০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘স্পেনে আমাকে কেউ সম্মান করে না’, ক্ষোভ উগরে দিলেন মোরাতা

জাতীয় দলের জার্সিতে এবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ হতে পারে শেষ টুর্নামেন্ট-এমন ইঙ্গিতও দিলেন স্পেন অধিনায়ক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2024, 07:45 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:11 PM

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে স্পেনের আর্মব্যান্ড তার বাহুতে। দলও দুর্বার গতিতে ছুটছে। অপেক্ষা এখন বার্লিনের ফাইনাল খেলার। এমন সময়ে স্পেন অধিনায়ক আলভারো মোরাতা উগরে দিলেন ক্ষোভ। স্পেনে কখনই প্রাপ্য সম্মান পাননি, হতাশাভরা কণ্ঠে করলেন এমন গুরুতর অভিযোগও।

মিউনিখে আগামী মঙ্গলবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনটি করে শিরোপা জয়ের রেকর্ড এবার নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে স্প্যানিশদের।

এবারের ইউরোতে এককথায় দুর্বার স্পেন। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের সুবাস মেখে সেরা চারে উঠে এসেছে তারা। অধিনায়ক হিসেবে মোরাতাও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে একবার পেয়েছিলেন জালের দেখা। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে ধারনা করা হচ্ছে, শুরুর একাদশে তাকে খেলাবেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

সামনে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ, কিন্তু মোরাতা পিছু ফিরে তাকালেন! রেয়াল মাদ্রিদ, ইউভেন্তুস, চেলসি-কোথাও সেভাবে থিতু হতে পারেননি। বর্তমানে খেলছেন লা লিগার দল আতলেতিকো মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ফুটবলপ্রেমীরাও কখনও ‘আপন’ করে নেয়নি তাকে, বরং দুয়ো দিয়েছে। এমনকি তার পরিবারকেও কটু কথা শোনাতে ছাড়েনি রেয়াল ও স্পেনের সমর্থকরা। মুন্দো দেপোর্তিভোর সঙ্গে আলাপচারিতায় এতদিনের জমানো ক্ষোভ উগরে দিলেন ‘দুর্ভাগা’ মোরাতা। 

“এটা হতে পারে স্পেনের হয়ে আমার শেষ টুর্নামেন্ট। এটা একটা সম্ভাবনা, (এ বিষয়ে) আমি খুব বেশি কথা বলতে চাই না, কিন্তু এই সম্ভাবনা আছে।”

“স্পেনে আমার সুখী হওয়া কঠিন। কোনো সন্দেহ নেই, স্পেনের বাইরে আমি সুখী। এটা আমি একাধিকবার বলেছি। সর্বোপরি, (বাইরের) লোকে আমাকে শ্রদ্ধা করে। স্পেনে কোনো কিছুর বা কারো প্রতিই কারো সম্মান নেই।”

জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা কোয়ার্টার-ফাইনালে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মোরাতা। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর টাচলাইনে কেঁদেছিলেন তিনি, কিন্তু এ নিয়েও বাঁকা কথা শুনতে হয়েছিল তাকে!

“সেদিন, লোকে বলল, আমি টাচলাইনে কাঁদছিলাম, কেননা, আমাকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছিল, তাই। কী নির্বোধের মতো কথা! আমি কাঁদছিলাম আমাদের দেশের জন্য, অধিনায়ক হিসেবে, আমার দেশ সেমি-ফাইনালে ওঠায়। এমন কারণে কেউ কাঁদলে আমি কখনই সমালোচনা করতাম না, কিন্তু আমি সমালোচিত হয়েছি, যেখানে ইউরো জয়ের জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।”

“আমি এই টুর্নামেন্ট উপভোগের চেষ্টা করছি, এ ম্যাচগুলো হতে পারে জাতীয় দলের হয়ে আমার শেষ এবং ভবিষ্যতে যা হবে, তা হবে। হয়ত, একদিন তারা আমাকে মিস করবে। প্রতিটি দিন বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে, এবং এ কারণে আমি উপভোগ করছি। এ কারণে আমি কেঁদেছি, ভালো বা মন্দ যা কিছুই সামনে আসবে, সেগুলো ভেবেই আমি কাঁদব।”

এই গ্রীষ্মেই আতলেতিকো ছেড়ে নতুন ঠিকানায় মোরাতার যাওয়া নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। এই ফরোয়ার্ডও মনস্থির করতে পারছেন না কী করবেন। তবে স্পেনে থেকে যাওয়ার আকাঙ্খাও তার কম নয়।

“এ কারণেই বিষয়গুলো নিয়ে আমি এখনও ভাবছি। যদিও আমার পুরো মনোযোগ এখন ইউরোতে। আমি জানি না, স্পেনে থেকে যাওয়াটা আমার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হবে কিনা…আমি বলেছি, আতলেতিকোর হয়ে শিরোপা জিততে আমি মরিয়া, কিন্তু লোকে যেটা বলছে, সেটা আমার প্রাপ্য কিনা, সেটাও তো পরিমাপ করতে হবে আমাকে।”

“পরিস্থিতির শিকার হওয়ার নাটক করছি, এমন অভিযোগ ওঠাতেও বিরক্ত আমি…। আমি শুধু চাই আমার শেষটা সম্ভাব্য সেরা উপায়ে করতে এবং এটা উপভোগ করতে। কেননা, জাতীয় দলের হয়ে এটাই হতে পারে আমার শেষ টুর্নামেন্ট।”