Published : 10 Sep 2026, 03:29 AM
শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে স্রেফ উড়িয়ে দিল পিএসজি। হ্যাটট্রিক করলেন বার্সেলোনা থেকে আসা ফেররান তরেস। স্প্যানিশ ক্লাবের আরেক সাবেক ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে জোড়া গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে রাখলেন অবদান। বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল লুইস এনরিকের দল।
ঘরের মাঠে বৃহস্পতিবার একপেশে লড়াইয়ে ৬-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। তাদের অন্য গোলটি করেছেন ফাবিয়া রুইস।
উয়েফা সুপার কাপ জিতে মৌসুম শুরু করা পিএসজি পরের ম্যাচে হেরে যায় ফরাসি সুপার কাপে। এরপর, লিগ আঁয় টানা দুই ম্যাচে ড্রয়ের পর হেরে যায় মোনাকোর বিপক্ষে! সব মিলিয়ে বেশ চাপে থাকা দলটি স্বরূপে ফিরল ইউরোপ সেরার মঞ্চে, যেখানে তারা শিরোপা জিতেছে সবশেষ দুই আসরে।
প্রথম মিনিট থেকেই ব্রাতিস্লাভাকে চেপে ধরে পিএসজি। দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। দ্রু ফের্নান্দেসের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সফরকারী গোলরক্ষক।
গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে পরের মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। তবে সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেওয়া এনরিকের দল এগিয়ে যায় ষোড়শ মিনিটে। নুনো মেন্দ্সের গতিময় শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরলে সুযোগ পান দেম্বেলে। ফিরতি বলে বাম পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।
পরের মিনিটেই আবার সুযোগ পান দেম্বেলে। এবার ডান পায়ের আড়াআড়ি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। মাহনেজ আক্লিউশের ক্রস ব্রাতিস্লাভার একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লাগলে বল পেয়ে যান ফরাসি তারকা। খুব কাছ থেকে হেডে বাকিটা সারেন তিনি। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
২৮তম মিনিটে গোলরক্ষকের চমৎকার সেভের পর একটুর জন্য বাঁকানো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তরেস।
৩১তম মিনিটে জালের দেখা পান গত বিশ্বকাপ ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা। দেম্বেলের ক্রসে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিট পর দারুণ সেভে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন ব্রাতিস্লাভা গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে তাকে পরাস্ত করতে পারলেও, একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড।
বিরতির পরপরই স্কোরলাইন ৪-০ করে ফেলেন তরেস। এই গোলে দারুণ অবদান আক্লিউশের। মাঝমাঠ থেকে দারুণ গতি ও পায়ের কারিকুরিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিজে শট না নিয়ে কাটব্যাক করেন তরেসকে। একটু জায়গা করে নিয়ে গতিময় শটে বাকিটা সারেন তিনি।
৫৫তম মিনিটে জালে বল পাঠান মেন্দ্স। তবে অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তরেস। দেম্বেলের কর্নারে পা অনেক উপরে তুলে হাঁটু দিয়ে শট নেন তিনি। খুব একটা জোর ছিল না, তবে গোলরক্ষক আগেই উল্টো দিকে সরে যাওয়ায় গোল ঠেকাতে পারেননি তিনি।
৫৮তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে চমৎকার গোলে ব্যবধান কমান সুলেমান কামারা। বাম দিক দিয়ে ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে দারুণ গতিতে ভেতরে ঢুকে গতিময় আড়আড়ি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
৬৪তম মিনিটে এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন পিএসজি কোচ এনরিকে। এরপর কমে যায় খেলার গতি।
৮৮তম মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন রুইস। ব্রাতিস্লাভার একজনের পায়ে বল লাগলে ডি-বক্সে পেয়ে যান অরক্ষিত মিডফিল্ডার। জোরাল শটে বাকিটা সারেন তিনি।
নাপোলিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু আর্সেনালের