Published : 27 Feb 2026, 12:58 PM
গোল করেই ঠোঁটে আঙুল চেপে মাঠের এক প্রান্তে ছুটলেন নেইমার। কর্নার স্ট্যান্ডের সামনে গিয়ে শুরু করলেন নান্দনিক নাচ। গোটা ফুটবল বিশ্ব এখন এই নাচের সঙ্গে পরিচিত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকার বিপক্ষে এভাবে নেচেই তো কিছুদিন আগে হলুদ কার্ড দেখেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র! পরে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি করেছেন অভিযোগ। একইভাবে উদযাপন করে ব্রাজিলিয়ান সতীর্থের জন্য যেন ভালোবাসা আর সমর্থনের বার্তাই পাঠালেন নেইমার।
শেষ নয় সেখানেই। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ফিনিশিংয়ে আরেকটি গোল করে সান্তোসকে জেতালেন তিনি। ম্যাচের পর কড়া ভাষায় জবাব দিলেন সমালোচকদের।
ব্রাজিলিয়ান সেরি আর ম্যাচটিতে ভাস্কো দা গামাকে ২-১ গোলে হারায় সান্তোস। নতুন মৌসুমে চতুর্থ ম্যাচে তাদের প্রথম জয় এটি।
দলের প্রথম জয়ে অবদান রেখে বছরে প্রথম গোলের স্বাদ পান নেইমার। গোছানো আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি ২৫তম মিনিটে।
গোলের পর সেই নেচে উদযাপন। সেটি যে ভিনিসিউসের জন্যই ছিল, তা পরে নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার। সামাজিক মাধ্যমে নাচের ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, "নাচো ভিনি।"
প্রথমার্ধেই সমতা ফেরায় ভাস্কো দা গামা। ৬১তম মিনিটে দ্বিতীয়বার দলকে এগিয়ে নেন নেইমার। এবারের গোলটিতে ছিল তার সেরা সময়ের ঝলক।
মাঝমাঠের একটু ওপরে প্রতিপক্ষের একজনে মাথা ছুঁয়ে আসা বল ছুটে গিয়ে ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান তিনি। বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চলন্ত বল চিপ করে দারুণভাবে জালে পাঠান ৩৪ বছর বয়সী তারকা।
সেই গোলই ব্যবধান গড়ে দেয় ম্যাচে।
জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। চোটজর্জর ক্যারিয়ারে আরেক দফায় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে বছরের শুরুতে অস্ত্রোপচার করায়। এরপর মাঠে ফিরে লড়ছিলেন ছন্দ খুঁজে পেতে। সমালোচনার শিকার হতে হয় সেজন্য। জোড়া গোলে মাঠে জবাব দেওয়ার পর তার কণ্ঠেও ফুটে উঠল সেই ধার।

“গত সপ্তাহে তারা বলেছিল, আমি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে ফুটবলার। আজকে আমি দুটি গোল করেছি এবং এটিই গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল এরকমই। একদিন আপনি কেউ নন, আপনাকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, পরদিন লোকে বলছেম আপনাকে বিশ্বকাপে লাগবেই লাগবে।”
নেইমারের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে ছোট্ট একটি পদক্ষেপ এই পারফরম্যান্স। পথের যদিও অনেক বাকি। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বারবারই বলে আসছেন, ফিট হয়ে উঠলেই কেবল বিশ্বকাপ দলে জায়গা দেওয়া হবে নেইমারকে।
ব্রাজিলের ইতিহাসের সফলতম গোল স্কোরার বললেন, তিনি চেষ্টার কমতি রাখছেন না।
“আমি নিবেদিত রেখেছি নিজেকে এবং সেরা অবস্থায় ফিরে আসতে কাজ করে যাচ্ছি। এই বছরে আমার মাত্র তৃতীয় ম্যাচ এটি, মাত্র দ্বিতীয়বার পুরো ৯০ মিনিট খেললাম। শেষের দিকে একটু ক্র্যাম্পের মতো হয়েছিল, তবে বড় কিছু নয়, প্রক্রিয়ারই অংশ এটি।”
জোড়া গোলের ম্যাচটিতে অবশ্য আরেকটি উত্তেজনাময় মুহূর্তের কেন্দ্রেও ছিলেন নেইমার। ভাস্কোর ডিফেন্ডার চিয়াড়ো মেন্ডেসের সঙ্গে বেশ এক চোট লেগে গিয়েছিল তার। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে চলে যায় তা।
এই দুজনের মধ্যে ঝামেলা অনেক পুরোনো। ২০২০ সালে ফরাসি লিগের এক ম্যাচে মাঠে মেন্ডেসের চ্যালেঞ্জেই গুরুতর চোট পেয়ে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল নেইমারকে। তিনি তখন ছিলেন পিএসজিতে, মেন্ডেস লিওঁতে।
এবারের ঘটনার পর সেই অতীত টেনে আনলেন নেইমার।
“সে (মেন্ডেস) সবসময় ঝামেলা পাকায় এবং কঠিন আচরণ করে। পিএসজিতে থাকার সময় একবার সে আমার পা ভেঙেছে, আজকেও সেটির হুমকি দিয়েছে। সে সবসময়ই এরকম।”