২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 23 May 2026, 09:07 AM
মাঠের বাইরে হয়তো নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে রাখেন মাইকেল ওলিসে। মাঠের ভেতরে একদমই নয়। দারুণ গতি, দুই পায়ের চমৎকার কারিকুরিতে নিজেকে মেলে ধরেন ফরাসি উইঙ্গার। বায়ার্ন মিউনিখে স্রেফ দুই বছরে রাইট উইং পজিশন নিজের করে নিয়েছেন তিনি। বাভারিয়ার দলটির আক্রমণভাগে হয়ে উঠেছেন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে তৃতীয় শিরোপা জিততে এই ওলিসেকেই চায় ফ্রান্স।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ফ্রান্সের উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে।
ফুটবলের আঙিনায় ওলিসের অর্জন
নাইজেরিয়ান বাবা ও ফ্রাঙ্কো-আলজেরিয়ান মায়ের সন্তান ওলিসের বেড়ে ওঠা পশ্চিম লন্ডনের হেমারস্মিথে। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব রিডিংয়ের হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু, ২০১৯ সালের মার্চে।
২০২১ সালের জুলাইয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেন ওলিসে। তিন মাস পর একবিংশ শতাব্দীতে ক্লাবটির হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোলের কীর্তি গড়েন তিনি।
দুর্দান্ত ফুটবলে অনেক বড় ক্লাবেরই নজর কাড়েন ওলিসে। শেষ পর্যন্ত তিনি যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে।
জার্মান কাপ দিয়ে নতুন ক্লাবে অভিষেক হয় ফরাসি ফরোয়ার্ডের। ৭৭তম মিনিটে বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যেই গোলে অবদান রাখেন তিনি।
এরই মধ্যে জিতেছেন দুটি বুন্ডেসলিগা ও একটি জার্মান সুপার কাপ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও ক্যারিয়ারের শুরুতেই ওলিসে দেখান নিজের সামর্থ্য। ২০২৪ সালের অলিম্পিকে থিয়েরি অঁরির কোচিংয়ে খেলেন তিনি। দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পথে দুটি গোল করেন, অবদান রাখেন পাঁচ গোলে।
নজর কাড়া ফুটবলে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিষেক হয় ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টম্বর, ইতালির বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচ দিয়ে।
নাম্বার টেন হিসেবে নয়, ফ্রান্স দলে নিজের পছন্দের পজিশন ডান দিকে খেলছেন ওলিসে। অল্প সময়েই হয়ে উঠেছেন ফ্রান্সের আক্রমণের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

সতীর্থ, কোচ ও কিংবদন্তিদের চোখে ওলিসে
“বর্তমানে সে বিশ্বের সেরা উইঙ্গার। সে প্রচুর সুযোগ তৈরি করে এবং ড্রিবল করতে ভয় পায় না। আমি মনে করি, সে আমাদের মূল খেলোয়াড়দের একজন।”
- হ্যারি কেইন
“টেকনিক্যাল সামর্থ্যের দিক থেকে সে একজন পার্থক্য সৃষ্টিকারী এবং সে খুবই সম্ভাবনাময়।”
- দিদিয়ে দেশম
“সে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হবে। সে ঠিক পথেই আছে… সে সব সঠিক কাজ করছে।”
- ভেঁসো কম্পানি
“মাইকেল ভিন্ন ঘারানার একজন খেলোয়াড়। সে খেলায় যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা ব্যতিক্রমী; চোখ নয় সে যেন মনেই এটা দেখে ফেলে।”
- থিয়েরি অঁরি
“সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। যে কোনো ফুটবল ভক্তর জন্য তার খেলা দেখা আনন্দদায়ক।”
- লুইস ফিগো

পরিসংখ্যানের আলোয় ওলিসে
২০২৪ অলিম্পিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট ছিল ওলিসের। সঙ্গে দুটি গোলও করেন তিনি। আসরে ফ্রান্সের ১৪ গোলের অর্ধেকের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি।
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩০টি অ্যাসিস্ট করেছেন ওলিসে, এই শতাব্দীতে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো ফরাসি খেলোয়াড়ের জন্য যা সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে ১০৫ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন ওলিসে, অবদান রেখেছেন ৫৩ গোলে।
চলতি মৌসুমে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ওলিসের (৫২) চেয়ে বেশি গোলে জড়িয়ে আছেন কেবল হ্যারি কেইন (৬২)।
২০২০-২১ মৌসুমে ইংলিশ ফুটবল লিগে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন ওলিসে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ওলিসে ও ফ্রান্সের প্রত্যাশা
পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিলের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার হাতছানি ফ্রান্সের সামনে। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা চার বছর পর হয় রানার্সআপ।
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা বিশ্ব মঞ্চে তৃতীয় শিরোপা চায় এবার। কিলিয়ান এমবাপে, উসমানে দেম্বেলে ও ওলিসেকে নিয়ে ফ্রান্স পেয়েছে ভীতিকর এক আক্রমণভাগ।
প্রতিভার ছড়াছড়ি ফ্রান্স দলে। জায়গার জন্য লড়াই তাই তীব্র। হায়ান শেহকি, দিজিরে দুয়ের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে দলটির শক্তি যেমন বেড়েছে, গভীরতাও বেড়েছে।
ফেভারিটদের একটি হিসেবে বিশ্বকাপে খেলবে ফ্রান্স। এই আসর দিয়ে দলের কোচ হিসেবে ১৪ বছরের দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি টানবেন দেশম। তাকে বিদায় জানানোর সেরা উপায় হবে, শিরোপা। সেই চেষ্টাই করবেন ওলিসেরা।