখেরই!
“সত্যি বলতে, সেদিনের সবকিছু যেন আবেগের মিশ্রন। আমার জীবনের খুবই উল্লেখযোগ্য একটা স্মৃতি, যদিও শেষ পর্যন্ত সেটা পরাজয়ে শেষ হয়েছিল। পূর্বে আমার যত অভিজ্ঞতা হয়েছে, তরুণ আদ্রিওঁর জীবনের প্রেক্ষাপটে, যে মাত্র ছয় বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেছিল, এই সব কিছুর বিবেচনায় সেই দিনটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল।”
“একজন তরুণ ফুটবলার হিসেবে এই স্বপ্নটাই আমি সবচেয়ে বেশি দেখতাম। সময়টা ছিল খুব আবেগের। যদিও আমরা হেরে গিয়েছিলাম, তবুও স্মৃতিটা ভালোই ছিল বলতে হবে, কারণ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারা সুন্দর একটা স্মৃতি হয়েই মনে থাকে। এমন কিছু প্রতিদিন ঘটে না, সবাই তা করতেও পারে না।”
ওই পরাজয়ের ধাক্কা সামলে খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান রাবিও। এমনকি সেদিনের ওই তেতো স্বাদকে পরবর্তীতে প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগান বলে নিজেই জানান তিনি। ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার জানালেন, ওই ফাইনালের পরপরই নিজের কাছে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি।
“ঠিক আছে, চার বছর পর দেখা হবে, এবং এইবার আমরা জিতব।”
নিজেকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখার সময় হয়েছে রাবিও ও তার সতীর্থদের। আর চার সপ্তাহ পরেই পর্দা উঠবে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের এবং বেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে দলটি। ‘আই’ গ্রুপে তাদের তিন প্রতিপক্ষ সেনেগাল, ইরাক ও আসরের চমক হয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখা নরওয়ে।
আসছে আসরে অবশ্য সবচেয়ে ফেভারিট দলগুলোর একটি ফ্রান্স। দিদিয়ে দেশমের স্কোয়াড তারকায় ঠাসা, প্রতিটি পজেশনেই সেরা সব বিকল্পে ভরা। স্বাভাবিকভাবে তাদের প্রতি প্রত্যাশাও অনেক বেশি। এতে বাড়তি চাপ যোগ হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নে রাবিও বললেন, দুর্ভাবনার কিছু নেই।
“এতে বাড়তি চাপ তৈরি হয় না, কারণ চার বছর আগেও আমাদের ঘিরে মোটামুটি একইরকম পরিস্থিতি ছিল, তখন আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। ২০২২ সালের আসরে, মানুষ নিশ্চয় আমাদেরকে ফেভারিট হিসেবেই দেখেছিল। আমাদের দলটা শক্তিশালী, নিজেদের শক্তিমত্তা নিয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে, তবে অহংকারী বা অতি-আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না।”
