০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বার্সেলোনা ও রেয়াল মাদ্রিদের মধ্যে যে পার্থক্য দেখছেন টনি ক্রুস

জার্মানির সাবেক এই মিডফিল্ডারের মতে, নির্ভয় ফুটবল খেলছে বার্সেলোনা, সেখানে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রবল রেয়াল মাদ্রিদের।

বার্সেলোনা ও রেয়াল মাদ্রিদের মধ্যে যে পার্থক্য দেখছেন টনি ক্রুস
বার্সেলোনার বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচ হারের পর বিধ্বস্ত রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 May 2025, 05:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:43 PM

সাড়ে ছয় মাসের মধ্যে চার ক্লাসিকোর চারটিতেই হার এবং খালি হাতে মৌসুম শেষ করার দ্বারপ্রান্তে রেয়াল মাদ্রিদ। এই সবকিছু একদিকে যেমন ফুটিয়ে তুলছে মাদ্রিদের দলটির ভঙ্গুর দশা, ঠিক তেমনি তাদের এলোমেলো অবস্থার বিপরীতে ফুটে উঠছে বার্সেলোনার বিধ্বংসী ও দাপুটে রূপ।

রেয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিং রুমের অন্দরবাহির জানেন এবং সেই তুলনায় দলটির বর্তমান অবস্থা কতটা নাজুক, তা সবচেয়ে যথার্থভাবে যে কয়জন ফুটিয়ে তুলতে পারবেন, তাদের একজন টনি ক্রুস। সাবেক এই জার্মান মিডফিল্ডারের মতে, রেয়ালের এখন আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রবল, সেখানে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা কোনোকিছুইতেই ভীত নয়।

মাঠে দুই দলের সম্পূর্ণ বিপরীতে চিত্র ফুটিয়ে তুলতে ক্রুসের উদাহরণ সবশেষ ক্লাসিকো। লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল রাখতে ম্যাচটি জিততেই হতো রেয়ালের। কিলিয়ান এমবাপের নৈপুণ্যে ১৪ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা; কিন্তু তারপরও ম্যাচের লাগাম হাতে নিতে পারেনি তারা। 

নিজের ভাইয়ের পডকাস্টে গত রোববারের ওই ম্যাচের পর্যালোচনায় ক্রুস জানান, রেয়াল এগিয়ে থাকার সময় তার অনুভূতি কী ছিল। তার ওই মন্তব্যের মাঝেও দুই দলের মধ্যে এখন যে বিস্তর ফারাক, সেটা ফুটে উঠছে।

“এমনকি রেয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময়ও আমার মনে (তাদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে) সন্দেহ ছিল। ম্যাচে এত দ্রুত এভাবে লিড নিতে পারাটা দুর্দান্ত ব্যাপার, দারুণ শুরু; কিন্তু এরপরও আমার মনে হয়নি যে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে আছি।”

সান্ত্রিয়াগো বের্নাবেউয়ে এক দশক কাটিয়ে এবং পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগাসহ অসংখ্য শিরোপা জয়ী ক্রুস এরপরই প্রশংসায় ভাসান বার্সেলোনাকে। গত বছর ফুটবলকে বিদায় জানানো জার্মান ফুটবলারের চোখে, হান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে বদলে যাওয়া দলটি যেভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ, বিশেষ করে ক্লাসিকোয় পিছিয়ে পড়ার পরও আধিপত্য করে, তা কোনোভাবেই চমক জাগানো কিছু নয়। 

“এই বার্সেলোনার এটাই সবচেয়ে চমৎকার একটা দিক। (২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ারও) তারা এমনভাবে খেলতে থাকল যেন কিছুই হয়নি। কেউ বলতে পারবে না যে তারা ভয় পাচ্ছে। বরং তুমি বলতে পারো, ২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পরও রেয়াল মাদ্রিদই হারের শঙ্কায় ছিল।”

“তারা (বার্সেলোনা) বল পায়ে বেশ স্বচ্ছন্দে ছিল। কিন্তু মাদ্রিদ আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে মাঠে নামতে পারেনি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল, এগিয়ে যাওয়ার পরও রেয়াল মাদ্রিদ এর সুবিধা নিতে পারেনি। এটা ছিল বিস্ময়কর।”

দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথমার্ধেই চার গোল করে জয়ের পথে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপে হ্যাটট্রিক পূরণ করলেও, ৪-৩ ব্যবধানে হারের হতাশায় মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল।

চলতি মৌসুমে রেয়ালের এতটা বিবর্ণতার অন্য কারণও অবশ্য আছে। পুরোটা মৌসুম জুড়েই চোট সমস্যা খুব ভুগিয়েছে তাদেরকে, সবচেয়ে বেশি রক্ষণভাগে। অধিকাংশ ম্যাচেই সেরা রক্ষণ পায়নি তারা। আবার অনেক ম্যাচে প্রথম পছন্দের ডিফেন্ডারদের কাউকেই পাননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। জোড়াতালি দিয়ে সাজাতে হয়েছে দল।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার ক্রুস এই কারণও তুলে ধরলেন।

“রক্ষণভাগের প্রায় পুরোটা ছাড়াই (অনেক ম্যাচ) খেলতে হয়েছে। রেয়াল মাদ্রিদের থেকে সবার প্রত্যাশা থাকে, তারা একেবারে নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলবে। আর সেটা করতে সেইসব খেলোয়াড় দরকার, যারা তা করতে পারে… একারণেই এই বছর সেরা দলগুলোর বিপক্ষে (রেয়ালের) লড়াই এতটা কঠিন হয়েছে।”

সবশেষ ক্লাসিকোয় হেরে বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। আসছে ম্যাচে বুধবার তারা মায়োর্কার বিপক্ষে জিততে ব্যর্থ হলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে কাতালান ক্লাবটি।

ঘরের মাঠে এই ম্যাচেও চোটের ছোবল জর্জরিত রেয়াল। ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগোসহ নিয়মিত স্কোয়াডের ৯ জন খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন কোচ আনচেলত্তি।