Published : 15 Aug 2026, 06:49 PM
অপেক্ষায় প্রহর পেরিয়ে ফেনেরবাচেতে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত রোমেলু লুকাকু। তুরস্কের ক্লাবটির সমর্থকদের গোলের চেয়েও অনেক বেশি কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। বেলজিয়ান তারকা কয়েক মাসের মধ্যে তুর্কি ভাষা আয়ত্ত করতে চান। দেশটির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরলেন অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার।
ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি ছেড়ে গত বুধবার তুর্কি সুপার লিগের দলটিতে যোগ দেন লুকাকু। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোয় সফল গোলদাতা হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের বাইরে অসাধারণ ভাষাগত দক্ষতার জন্যও আলাদাভাবে পরিচিত তিনি।
৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার সাতটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন: ডাচ, ফরাসি, ইংরেজি, লিঙ্গালা, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান ও পর্তুগিজ। তুর্কি ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি। সতীর্থ, ক্লাব কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয় ভাষা আয়ত্ত করতে আগ্রহী।
শুক্রবার তাকে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ফেনেরবাচে। ক্লাবের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে দ্রুত তুর্কি ভাষা আয়ত্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান লুকাকু।
“আমার মনে হয়, আমি সোমবার ক্লাস শুরু করব। তুর্কি শিখতে চাই। আমি যে ক্লাবের হয়েই খেলেছি, সেখানকার মানুষদের সাথে কথা বলতে পারার ইচ্ছা আমার সবসময়ই ছিল। আশা করি, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আমি তুর্কি বলতে পারব। এটা সহজ হবে না, কিন্তু আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
২০২৪-২৫ মৌসুমে নাপোলির হয়ে সেরি আ শিরোপা জেতেন লুকাকু। গত মৌসুমে অবশ্য হতাশাজনক সময় কাটে তার। প্রাক-মৌসুমে পাওয়া পেশির গুরুতর চোটে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে কেবল ৬৪ মিনিট খেলতে পারেন তিনি।
তারপরও বিশ্বকাপের জন্য বেলজিয়াম দলে ডাক পান লুকাকু। কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা দলটির হয়ে তিনি গোল করেন তিনটি।
গত মাসে তার এজেন্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেন, নতুন মৌসুমে নাপোলিতে কোনো ব্যাক-আপ ভূমিকা গ্রহণ করবেন না লুকাকু। সব মিলিয়ে ক্লাবটিতে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দল বদল করতে পারায় স্বস্তির কথা জানালেন তিনি।
“আমি আসলে এক মাস ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এখানে আসতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার, যা আমি অনেকদিন ধরে চেয়েছি।”
তুরস্কের সাথে লুকাকুর এই আবেগঘন সম্পর্কের উৎস তার প্রয়াত বাবা রজার, যিনি গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে দেশটির ক্লাব ফুটবলে খেলেছিলেন।
“তিনি ১৯৯৬ সালে তুরস্কে খেলেছিলেন। এ কারণেই এই সুন্দর দেশটি আমার কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। সেই দিনগুলোর কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে আছে। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, আমি একজন পেশাদার ফুটবলার হতে চাই।
আমার ভাইও (জর্ডান) এখানে খেলেছে। তুরস্কে আমার বাবার শেষ গোলটি আসলে ফেনেরবাচের বিপক্ষেই ছিল। এর আগে তুরস্কে আমি একমাত্র যে ম্যাচটি খেলেছি, সেটিও এই স্টেডিয়ামেই ছিল। ফেনেরবাচের হয়ে খেলাটা আমার জন্য খুব প্রয়োজনীয় ছিল।"