Published : 12 Mar 2026, 04:29 AM
গোলরক্ষকের লম্বা পাস ধরে অসাধারণ নৈপুণ্যে গোলরক্ষকসহ দুজনকে কাটিয়ে গোল, নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল এবং চোখের পলকে ছুটে গিয়ে দারুণ ভঙ্গিমায় গোল- এভাবেই ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক উদযাপন করলেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। অধিনায়কের নৈপুণ্যে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে রইল রেয়াল মাদ্রিদ।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। ব্যবধান আরেকটু বড় হতে পারতো, কিন্তু পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস জুনিয়র।
পুরো ম্যাচে ৪০ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য রেয়াল ১২টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে সিটির আট শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে।
সিটি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মার ভুল এবং অধিনায়ক ভালভের্দের দারুণ নৈপুণ্যে ২০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আলভারো আরবেলোয়ার দল।
থিবো কোর্তোয়া লম্বা করে শট নেন প্রতিপক্ষের সীমানায়, সেখানে ছিলেন নিকো ও’রাইলি, প্রথম ছোঁয়ায় তাকে ফাঁকি দিয়ে সামনে বল বাড়ান ভালভের্দে। বিপদ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান দোন্নারুম্মা; কিন্তু বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে পারেননি তিনি। বলে আরেক ছোঁয়ায় তাকেও পরাস্ত করে, দূরুহ কোণ থেকে নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার।
সাত মিনিট পর আরেকটি দারুণ গোল করেন ভালভের্দে। এবার ভিনিসিউসের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসের পায়ে লেগে পেয়ে যান তিনি। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে জায়গা বানিয়ে কোনাকুনি শটে দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার।
তার হ্যাটট্রিক গোলটি আরও চমৎকার। ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে দারুণভাবে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন ব্রাহিম দিয়াস। বলে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ছোঁয়ায় আরেক জনের চ্যালেঞ্জ সামলে, ঠাণ্ডা মাথার ভলিতে গোলটি করেন ভালভের্দে।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের ৩৮ ম্যাচে তিনটি গোল করেন ভালভের্দে, লা লিগায় দুটি ও স্প্যানিশ সুপার কাপে একটি। এবার এক ম্যাচেই জালে বল পাঠালেন তিনবার। সিনিয়র ফুটবলে এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে এটাই তার প্রথম হ্যাটট্রিক।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের ৭৫টি ম্যাচে তিনটি গোল করতে পেরেছিলেন ভালভের্দে। এবার সিটির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করলেন তিনি।
চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যামসহ কয়েকজনকে আগেই হারানো রেয়াল শিবিরে বিরতির সময় মেলে আরেক দুঃসংবাদ। ডিফেন্ডার ফেরলঁদ মঁদি আবার চোট পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে তার জায়গায় নামেন ফ্রান গার্সিয়া।
এই অর্ধের খেলা শুরু হতেই আবার আক্রমণ শাণায় রেয়াল। ডি-বক্সে একজনকে কাটিয়ে জোরাল শট নেন দিয়াস, ঝাঁপিয়ে সেটা আটকে দেন দোন্নারুম্মা।
৫৬তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস। গতিময় প্রতি-আক্রমণে তিনি ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও কাটানোর চেষ্টা করেন, তাকে আটকাতে না পেরে ফাউল করে বসেন দোন্নারুম্মা। বাজে পেনাল্টির বাঁশি; কিন্তু ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দুর্বল স্পট কিক রুখে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক।
বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও, টানা আক্রমণে চাপ ধরে রাখে রেয়াল। সুযোগও আসতে থাকে; যদিও চতুর্থ গোলের দেখা আর পায়নি তারা।
৬৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ একটি সুযোগ পায় সিটি; বল যাচ্ছিল গোলমুখে ফাঁকায় আর্লিং হলান্ডের কাছে, মাঝে দুর্দান্তভাবে স্লাইড করে দলকে বাঁচান আন্টোনিও রুডিগার।
ম্যাচের শুরু থেকেই রেয়ালের রক্ষণ ছিল জমাট, আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু মুহূর্তের ভুলে গোল খেতে বসেছিল তারা। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার থিয়োগো পিনার ডি-বক্সে বল ক্লিয়ার করতে দেরি করেন, পাশেই থাকা নিকো ও’রাইলি সুযোগ পেয়েই শট নেন, ক্ষিপ্রতায় পা দিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া।
কিছুটা সময় সিটির মধ্যে মরিয়া ভাব দেখা যায়। যদিও কাজের কাজ কিছু করতে পারেনি তারা। নিজের ছায়া হয়ে থাকা হলান্ডকে তুলে ওমার মার্মুশকে নামান সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। তিনিও পারেননি তেমন কিছু করে দেখাতে।
ভিনিসিউসের পেনাল্টি আটকে দোন্নারুম্মা দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ এনে দিলেও, হলান্ড-সিলভারা পারলেন না কাজে লাগাতে। তবে, লড়াইটা দুই লেগের হওয়ায় তাদের সম্ভাবনা এখনও আছে যথেষ্টই।
ফিরতি লেগ তো হবে তাদের মাঠেই, আগামী মঙ্গলবার।
আরও পড়ুন