স্প্যানিশ ফুটবল
Published : 08 Oct 2024, 06:40 PM
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ক্লাব ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বার্সেলোনায়। খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে ওঠা, পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু, সবই এই ক্লাবে। কাম্প নউয়ে সাফল্যও পেয়েছেন মুঠো ভরে। সাবেক ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এই তারকার। ফুটবল থেকে অবসরের পর সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বলছেন, বার্সেলোনা গোটা জীবনটাই বদলে দিয়েছে তার।
১৯৯৬ সালে ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দেন ইনিয়েস্তা। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলের হয়ে পাঁচ বছর খেলার পর মূল দলে অভিষেক হয় ২০০২ সালে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচ দিয়ে।
এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। সময়ের সঙ্গে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ইনিয়েস্তা, লিওনেল মেসি, শাভি এর্নান্দেস, কার্লোস পুয়োল, জেরার্দ পিকে ও সের্হিও বুসকেতসদের নিয়ে দুর্দান্ত এক দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা। এক দশকের মধ্যে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৭টি লা লিগাসহ তারা জিতে নেয় অনেক ট্রফি।

বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে ইনিয়েস্তা খেলেন মোট ৬৭৪ ম্যাচ। ক্লাবটির হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন কেবল মেসি, শাভি ও বুসকেতস। ৫৭ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের ১৩৫ গোলে অবদান রেখেছেন ইনিয়েস্তা। উপহার দিয়েছেন জাদুকরি সব মুহূর্ত।
কাম্প নউয়ে সব মিলিয়ে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৯টি লা লিগা, ৬টি কোপা দেল রে, ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপসহ মোট ৩২টি শিরোপা জেতেন তিনি।
সেই ঠিকানা ছেড়ে ২০১৮ সালে যোগ দেন ভিসেল কোবেতে। জাপানের ক্লাবটিতে কাটান পাঁচ বছর। গত মৌসুম সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব এমিরেটসে খেলে সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় তিনি অবসরের ঘোষণা দেন ৪০ বছর বয়সে।

পরদিন বার্সেলোনায় এক অনুষ্ঠানে গোটা ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা, কোচ হান্সি ফ্লিক, শাভিসহ ক্লাবের আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
"এই চার জনের সঙ্গে এখানে থাকতে পেরে আমি ভাগ্যবান, যারা এই সফরে ছিল: আমার বাবা-মা, আমার দাদা এবং আমি। প্রায় ৩০ বছর পর খুব গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ মুহূর্তে আমরা এখানে এসেছি, দারুণ ব্যাপার। লা মাজিয়া আমাকে আজীবনের জন্য বদলে দিয়েছে। আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা নেই। আমার জন্য বার্সায় আসাটা একটা স্বপ্ন ছিল এবং আমি সেটা পূরণের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম। যা চেয়েছিলাম তার থেকে মনোযোগ কখনও সরাতে পারিনি।”
“যেমনটা আমি বলেছি, আমাদের জাতীয় দলের সেরা সময়ে আমি ছিলাম। আমি বার্সার সেরা সময়টাও মনে রাখতে চাই। আমরা অনেক মজা করেছি। আমরা যেভাবে আমাদের সময় কাটিয়েছি, তা ছিল জাদুকরি। বার্সা আমার জীবন বদলে দিয়েছে এবং বার্সাই আমার কাছে সবকিছু। এখানে (সতীর্থ হিসেবে পাওয়া) খেলোয়াড় ও কোচদের আমি ভুলতে পারব না।”